গণধর্ষণ মামলার এজাহারে যা উল্লেখ রয়েছে-

Alternative Text
,
প্রকাশিত : ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০     আপডেট : ১ মাস আগে
  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    3
    Shares

সিলেটএক্সপ্রেস সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গত শুক্রবার রাতে গণধর্ষণকারীরা তরুণীর স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়। আসামীরা এ দম্পতির প্রাইভেট কার তাদের হেফাজতে রেখে তাদেরকে চলে যেতে বলে। শনিবার শাহপরান থানায় ভিকটিমের স্বামীর দায়ের করা মামলায় এ তথ্য উল্লেখ করা হয়। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ নয়জনকে আসামী করা হয়েছে।
নাম উল্লেখ করা ছয় আসামি হল-সাইফুর রহমান (২৮), তারেকুল ইসলাম (২৮), শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি (২৫), অর্জুন লঙ্কর (২৫), রবিউল ইসলাম (২৫) ও মাহফুজুর রহমান ওরফে মাসুম (২৫)। তারা ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত।
মামলার এজাহার। লিখিত এজাহারে নির্যাতিত গৃহবধূর স্বামী উল্লেখ করেন, গত ২৫ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টার দিকে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে প্রাইভেট কারে (রেজিঃ নং ঢাকা মেট্রো-ভ-০২-১৩৬২) হযরত শাহপরাণ (রহঃ) মাজারে যান। মাজার জিয়ারত শেষে সন্ধ্যা অনুমান ৭ টা ৪৫ মিনিটে এমসি কলেজ এর মূল গেইটের সামনে এসে গাড়ি থামিয়ে পাকা রাস্তার উপর গাড়ী রেখে সিগারেট কেনার জন্য গাড়ী হতে নামামাত্রই আসামীরা তার স্ত্রীকে নিয়ে বাজে মন্তব্য (উত্ত্যক্ত) শুরু করে। তিনি প্রতিবাদ করলে সাথে সাথে ১ নম্বর আসামী সাইফুর রহমান ও ৪ নম্বর আসামী অর্জুন লস্কর তাকে চড়-থাপ্পড় মারে। তখন তার স্ত্রীও গাড়ী থেকে নেমে প্রতিবাদ করলে উপস্থিত সকল আসামী তার স্ত্রীকে ধমক দিয়ে স্বামী-স্ত্রীকে ওই গাড়ীতে উঠতে বলে। এ সময় ২ নম্বর আসামী তারেকুল ইসলাম তারেক প্রাইভেটকারের ড্রাইভিং সিটে বসে। তিনি ও তার স্ত্রী গাড়ীর পিছনের সিটে উঠলে তার স্ত্রীর পাশে ১ নম্বর আসামী সাইফুর রহমান ও ৪ নম্বর আসামী অর্জুন লস্কর বসে। ৩ নম্বর আসামী শাহ মোঃ মাহবুবুর রহমান রনি গাড়ীর ড্রাইভারের পাশের সামনের সিটে বসে। ২ নম্বর আসামী তারেকুল ইসলাম তারেক গাড়ী চালিয়ে এমসি কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণের ভিতর ৭ নম্বর ব্লকের ৫ তলা বিশিষ্ট নতুন বিল্ডিং এর সামনে দক্ষিণ-পূর্ব কোণে খালি জায়গায় দাড় করায়। অন্য আসামীরা মোটরসাইকেল যোগে পিছনে পিছনে পৌঁছায়। তখন ২ নম্বর আসামী তারেকুল ইসলাম তারেক তার মানিব্যাগ থেকে ২০০০ টাকা নেয়। ৩ নম্বর আসামী শাহ মাহবুবুর রহমান রনি তার স্ত্রীর কানে থাকা ১ জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, ওজন অনুমান ১২ আনা, মূল্য অনুমান ৪৪,০০০ টাকা, ৪ নম্বর আসামী অর্জুন লস্কর তার স্ত্রীর গলায় থাকা ১টি স্বর্ণের চেইন, ওজন অনুমান ৬ আনা, মূল্য অনুমান ২১,০০০ টাকা নিয়ে যায় । এ সময় তার স্ত্রী চিৎকার করতে চেষ্টা করলে তারা স্ত্রীর মুখ চেপে ধরে। স্ত্রীকে