গবেষক কবি মুসা আল হাফিজকে নিয়ে লেখক চিন্তকদের সুহৃদ সমাবেশ

Alternative Text
,
প্রকাশিত : ২০ এপ্রিল, ২০১৯     আপডেট : ২ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

হৃদয় সরোবরে ঝংকার তুলে সিলেটে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো লেখক- চিন্তকদের সুহৃদ সমাবেশ। বাংলা সাহিত্যের দরবেশ কবি গবেষক মাওলানা মুসা আল হাফিজকে নিয়ে সুহৃদ সমাবেশের আয়োজন করে চিন্তকদের প্রতিশ্রুতিশীল সংগঠন চিন্তাধারা, সিলেট। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিলেট নগরীর উপশহরস্থ দারুল আজহার মাদরাসায় প্রিন্সিপাল মাওলানা মনজুরে মাওলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সুহৃদ সমাবেশে সিলেটের তরুণ চিন্তক আলেম, লেখক, সাংবাদিক, কবিসহ গুণী ব্যক্তিবর্গ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। অনুভূতি ব্যক্তকালে সিলেটের গুণীব্যক্তিবর্গের কণ্ঠে উচ্চারিত হলো আবেগ, ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও আশাবাদের কথা। বক্তব্যে সমাজ আলোকিত করার প্রত্যয়ে উজ্জীবিত একটি চিন্তাস্ফুলিঙ্গের নাম মুসা আল হাফিজ উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, মুসা আল হাফিজ শুধু সিলেটের নয়, মুসলিম উম্মাহর মূল্যবান সম্পদ। মানবতা ও দেশের কল্যাণ তথা ইসলামের খেদমতে তিনি আরো গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন বক্তারা। এসময় মুসা আল হাফিজকে দেশ ও জাতির কল্যাণে দায়বদ্ধতার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন বক্তারা।
সমাবেশে আলোচনায় অংশ নেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, হবিগঞ্জ-এর উপ-পরিচালক মাওলানা শাহ নজরুল ইসলাম, ইসলামী চিন্তাবিদ, রাজনীতিবিদ মাওলানা খলিলুর রহমান, বানিয়াচং সিনিয়র মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আবদাল খান। মাওলানা শাহ নজরুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, একটি জাতির জীবনে নানা ক্রান্তিকাল আসে। সংকট উত্তরণে ভূমিকা রাখেন অগ্রসর চিন্তানায়করা। ইসলামের ইতিহাসে এমন চিন্তানায়ক, সংস্কারক ও বিপ্লবী মনীষাদের সমহার রয়েছে। বতর্মান বাস্তবতায় বাস্তব জীবনাচারের পাশাপাশি চিন্তা- চেতনা ও জ্ঞান-গবেষণায় ইসলামের আলো ও প্রাণশক্তিকে ছড়িয়ে দেয়া ও ধারণ করা একান্তই অপরিহার্য। মুসা আল হাফিজ এ অপরিহার্যতা পূরণে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বহু বছর আমি তাকে একেবারে কাছ থেকে দেখেছি। তাকে আমি যতটা জানি, অনেকেই ততটা জানার সুযোগ পাননি। তার মধ্যে একদিকে শাহ ওয়ালি উল্লাহ দেহলভি রহ, এর চিন্তার প্রতিচ্ছবি আমি দেখতে পাই, অন্যদিকে রেনেসার কবি ফররুখ আহমদের মতই তিনি শক্তিমান ও জাতীয় চেতনার এক দীপ্ত মশাল-কবি। আধ্যাত্মিক চেতনা ও সাধনায় আমি তাকে সায়্যিদ আহমদ শহিদ রহ এর অনুসারি মনে করি। যেভাবে তিনি একজন যোগ্য ও দক্ষ আলেম, তেমনি একজন দরদী চিন্তাবিদ। আমি তাকে সিলেট বা বাংলাদেশের গ-িতে আবদ্ধ মনে করি না। মুসলিম মিল্লাতের তরুণদের জন্য তিনি এক আলোকবর্তিকা। অধ্যক্ষ আবদাল খান বলেন, একজন গবেষক বা দার্শনিক হিসেবে মুসা আল হাফিজ আমাদেরকে উপহার দিচ্ছেন চিন্তা ও চেতনার আগুন। সে আগুন ধারণ না কওে আমরা যদি নিছক তাকে ভালোবাসি, এ ভালোবাসার মূল্য কী? আমাদের উচিত তার চিন্তা ও ভাবধারাকে শিক্ষিত মহলে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেয়া। তাকে
