গল্প : বেয়াদব

,
প্রকাশিত : ২১ এপ্রিল, ২০২০     আপডেট : ৯ মাস আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মোহাম্মদ আব্দুল হক:

১) মেয়েটি বেয়াদব এবং অহংকারী। অহংকারের মূলে তার পরিবারে সে-ই সবচেয়ে বেশি পড়েছে এবং মনেমনে ধারণ করেছে, এত্তো বড়ো পাস কে কোন কালে দিতে পেরেছে! আর এ থেকেই সে অহংকারী হয়েছে। আর এটি তাকে মানুষ না করে বেয়াদব করেছে। তার দোষ ই বা ষোল আনা দিই কি করে। সে যে কেবল পাস করেছে অন্ধের হাতি দেখার মতো করে। শিখেনি তেমন কিছু তাই চক্ষু খোলেনি। তা নাহলে সেদিন এমন একটা কান্ড ঘটাতে পারতো? ভদ্র মহিলা যতোই বলছেন, আগে অভিজ্ঞতা অর্জন করো, তারপর ইচ্ছেমতো বলো, না হয় ফেঁসে যাবে নিজেই ; কিন্তু সে শুনলোনা। পরিণতি কি হলো? যা হবার তাই হলো। যাকে বলে কেঁচু খুঁড়তে সাপ। কেনোরে বাপু মুরুব্বির কথায় তুমি থামলে না। তাহলেতো এই যে সিনেমার বড়ো পর্দায় এতো এতো লোক তোমার আর তোমাদের পরিবার সম্পর্কে এতোটা জানতে পারতো না। সে পর্যন্ত সবাই বলাবলি করতে লাগলো, ছিঃ ছিঃ ছিঃ ‘চোরের মেয়ের বড়ো গলা।’ অবশ্য এমন কথা আমি আগে শুনিনি ; বরং ছোটোবেলা থেকে এই পঞ্চাশোর্ধ বয়সে শুনে এসেছি, ‘চোরের মায়ের বড়ো গলা।’ সে যাই হোক। আমি আপাতত দেখছি, আশেপাশে অনেকেই ঘুরঘুর করছেন এবং ভদ্র মহিলা ও তথাকথিত বেশি পাস দেয়া মেয়েটি চুপ করে আছে। এখন তবে আমিও যাই। কাজ শেষে আবার এসে বড়ো রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে দেখবো ওদের কি হলো। এমনি এমনি দেখিনা। নিজের যন্ত্রনা ভুলতে অন্যকে দেখি। আমার কথা নাহয় সবাই নাই বা জানলো। এক শিক্ষিত পোশাকি ভদ্রলোককে বিশ্বাস করে ঠকেছি দারুনভাবে। এমন ধূরন্ধর এক লোককে বিশ্বাস করায় আত্মীয় স্বজন অনেকে এখন আমাকে বোকা এবং নির্বোধ বলে। লোকটি এখন আর আমার সাথে সম্পর্কই স্বীকার করেনা। অভিশপ্ত কারবারি চারিদিকে। আল্লাহ ভরসা।

