ক্যামেরা ‘ কাহানী ‘ – ৭ হারিয়ে ফিরে পাওয়া সেই ক্যামেরা !

Alternative Text
,
প্রকাশিত : ৩০ জুন, ২০২১     আপডেট : ৭ মাস আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

<strong> পাভেল রহমান :-</strong>  মৌচাকে এপি অফিসে পার্টি লেগেই থাকতো। আজ এই পার্টি তো কাল সেই। কোন ছলছুতো পেলেই হোল। আর আমার ব্যাপারটা যেন একটু বেশি বেশি। সপ্তাহে কিংবা মাসে ঢাকা থেকে আমার ছবি বিশ্বের বড় কোন নিউজ পেপারে ছাপা হলেই CONGRATULATION নোট আসতো নিউইয়র্ক , টোকিও কিংবা দিল্লী অফিস থেকে। সেই খবরে এপি ঢাকা বস হাসান সাইদ আওয়াজ দিতেন , ‘ পাভেল তাহলে হয়ে যাক ‘ ? বসের হাসি মুখে লেগে থাকতেই জবাব দিতাম, ঠিক আছে হয়ে যাক !!
তেমনি এক পার্টিতে মেতে উঠলাম আমরা ঢাকার ক’ জন ফটো জার্নালিসট সহ সাঈদ ভাই সাথে কমন বস হাসান শাহরিয়ার ভাই। কখনো ইউ এন বি থেকে রওসান উজ্জামান। সন্ধ্যার আড্ডা শেষ হতো পুরান ঢাকার বিখ্যাত ‘ হাজীর বিরয়ানী ’ দিয়ে।
পার্টি শেষে সবাই যখন বিদায় নিয়েছে তখন দেখি আমার ক্যামেরা টেবিলে নেই, ক্যামেরা কই ?
অফিসের ক্যামেরা গেলো কোথায় ? তন্ন তন্ন করে দেখি কিন্তু …। মাথায় যেন ‘ বাজ ‘ পড়লো। ভাবতেই দম বন্ধ হয়ে আসে। কোথায় গেলো ক্যামেরা । পার্টির অতিথিরাই শেষ পযন্ত… ? অফিসকে কি বলবো ?
উফ আমি ভাবতে পারিনা।
বস হাসান সাঈদকে আমতা আমতা করে বললাম ক্যামেরাটা তো দেখছিনা।
বাসায় ফিরে বেশ ক’জনার কাছে ফোন ঘুরালাম। সরাসরি কাউকে কিছু বলতে পারিনা। বানিয়ে বানিয়ে যতটুকু বলি তা শুনেই সবাই যেন আকাশ থেকে পরে। বেশ কজনকে আবার বলতে হলো একটু অন্য ভাবে। আর বলিস না , তোরা তো সব চলে গেলি, আমি বাড়ী ফিরবো ঠিক সেই মুহূর্তে দেখি ক্যামেরাটা টেবিলে নাই !
আমার কথায় আঁৎকে উঠে, ‘ বলিস কি ‘ ?
আঁৎকে উঠারই তো কথা। এক এক করে প্রায় সবাইকে ফোন দিলেও কয়েকজনার বাসায় আবার ফোন নেই, তাঁদের কি করে জানাই। রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেল।
রাত ভোর হোল। সকালে একটা ফোন এলো। কালকের এক অতিথি ফোন করেছেন। পাড়ার দোকান থেকে।
‘ হ্যালো, পাভেল দারুন একটা কাণ্ড হয়েছে ‘ ? এমনিতেই আমি ক্যামেরার চিন্তায় অস্থির , তিনি ফোনে জানাচ্ছেন ‘একটা কাণ্ড হয়েছে ‘।
আমি নিজেকে সংযত রাখি, ওর কাণ্ড (!) শোনার জন্য রিসিভারে কান পাতি
, কি হয়েছে ?
তিনি বলতে শুরু করেছেন , ‘ কি হয়েছে জানো , আমি সকালে লন্ড্রিতে যাবো, দরজা খুলে পাপোষে পা রাখতেই দেখি…। ‘ হ্যালো , পাভেল শুনতে পারছ ‘ ? আমি তার কথা শোনার জন্য দম বন্ধ করে থাকি আর তিনি বলেন শুনতে পারছি ? হ্যা হ্যা আমিতো শুনতেই পারছি , তারপর কি হোল তাই বলেন।
