খসে পড়ছে ঢালাই ॥ অভিভাবকহীন সিলেটের দীর্ঘতম ‘ধলাই সেতু’!

প্রকাশিত : ০৩ জুলাই, ২০২০     আপডেট : ১ মাস আগে

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ধলাই নদীর ওপর নির্মিত সিলেট বিভাগের দীর্ঘতম সেতু ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সেতুর মধ্যবর্তী একটি অংশে ঢালাই খসে পড়ে রড বেরিয়ে পড়েছে। উভয় দিকের কয়েকটি স্থানে রেলিং ভেঙ্গে গেছে। দুই পাশের অ্যাপ্রোচ সড়কও ভেঙে পড়ছে। আর এর ওপর দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন।
অবশ্য সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) প্রকৌশল বিভাগ সেতুর এ অবস্থার জন্য পাথরবাহী ট্রাক চলাচলকে দায়ী করেছেন। তবে স্থানীয় লোকজন জানান, উদ্বোধনের পর থেকে সেতুটি যথাযথভাবে দেখভাল হয়নি। সেতুটির মালিকানা নিয়ে সওজ-এলজিইডির রশি টানাটানিতে দীর্ঘদিন সংস্কার হয়নি সেতু।
সওজ সূত্র জানায়, ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারির পাশের ধলাই নদের উভয় তীরের মানুষের যাতায়াতের জন্য ২০০৩ সালে সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ১২ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রায় ৪৩৪ দশমিক ৩৫ মিটার দীর্ঘ ও ৯ দশমিক ৫ মিটার প্রস্থের সেতুটি সিলেট বিভাগের দীর্ঘতম। টানা তিন বছর কাজ চলার পর সেতুটি ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। সেতুর স্থায়িত্ব ধরা হয় ৭৫ বছর। ওই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমান সেতুর উদ্বোধন করেন। সেতুটি প্রকল্পে ‘ধলাই সেতু’ নামে উল্লেখ থাকলেও উদ্বোধনকালে নামকরণ করা হয় ‘এম সাইফুর রহমান সেতু’ নামে। পরে সেতুর কর্তৃত্ব এলজিইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সেতু নির্মিত হওয়ায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পূর্ব ইসলামপুর, উত্তর রণিখাই ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রামের ৩০ সহ¯্রাধিক মানুষ সরাসরি সড়ক যোগাযোগের আওতায় আসে। পাশাপাশি দেশের সর্ববৃহৎ ভোলাগঞ্জ কোয়ারি থেকে পাথর পরিবহন সহজতর হয়।
এদিকে, ২০১৪ সালে ধলাই সেতুর বিভিন্ন ত্রুটি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ধলাই সেতু পরিদর্শন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সেতুর ঝুঁকিপূর্ণ দিক খতিয়ে দেখে ঝুঁকি কাটাতে অচিরেই ত্রুটি সারানোর কাজ শুরু করার নির্দেশ প্রদান করেন। এরপর সওজের উদ্যোগে ধলাই সেতুর ত্রুটি সারানোর প্রায় ৭ বছর অতিবাহিত হলেও আর সেতুর আর মেরামত হয়নি।
গত মঙ্গলবার সেতু এলাকায় গিয়ে জানা গেছে, সেতুর মধ্যবর্তী একটি স্থানের ঢালাই ভেঙ্গে গিয়ে রড বেরিয়ে পড়েছে। উভয় দিকের কয়েকটি স্থানের রেলিং ভেঙ্গে গেছে। বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলোও হেলে পড়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় দুই পাশের অ্যাপ্রোচ সড়কও ভেঙ্গে পড়েছে। অ্যাপ্রোচ সড়কের মাটি সরে গিয়ে ঢালাই ভেঙে খালে পরিণত হয়েছে।
ধলাই নদে পাহাড়ি ঢলের পানি নেমেছে প্রায় এক সপ্তাহ হলো। ঢল নামার পরপরই সেতুর পূর্ব পাশের অ্যাপ্রোচ সড়কের নিচের কিছু ব্লক সরে যেতে দেখা গেছে। পাথরবাহী ট্রাক-ট্রাক্টর সেতু দিয়ে চলাচল করলে সেতুর মধ্যবর্তী অংশ থর থর করে কাঁপে। সেতুর এই ভগ্নদশার কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ বাবুল মিয়া জানান, উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের অর্ধ লক্ষ মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করেছে এই ধলাই সেতু। এই সেতু দিয়েই পূর্ব ও উত্তর রনিখাই ইউনিয়নের মানুষকে যাতায়াত করতে হয়। পাশাপাশি ধলাই নদের পূর্বপাড়ের ব্যবসা-বাণিজ্য সচল রেখেছে এই সেতু। তিনি দ্রুত সড়কটির ত্রুটি সারিয়ে তোলার দাবি জানান। উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক হাজী মোঃ আলাউদ্দিন জানান, ভারী যানবাহন চলাচল করায় দিন দিন সেতুটি নড়েবড়ে হয়ে গেছে। এই সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে না। বর্তমানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষ ও গাড়ি পারাপার করছে।
ইসলামপুর পশ্চিম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, শিগগিরই সেতুর মেরামত কাজ না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তিনি স্থানীয় সাংসদ ইমরান আহমদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
উপজেলা চেয়ারম্যান শামীম আহমদ বলেন, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চালকরা গাড়ি পারাপার করছে। বড় ধরনের দুর্ঘটনা রোধে দ্রুত সেতুটি সংস্কার করা প্রয়োজন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমন আচার্য জানান, এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে কথা বলেছেন তিনি এবং নির্বাহী প্রকৌশলী গতকাল বৃহস্পতিবার সেতু পরিদর্শন করেছেন।
সওজ-এর নির্বাহী প্রকৌশলী রিতেশ বড়–য়া জানান, ওই ব্রিজ দিয়ে পাথরবাহী ভারী যানবাহন চলাচল করায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। সেতুর ভেঙ্গে যাওয়া অংশ দিয়ে যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ না হলেও তারা আপাতত সেখানে স্টিল ডেক বসিয়ে দেবেন। এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, যে কোন সেতুর মূলত বাম সাইডে ভাঙ্গে। এ সেতুটিও বাম সাইডে ভেঙ্গেছে বলে জানান তিনি।
খসে পড়ছে ঢালাই ॥ ভেঙ্গে পড়ছে দুই পাশের অ্যাপ্রোচ সড়কও
অভিভাবকহীন সিলেটের দীর্ঘতম ‘ধলাই সেতু’!