২) হ্যাঁ, প্রায় পাঁচ ঘন্টা পরে আমি আবার এই পথ দিয়েই যাচ্ছি। আসলে এতোক্ষণ নিজের কাজে ডুবে ছিলাম।। তাই ভুলেই ছিলাম ঠিক এখানেই সকালবেলা এক ভদ্র মহিলা একটি মেয়েকে যতো ভালো উপদেশ দিচ্ছিলেন ; কিন্তু মেয়েটি ততোধিক ফুঁশে দারুন দেমাকে কথা বলে যাচ্ছিলো। এখন দেখতে পাচ্ছি মেয়েটি রাস্তার ধারে তার বাড়ির বারান্দায় দাঁড়িয়ে উঁকি দিচ্ছে। যেহেতু আমি আশেপাশেই চলি, তাই খুব চিনি। ভদ্র মহিলা থাকেন এখান থেকে সোজা একশ মিটার গিয়ে ডানের গলির প্রথম বাড়িতে। তিনি নিতান্ত ভালো মানুষ। তাঁর সাথে ওই মেয়ের মা-বাবার আর্থিক লেনদেন বিষয়ে অনেক দিন যাবৎ ঝামেলা চলছে। নেয়েটির মায়ের সাথে ভদ্র মহিলার দীর্ঘ দিনের বন্ধুত্ব। সেই সুযোগে ব্যবসার কথা বলে টাকা এনেছিলো। এরপর থেকেই পিছুটান দেয় তারা। বিগত কয়েক বছরে ভদ্র মহিলা ওদের সাথে অনেকবার কথা বলেছেন। অথচ ওরা তা হজম করে বসে আছে আর নানান তালবাহানা করছে। এমনকি ওরা ভদ্র মহিলার সুখের সংসারে ভাঙন ধরাতে উঠেপড়ে লেগেছে। স্বার্থের প্রয়োজনে ওরা যে অন্যের পরিবারে অশান্তির আগুন জ্বালাতে পরিপক্ব তা এ তল্লাটের সকলের জানা হয়ে গেছে। বেশ কিছুদিন হয় মেয়েকে ঠেলে সামনে দিয়েছে আর আড়ালে থেকে নাটাই ঘুরাচ্ছে। আমি বেশ বুঝতে পারছি আশেপাশের অনেকেই যথেষ্ট উৎসুক। তবে আমি আর দাঁড়াতে পারছিনা। যেতে হবে আপনের কাছে। এক স্মোথ ক্রিমিনালের বুদ্ধিতে আমার বন্ধু আপন বাড়ি, গাড়ি, টাকা সব হারিয়ে এখন নিঃস্ব। আপন ওই ক্রিমিনালকে ফোন দিলে ধরেনা। থাকে অনেক দূরে ব্যস্ত শহরের ভিরে। আসলে ওইসব বহুরূপীদের খপ্পরে সরলা আর সরলপ্রাণ মানুষদের কষ্ট বাড়ে বহুগুণ। আমিও কি কম বেড়াজালে আছি নাকি। ওই আপনের আপনতো আমিও।

৩) গতকাল দুয়েক জায়গা ঘুরেছি একটা কাজ যদি জুটে। এদিকে এক সরকারি অফিসে কিছু কাগজ সাপ্লাই দিয়েছিলাম গতমাসে। আজও বিল পেমেন্ট করেনি। রোজই বলে কাল আসেন। আজও একই কথা বলে ফিরিয়ে দিলো। এখন পড়ন্ত বেলা। হাঁটতে হাঁটতে বড়ো রাস্তার ধারে। ক্লান্ত শরীর আর চলেনা। কয়েকটি দিন প্রচন্ড গরম গেছে। আজ আকাশে মেঘ জমেছে। হয়তো ঝর বৃষ্টি হতে পারে। তাই হোক। খলিফা হযরত ওমরের সত্য তেজে বজ্রপাত হোক। খুব জোরে বৃষ্টি নামুক। একটু শীতলতা আসুক নেমে মানুষের রুক্ষ শুষ্ক দেহে মনে। নতুন যুগে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নতুন মানুষদের অনেকেই যেনো কেমন অস্থির। আমি যে কাজে গেলাম , তা আজও হলোনা। টাকা ঘুষ দিতে হবে, নাহলে তিনি সিগনেচার দিবেন না। বেয়াদব একটা চাকরিজীবী। তাই বলি হাজার কিলোমিটার বেগে একটা তুফান আসুক। আসুক প্রচন্ড ঝর বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের চেতনায়, আসুক ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিনের ক্ষিপ্র গতিতে। সবখানে দুর্বৃত্ত, দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর, সন্ত্রাস আর মিথ্যা মেঘপুঞ্জ। এমন আবহাওয়া আর ভালো লাগেনা।।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

গোলাপগঞ্জ থেকে ১৬ দিন যাবৎ এক ব্যক্তি নিখোঁজ

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক : সিলেট...

বৃহত্তর জৈন্তিয়ায় গ্যাসের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক বৃহত্তর জৈন্তিয়ার...