নিবিড়ভাবে অধ্যয়ন ও অবলম্বন করা। এ কাজে প্রধানত মেধাবী তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। মাওলানা খলিলুর রহমান বলেন, মুসা আল হাফিজ সিলেটে জন্মেছেন বলেই তিনি সিলেটের নন। গোটা দেশবাসীর কাছে তিনি বরেণ্য। তিনি কাজের পরিধিকে বহুদূর নিয়ে গেছেন। তবে সিলেটবাসীর বিশেষ প্রত্যাশা ও দাবি রয়েছে তার কাছে। তিনি যেন সিলেটের মেধা ও প্রতিভা সমূহের বিকাশে বিশেষভাবে নজর রাখেন। এখানে একটি উন্নতমানের গবেষণাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি যেনো মনোযগি হন। আমরা সবকিছু দিয়ে তার পাশে থাকবো।
প্রাবন্ধিক কবি সাংবাদিক শাহিদ হাতিমীর সঞ্চালনায় সমাবেশে অনুভূতি ব্যক্ত করেন মা’হাদিশ শাইখ আবু হানিফা রহ.এর পরিচালক মাওলানা মোস্তফা সোহাইল হিলালী, বিশিষ্ট আলেম মাওলানা উনাইস আহমদ বরকতপুরী, শায়খুল ইসলাম ইন্টারন্যশনাল জামেয়ার প্রিন্সিপাল মাওলানা সালিম কাসিমী, সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের সাবেক চীফ ফার্মাসিস্ট ডা. ফয়জুল হক, জামিয়া নাজাতুল উম্মাহর প্রিন্সিপাল মাওলানা তোফায়েল উসমানী,জালালাবাদ ইন্টারন্যশনাল মাদরাসার শিক্ষক লেখক-কলামিস্ট মাজহারুল ইসলাম জয়নাল, লেখক সংগঠক মাওলানা কায়সান মাহমুদ আকবরী,কবি ও লেখক কমরেড সালেহ, কবি সাংবাদিক, প্রাবন্ধিক মো. আব্দুল বাছিত, কবি সমালোচক জাকারিয়া প্রীণন, দৈনিক শুভ প্রতিদিন-এর বিভাগীয় সম্পাদক রাসেল মাহফুজ, দারুল আজহারের শিক্ষক আজাদ রহমান ও বাহাউদ্দিন আরমান প্রমুখ।
সমাবেশে চিন্তা চেতনার যে নতুন পাঠ ও ভাবধারার উচ্ছাস জেগেছিলো, তা বহু দিন সিলেটের মননশীল মানুষকে প্রেরণা যোগাবে।
চিন্তাধারা সিলেটের এ আয়োজন থেকে যে পয়গাম ছড়ানো হলো, তরুণ লেখক ও চেতনার সৈনিকরা একে বহন করে এগিয়ে যাবেন বলে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন। অনুষ্ঠানের মধ্যমণি কবি- দার্শনিক মুসা আল হাফিজ বলেন, মানুষ সুস্থ চিন্তা করে, এটা তার মহিমার অন্যতম ভিত্তি। দার্শনিকদেন অনেকেই বলেছেন, চিন্তাই তাদের জীবন, চিন্তা করি,তাই বেঁচে থাকি। কিন্তু আমার কাছে চিন্তাই সবকিছু নয়। যথার্থ চিন্তা ও যথোচিত কর্মেও মোহন সমন্বয় আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ভালো চিন্তা ও ভালো কাজ কওে যাওয়াটাই শেষ কথা নয়। একজন মানুষ তখনই বড়, যখন তিনি তার জাতি ও সমাজকে নিয়ে বড়। তার জীবন ও কাজ তার চারপাশকে,সমাজ ও জাতিগোষ্ঠীকে যখন বড় পরিবর্তনের জন্য কোনো না কোনোভাবে প্রস্তুত করে, তখনই তিনি সত্যিকার অর্থে বড়। কিন্তু মনে রাখতে হবে, একটি জনগোষ্ঠীর জাগরণ ও পরিবর্তন কোনো একজন বা কয়েকজনকে দিয়ে হয় না। সে জন্য প্রয়োজন, একটি প্রজন্মের জ্বলে উঠা। একটি জীবনালোকের উত্থান। আমি সেই উত্থানের পেছনে নিজেকে নিবেদন করতে চাই।অনুষ্ঠান শেষে আগত অতিথিদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন অনুষ্ঠানের সভাপতি মনজুরে মাওলা।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

দক্ষিণ সুরমায় রাস্তার পাশ থেকে বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার

         সিলেটের দক্ষিণ সুরমার ধোপাঘাটে রাস্তা...

সিলেট মেট্রোপলিটন কিন্ডার গার্টেন বার্ষিক ফল প্রকাশ ও পুরস্কার বিতরন

         আব্দুস সোবহান ইমন : সিলেট মেট্রোপলিটন...

যুবদল নেতা কামরুল হাসান শাহীন কারাগারে

         সিলেট জেলা যুবদল নেতা, জেলা...