‘ ওহা , কি যেন বলছিলাম ‘ ? উল্টো আমার কাছেই জানতে চায় , উফ , আমি মনে করিয়ে দেই , বললাম , বলছিলেন দরজা খুলে পাপোষে পা রাখতেই, ‘ ও হ্যা হ্যা মনে পড়েছে , পাপোষে পা রাখতেই দেখি একটা কালো পলিথিন ব্যাগ। আমিতো ভয়ে শেষ, বোমা টোমা নাকি ‘ ? ওনার কথায় আমি উন্মুখ হয়ে উঠি। ‘ আমি কি করছি জানো ? , আমি বললাম , আমি জানব কি করে ? বলেন না , ‘ আমি ভয়ে ওটা না দেখেই তাড়াতাড়ি পাশ কাঁটিয়ে চলে যাই লন্ড্রিতে। ফিরে এসে দেখি একই ভাবে পড়ে আছে পলিথিন ব্যাগটা, আমি ভয়ে ভয়ে কালো ব্যাগটার মুখ খুলে উঁকি দিয়ে দেখি ভিতরে কালো কি যেন একটা ভারী মত। তারপর ঘরে নিয়ে আলোতে ব্যাগটা খুলতেই মাথা ঘুরে গেলো ‘ !! ‘ হ্যালো , হ্যালো ‘ ? আরে আমি শুনছি , তারপর কি হলো ? ব্যাগের ভিতরে কি দেখলেন কি আছে ব্যাগে ? অস্থির আমি মাথার চুল টেনে ধরি। ‘ আরে পাভেল ভিতরে কি সেটাইতো বলতে চাচ্ছি , তুমি আছো লাইনে ‘ ? আমি কি বলবো , উফ ! আরে বলেন না, কি দেখলেন ভিতরে ?
‘ পাভেল, আস্তো একটা ক্যামেরা পাভেল ‘ !
ক্যামেরা ? আমি চিৎকার করে উঠি !
‘ হ্যাঁ হ্যাঁ ক্যামেরা ! আমি তো অবাক ক্যামেরাটা আমার বাসার দরজায় আসলো কি করে ? মাথায় তো কিছুই ঢুকচ্ছে না পাভেল। কি কাণ্ড বলো ? আমি মনে হয় কাল রাতে তোমার টেবিলে এই রকমই একটা ক্যামেরা দেখেছিলাম। আমি দৌড়ে এসেছি দোকান থেকে তোমাকে ফোন করতে, আচ্ছা এইটা কি তোমার ক্যামেরা পাভেল ‘ ? আমার হাত পা ঠাণ্ডা হয়ে যায়, আমি দাঁড়িয়ে থাকতে পারিনা। আমি বুঝে ফেলি যা বোঝার ! ওর অভিনয়ে আমি মুগ্ধ হয়ে যাই। নিজেকে সামলে রাখি, যাতে বিন্দুমাত্র বুঝতে না পারে। ফোনে আমিও অভিনয়ে মেতে উঠি ওর সাথে।
আমি রাজ্যের বিস্ময় নিয়ে বলি, তাই নাকি ? আরে শোনেন না, কাল পার্টির পর আপনারা তো সব চলে গেলেন। টেবিলে রাখা ক্যামেরাটা না দেখে ভাবলাম, কোথাও নিশ্চয়ই আছে। কিন্তু কোথাও খুঁজে পাইনা।
যাক, আপনার ফোন পেয়ে ভালোই হলো। আপনি তো আমাকে দারুন বাঁচিয়ে দিলেন। ভাগ্যিস আপনার দরজাতেই কেউ ক্যামেরা রেখে গিয়েছিল ? তা নহলে কি করার ছিল ? আর আপনি সকালে যদি লন্ড্রিতে না যেতেন ? তাহলে অন্য কারো চোখে পড়লে তো আর আমি পাইতাম না ক্যামেরাটা ? ভাগ্যিস আপনি দরজা খুলছিলেন সকাল বেলা।
আমি চলে আসি আপনার বাসায় ?
ধন্যবাদ দিয়ে ক্যামেরা নিয়ে সোজা মৌচাকে অফিসে।
কিন্তু বসকে কি বলবো কোথায় পেলাম কার কাছে পেলাম ?
মাথায় এলো , ঘটনাটা একই থাকবে শুধু বদলে দিবো ঘটনা স্থল, দরজা হবে আমাদের এপি অফিসের দরজা, ব্যাস !
সকালে বস অফিসে ঢুকতেই যারপর নাই আনন্দ প্রকাশ করে উঠলাম। বললাম , হুড়ড়ে পেয়ে গেছি ক্যামেরা। সাঈদ ভাই তো বাকহীন তাকিয়ে থাকে আমার দিকে , জানতে চাইলেন ‘ কোথায় ছিল, কি ভাবে পাইলা ‘ ?
তার চোখে বিস্ময় !
বললাম, সকালে আফিসে দরজার তালা খুলবো দেখি পাপোষের উপর একটা কালো ব্যাগ। ব্যাগের মুখটা খুলে দেখি আমার ক্যামেরা…।
সাঈদ ভাই বললেন, ‘ তাই নাকি ‘ ?
পাভেল রহমান
নিউ ইয়র্ক ।
১৬ জুন ২০২১

লেখক:- একুশে পদকপ্রাপ্ত আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন আলোকচিত্রী

নিউ ইয়র্কের বিখ্যাত ক্যামেরা সপ B&H.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

ঢাকা দক্ষিণ সরকারী কলেজ ছাত্রদলের বিশাল গণজমায়েত

        সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক বিএনপির কেন্দ্রীয়...

ভাষা আন্দোলনে সিলেটের নারী সমাজ

         সেলিম আউয়াল বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা...