ক্রিকেটের অভিজাত ফরমেটে সিলেট ভেন্যুর যাত্রা শুরু

প্রকাশিত : ০৪ নভেম্বর, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে

আহমদ ইয়াসিন খান দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ! ক্রিকেটের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ফরমেটে অভিষেক হয়েছে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের। বিশ্বের ১১৬তম এবং দেশের ৮ম টেস্ট ভেন্যু হিসেবে
শনিবার যাত্রা শুরু করলো স্টেডিয়ামটি।
বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের মধ্যকার সিরিজের প্রথম টেস্ট ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে সিলেটে। টেস্টের পর আগামী মাসেই ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষেক ঘটবে নয়নাভিরাম এই স্টেডিয়ামের। ডিসেম্বরের ১৪ তারিখ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এ মাঠে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের ৩য় ওয়ানডে। এর পর ১৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি।
সিলেট ভেন্যুর অভিষেকের দিনে টাইগারদের নতুন ২ মুখ আরিফ-অপুরও অভিষেক ঘটে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে। এছাড়া, দলে আছেন ঘরের ছেলে আবু জায়েদ রাহি। বেস্ট ইলেভেনে না থাকলেও স্কোয়াডে আছেন আরেক সিলেটি ছেলে খালেদ।
ইংল্যান্ডের লর্ডস আর ভারতের কলকাতার ইডেন গার্ডেনের পর তৃতীয় স্টেডিয়াম হিসেবে গতকাল ম্যাচটি ঘন্টা বাজিয়ে শুরু হয়। ক্রিকটে ‘দ্যা ফাইভ-মিনিট বেল’ খ্যাত ঘন্টাটি বাজান আইসিসি ট্রফি জয়ী সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান ও সাবেক টেস্ট ক্রিকেটার হাসিবুল হাসান শান্ত। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমনসহ বিসিবি কর্মকর্তাবৃন্দ।
টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক উপলক্ষে আমন্ত্রণ জানানো হয় সিলেটের প্রতিনিধিত্ব করা সাবেক ও বর্তমান টেস্ট ক্রিকেটারদের। এদের মাঝে উপস্থিত হয়েছিলেন সাবেক ক্রিকেটার হাসিবুল হোসেন শান্ত, জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক রাজিন সালেহ, বোলার এনামুল হক জুনিয়রসহ অন্যরা। ম্যাচের লাঞ্চ বিরতিতে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ক্রিকেটারদের প্রদান করা হয় সম্মাননা ক্রেস্ট। ম্যাচের আগে দু’দলের খেলোয়াড়দের দেয়া হয় লাল-গালিচা সংবর্ধনা। ভেন্যুর অভিষেকের দিনে রাজিন সালেহ জানালেন তার অব্যাহতির কথা। আগামীকাল সোমবার ঢাকা বিভাগের বিপক্ষে শুরু হতে যাওয়া জাতীয় লীগের ম্যাচটিই হবে তার শেষ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ।
এছাড়াও অভিষেক ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে রাখতে সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে প্রকাশিত হয়েছে ‘গ্লিম্পস অব সিলেট’-নামে স্যুভেনির। ছিল স্মারক কয়েন। এই কয়েন দিয়েই ম্যাচটির টস অনুষ্ঠিত হয়।
ইতিহাসের সাক্ষী হতে সকল বয়সের প্রায় হাজার দশেক দর্শক স্টেডিয়ামে জড়ো হয়েছিলেন। পতাকা আর ব্যানার হাতে সকল বয়সের মানুষ খেলা দেখতে আসেন। স্লোগানে স্লোগানে গোটা দিন গ্যালারী মাতিয়ে রাখেন তারা।
টিকেটধারী দর্শকদের কথা মাথায় রেখে গতকাল ম্যাচের প্রথম দিনে ইউনিফর্ম পরিহিত স্কুল শিক্ষার্থীদের ‘ফ্রি এক্সেস’ দেয়া হয়নি। তবে, আজ রোববার দ্বিতীয় দিন থেকে স্কুল শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে খেলা উপভোগ করতে পারবেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় রেখে দর্শকদের কিছু নিয়ম মেনে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে হবে। কোন রকম খাদ্যদ্রব্য বা ঢিল ছোঁড়া যায় এমন বস্তু নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না। স্টেডিয়ামের অভ্যন্তরে খাবারের স্টলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যেহেতু বাংলাদেশের খেলা, দর্শকরা চাইলে পতাকা কিংবা ব্যানার নিয়ে মাঠে প্রবেশ করতে পারবেন।
ম্যাচের টিকিট স্টেডিয়াম সংলগ্ন বুথ থেকেই কিনতে পারছেন দর্শকরা। পশ্চিম গ্যালারি ও গ্রিন হিল এরিয়ার টিকেট ৫০ টাকা, পূর্বপাশের গ্যালারির টিকিট ৮০ টাকা, ক্লাব হাউজের টিকিট ২০০ টাকা এবং গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের টিকিট ৫০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট ভেন্যু ছিল ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম। এরপর চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়াম, নারায়ণগঞ্জের খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম, বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম, মিরপুরে শেরে বাংলা স্টেডিয়াম, চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম এবং খুলনায় শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম টেস্ট ভেন্যু হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নাম।
দেশের একমাত্র গ্রিণ গ্যালারি সমৃদ্ধ নয়নাভিরাম এই স্টেডিয়ামটি নির্মিত হয় ২০০৭ সালে। সে সময় বিভাগীয় স্টেডিয়াম নামেই পরিচিত ছিল। ৬১৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৪৮৫ ফুট প্রস্থের স্টেডিয়ামটির দর্শক ধারণ ক্ষমতা প্রায় ২০ হাজারের কাছাকাছি। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে এখানে অনুষ্ঠিত হয় বিজয় দিবস টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের ম্যাচ। স্টেডিয়ামটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পা রাখে ২০১৪ সালে। টি-টোয়েন্টি বিশ^কাপ ও আইসিসি প্রমিলা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ দিয়ে নতুন ভাবে আত্মপ্রকাশ ঘটে, নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। পরবর্তীতে এ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ^কাপের গ্রুপ পর্বের কয়েকটি ম্যাচ।
গত বছর অনুষ্ঠিত বিপিএল’র উদ্বোধনী ম্যাচসহ আটটি ম্যাচ এ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। তখন পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয় দল এ মাঠে কোনো ম্যাচ খেলেনি। সেই আক্ষেপও ঘুচে যায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারীতে। শ্রীলংকা ও বাংলাদেশের মধ্যকার টি-টোয়েন্টি সিরিজের একটি ম্যাচ এই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।
দেশের মাটিতে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে মাত্র ৬টি টেস্টে। এর মধ্যে মিরপুরে সর্বোচ্চ ৩টি। বাংলাদেশের ঐতিহাসিক প্রথম টেস্ট জয় আসে চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে। সিলেটে শুরু হওয়া ম্যাচটিকে জয়ে রাঙাতে মুখিয়ে আছে বাংলাদেশ টিমও। প্রথম দিনের খেলা শেষে জিম্বাবুয়ে তাদের প্রথম ইনিংসে সংগ্রহ করে ৫ উইকেটে ২৩৬ রান। অধিনায়ক মাসাকাদজা আর শন উইলিয়ামস তুলে নেন অর্ধশতক। ৩৭ রান করা পিটার মুর ও ২০ রান করা রেগিস চাকাভা আজ রোববার দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করবেন।

পরবর্তী খবর পড়ুন : ২৮২ রানে অল আউট জিম্বাবুয়ে

আরও পড়ুন