সূত্র:- সিলেটের ডাক। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ধলাই নদীর ওপর নির্মিত সিলেট বিভাগের দীর্ঘতম সেতু ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সেতুর মধ্যবর্তী একটি অংশে ঢালাই খসে পড়ে রড বেরিয়ে পড়েছে। উভয় দিকের কয়েকটি স্থানে রেলিং ভেঙ্গে গেছে। দুই পাশের অ্যাপ্রোচ সড়কও ভেঙে পড়ছে। আর এর ওপর দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন।
অবশ্য সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) প্রকৌশল বিভাগ সেতুর এ অবস্থার জন্য পাথরবাহী ট্রাক চলাচলকে দায়ী করেছেন। তবে স্থানীয় লোকজন জানান, উদ্বোধনের পর থেকে সেতুটি যথাযথভাবে দেখভাল হয়নি। সেতুটির মালিকানা নিয়ে সওজ-এলজিইডির রশি টানাটানিতে দীর্ঘদিন সংস্কার হয়নি সেতু।
সওজ সূত্র জানায়, ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারির পাশের ধলাই নদের উভয় তীরের মানুষের যাতায়াতের জন্য ২০০৩ সালে সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ১২ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রায় ৪৩৪ দশমিক ৩৫ মিটার দীর্ঘ ও ৯ দশমিক ৫ মিটার প্রস্থের সেতুটি সিলেট বিভাগের দীর্ঘতম। টানা তিন বছর কাজ চলার পর সেতুটি ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। সেতুর স্থায়িত্ব ধরা হয় ৭৫ বছর। ওই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমান সেতুর উদ্বোধন করেন। সেতুটি প্রকল্পে ‘ধলাই সেতু’ নামে উল্লেখ থাকলেও উদ্বোধনকালে নামকরণ করা হয় ‘এম সাইফুর রহমান সেতু’ নামে। পরে সেতুর কর্তৃত্ব এলজিইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সেতু নির্মিত হওয়ায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পূর্ব ইসলামপুর, উত্তর রণিখাই ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রামের ৩০ সহ¯্রাধিক মানুষ সরাসরি সড়ক যোগাযোগের আওতায় আসে। পাশাপাশি দেশের সর্ববৃহৎ ভোলাগঞ্জ কোয়ারি থেকে পাথর পরিবহন সহজতর হয়।
এদিকে, ২০১৪ সালে ধলাই সেতুর বিভিন্ন ত্রুটি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ধলাই সেতু পরিদর্শন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সেতুর ঝুঁকিপূর্ণ দিক খতিয়ে দেখে ঝুঁকি কাটাতে অচিরেই ত্রুটি সারানোর কাজ শুরু করার নির্দেশ প্রদান করেন। এরপর সওজের উদ্যোগে ধলাই সেতুর ত্রুটি সারানোর প্রায় ৭ বছর অতিবাহিত হলেও আর সেতুর আর মেরামত হয়নি।
গত মঙ্গলবার সেতু এলাকায় গিয়ে জানা গেছে, সেতুর মধ্যবর্তী একটি স্থানের ঢালাই ভেঙ্গে গিয়ে রড বেরিয়ে পড়েছে। উভয় দিকের কয়েকটি স্থানের রেলিং ভেঙ্গে গেছে। বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলোও হেলে পড়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় দুই পাশের অ্যাপ্রোচ সড়কও ভেঙ্গে পড়েছে। অ্যাপ্রোচ সড়কের মাটি সরে গিয়ে ঢালাই ভেঙে খালে পরিণত হয়েছে।
ধলাই নদে পাহাড়ি ঢলের পানি নেমেছে প্রায় এক সপ্তাহ হলো। ঢল নামার পরপরই সেতুর পূর্ব পাশের অ্যাপ্রোচ সড়কের নিচের কিছু ব্লক সরে যেতে দেখা গেছে। পাথরবাহী ট্রাক-ট্রাক্টর সেতু দিয়ে চলাচল করলে সেতুর মধ্যবর্তী অংশ থর থর করে কাঁপে। সেতুর এই ভগ্নদশার কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ বাবুল মিয়া জানান, উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের অর্ধ লক্ষ মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করেছে এই ধলাই সেতু। এই সেতু দিয়েই পূর্ব ও উত্তর রনিখাই ইউনিয়নের মানুষকে যাতায়াত করতে হয়। পাশাপাশি ধলাই নদের পূর্বপাড়ের ব্যবসা-বাণিজ্য সচল রেখেছে এই সেতু। তিনি দ্রুত সড়কটির ত্রুটি সারিয়ে তোলার দাবি জানান। উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক হাজী মোঃ আলাউদ্দিন জানান, ভারী যানবাহন চলাচল করায় দিন দিন সেতুটি নড়েবড়ে হয়ে গেছে। এই সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে না। বর্তমানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষ ও গাড়ি পারাপার করছে।
ইসলামপুর পশ্চিম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, শিগগিরই সেতুর মেরামত কাজ না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তিনি স্থানীয় সাংসদ ইমরান আহমদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
উপজেলা চেয়ারম্যান শামীম আহমদ বলেন, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চালকরা গাড়ি পারাপার করছে। বড় ধরনের দুর্ঘটনা রোধে দ্রুত সেতুটি সংস্কার করা প্রয়োজন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমন আচার্য জানান, এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে কথা বলেছেন তিনি এবং নির্বাহী প্রকৌশলী গতকাল বৃহস্পতিবার সেতু পরিদর্শন করেছেন।
সওজ-এর নির্বাহী প্রকৌশলী রিতেশ বড়–য়া জানান, ওই ব্রিজ দিয়ে পাথরবাহী ভারী যানবাহন চলাচল করায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। সেতুর ভেঙ্গে যাওয়া অংশ দিয়ে যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ না হলেও তারা আপাতত সেখানে স্টিল ডেক বসিয়ে দেবেন। এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, যে কোন সেতুর মূলত বাম সাইডে ভাঙ্গে। এ সেতুটিও বাম সাইডে ভেঙ্গেছে বলে জানান তিনি। সূত্র:- সিলেটের ডাক।

আরও পড়ুন

বাড়ছে না সাধারণ ছুটি, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৩১ মে থেকে অফিস

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে চলমান...

আওয়ামীলীগের উপ কমিটির সদস্য হলেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নওশেদ

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নির্বাচন পরিচালনা ও...

খাদিমপাড়া থেকে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

এসএমপির শাহপরাণ থানাধীন খাদিমপাড়া এলাকা...