গাড়ীতে রেখে ১, ২, ৩ ও ৪ নম্বর আসামী তাকে গাড়ী হতে নামিয়ে এমসি কলেজ হোস্টেলের ৭ নম্বর ব্লকের ৫ তলা বিশিষ্ট নতুন বিল্ডিং এর সামনে পশ্চিম পাশে নিয়ে যায়। রাত অনুমান ৮টায় তাকে উপরোল্লিখিত আসামীদের সাথে কথা বলায় ব্যস্ত রেখে প্রথমে ১ নম্বর আসামী সাইফুর রহমান পরে ক্রমান্বয়ে ২ নম্বর আসামী তারেকুল ইসলাম তারেক, ৩ নম্বর আসামী শাহ মোঃ মাহবুবুর রহমান রনি ও ৪ নম্বর আসামী অর্জুন লস্কর প্রাইভেট কারের ভিতরে পর্যায়ক্রমে তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করে। এ সময় তিনি স্ত্রীর চিৎকার শুনে বাঁচতে চাইলে অন্য আসামীরা তাকে চড় থাপ্পড় মেরে আটকে রাখে। অনুমান আধা ঘণ্টা পর তার স্ত্রী কাঁদতে কাঁদতে তার নিকট আসলে আসামীরা তাকে প্রাইভেটকার রেখে স্ত্রীকে নিয়ে চলে যেতে বলে এবং ৫০০০০ টাকা চাঁদা দিয়ে তাদের নিকট হতে গাড়ী নিতে বলে। তিনি তখন স্ত্রীকে নিয়ে পায়ে হেঁটে এমসি কলেজ হোস্টেল গেইটে এসে সিএনজি অটোরিক্সাতে করে টিলাগড় পয়েন্টে আসেন এবং পুলিশে সংবাদ দেন। তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করার সময় ৭ নম্বর ব্লকের ৫ম তলা বিল্ডিং এর ২য় তলার বারান্দায় একটি ছেলে এসে দাঁড়ালে আসামীরা তাকে চলে যেতে বলে। তিনি পুলিশের সহায়তায় এমসি কলেজ হোস্টেলের ৭নম্বর ব্লকের কাছে তার গাড়ী পুলিশকে দেখান এবং ওই বিল্ডিং এর ২য় তলার ছেলেটিকে শনাক্ত করলে সে তার নাম হৃদয় পারভেজ বলে জানায় । হৃদয় পারভেজ উপস্থিত সকলের সামনে জানায়, সে যখন বারান্দায় বের হয়েছিলো-তখন তার রুমমেট ৩ নম্বর আসামী শাহ মোঃ মাহবুবুর রহমান রনি তাকে চলে যেতে বলেছিল। এ সময় হোস্টেলের অন্য ছাত্ররা শাহ মোঃ মাহবুবুর রহমান রনিসহ তার সহযোগী অনেকের ছবি দেখালে তিনি ও তার স্ত্রী উল্লেখিত আসামীদেরকে শনাক্ত করেন এবং ওই সকল ছাত্রদের নিকট হতে তাদের নাম ঠিকানা জানতে পারেন। পুলিশ ঘটনাস্থল হতে প্রাইভেটকারসহ আসামীদের ফেলে যাওয়া একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে। পরে পুলিশের সহায়তায় তিনি স্ত্রীকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি)-এ ভর্তি করেন।
বাদীর টাইপকৃত এজাহারটি এসএমপি’র শাহপরান থানায় ধারা ৩৪২/৩২৩/৩৭৯/৩৮৫/৩৪ পেনাল কোড তৎসহ ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন(সংশোধিত ২০০৩) এর ৯(৩) অনুযায়ী রুজু করা হয়। শাহপরান থানার ওসি (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য মামলাটি তদন্ত করছেন।


  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    3
    Shares

পরবর্তী খবর পড়ুন : পাপের সদর দপ্তর ২০৫

আরও পড়ুন

ড্যান কেক ডেজার্ট জিনিয়াস বাছাইপর্ব অনুষ্ঠিত

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: ডেজার্ট তৈরির...

লিডিং ইউনিভার্সিটির ইফতার মাহফিল

         লিডিং ইউনিভার্সিটির ইংরেজী বিভাগের ইফতার...

২৭ টি ওয়ার্ডে মতবিনিময় করবে মহানগর আওয়ামী লীগ

          সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের...

ছোট গল্প- সুবোধ

         জিন্নিয়া সুলতানা: রোজ রোজ অশান্তি...