ক্যামেরা ‘ কাহানী ‘ ৮ ব্র্যান্ড নিউ ক্যামেরা ছিনিয়ে নিল !

Alternative Text
,
প্রকাশিত : ০১ জুলাই, ২০২১     আপডেট : ৭ মাস আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

<strong>পাভেল রহমান</strong  ৭ দিনের ব্র্যান্ড নিউ ক্যামেরা ছিনিয়ে নিল !

আমি চিৎকার করে সাহায্য চাইলেও পুলিশ নড়েও বসলো না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি স্যাররের বাংলোর পাশে পুলিশ যেমন ছিল তেমনই থাকলো বসে। তাদের সামনেই ছাত্রী মিছিলে হামলা হলো আর ছবি তোলার কারণে হামলাকারিরা আমার ব্র্যান্ড নিউ ক্যামেরাটা নিয়ে চলে গেলো !!
১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের বিজয়ে আনন্দ মিছিল বের করলো রোকেয়া আর সামছুন নাহার হলের ছাত্রীরা। ছাত্রীদের আনন্দ মুখর ঐ মিছিলে আক্রমণ করে বেধড়ক লাঠি পিটিয়ে
বীরত্ব ফোলালো আক্রমণকারীরা। দারুন সব ছবি তুলে ফেল্লাম ঐ ঘটনার। আমার ছবি তোলা দেখে ক্ষিপ্ত ছাত্র দলের কর্মীদের রোষানলে পড়লাম আমি। কিছু বোঝার আগেই মুখে কিল ঘুষি লাঠির আঘাত আমাকে রক্তাক্ত করে ফেলল। ওদেরই একজন আমার ক্যামেরা ধরে টানাটানি করতে লাগলো। আমি আমার সর্বশক্তি দিয়ে ক্যামেরা ধরে রেখেছিলাম। কিন্তু যখন পিস্তলের ঠাণ্ডা নলটা আমার পেটে এসে লাগলো তখন আর সাহস পাইনি। ক্যামেরাটা ছিনিয়ে নিলো ওরা। মাত্র ৭ দিন বয়স ক্যামেরাটির। ব্র্যান্ড নিউ নাইকন এফএম টু কেড়ে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। ততক্ষণে আমার মুখ ফুলে উঠেছে। ব্যথায় কুঁকড়ে গেছি আমি ! ঐ অবস্থাতেই পুলিশের সাহায্য চাইলাম কিন্তু কোন সহযোগিতাই করলো না পুলিশ।
ক্যামেরা হারানো, শাররীক লাঞ্ছনায় বিধ্বস্ত আমি প্রেসক্লাবে চলে এলাম। ক্লাব রিসিপ্সন থেকে প্রথমেই ফোন করেলাম ক্যানটনমেন্টে ‘ ম্যাডামের ‘ কাছে। ঘটনা শুনে তিনি জানতে চাইলেন, ‘ কারা তোমার ক্যামেরা কেড়ে নিয়েছে ‘ ? তাদের পরিচয় জানাতেই তিনি আকাশ থেকে পড়লেন এবং বললেন, ‘ না না তুমি ঠিক দেখনি পাভেল ‘। ফোন ছেড়ে দিলেন ম্যাডাম। দ্বিতীয় ফোন করলাম ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনকে। তিনি ইত্তেফাক নিউ নেশনের পত্রিকার সম্পাদক মণ্ডলীর চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ সংবাদপত্র পরিষদেরও চেয়ারম্যান বটে। সব শুনে তিনি বললেন , ‘ এসাইন্মেন্ট থাকলেই ছবি তুলতে যেতে হবে নাকি, কেন গিয়েছিলেন ওখানে , দামি ক্যামেরাটা নিয়ে গেল ?
আমাদের অভিভাবকের কথায় আমি বিস্মিত ! ক্যামেরাটা চলে যাবার কারণে তিনি ক্ষিপ্ত। আমার শরীরের আঘাতটা তিনি আমলে নিলেন না। তৃতীয় ফোন করলাম আমাদের বার্তা সম্পাদক আমানুল্লাহ কবিরকে , তিনি তখন ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতা। তিনি ‘ কিছু একটা করছি’ কিন্তু কিছুই করেননি। হামলার সময় উপস্থিত ছাত্র দল নেতা দুদু রিপন প্রেস ক্লাবে প্রেস কনফারেন্সের জন্য এলেন। কথা দিলেন ক্যামেরা ফিরিয়ে আনার। পরে তিনিও করেননি কিছুই। মিথ্যা আশ্বাসে ক্যামেরাটা ফিরিয়ে আনতে পারেননি ছাত্র দলের সেই কর্মীদের কাছ থেকে !
পাভেল রহমান

লেখক:- একুশে পদকপ্রাপ্ত আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন আলোকচিত্রী

নিউ ইয়র্ক
২৭ জুন ২০২১
নাইকন এফ এম টু ক্যামেরা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন