কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে সিলেটে দা-ছুরি’র দোকানে উপচে পড়া ভিড়

প্রকাশিত : ২১ আগস্ট, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এনামুল হক রেনু বুধবার পবিত্র ঈদুল আযহা, কোরবানীর ঈদ। এ উপলক্ষে লোকজনের আগ্রহ যেমন পশু কেনার দিকে, তেমনি আগ্রহ পশু জবাই করার ছুরি, চাপাতি, দা, বটিসহ নানা উপকরণের প্রতি। হাতে সময় নেই। তাই নগরীর এসব লৌহজাত সামগ্রীর দোকানগুলোতে ছিল গতকাল সোমবার উপচে পড়া ভিড়। পুরনো ছুরি, চাপাতিতে শান দেয়া ও চকচকে করতে অনেকে ছুঁটেছেন কামারের দোকানের দিকে। ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন সিলেটের কামার সম্প্রদায়। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তারা নিরলসভাবে এসব উপকরণ তৈরী ও মেরামতের কাজ করে চলেছেন। অতিরিক্ত কাজের চাপে নতুন কাজের অর্ডার নিতেও কেউ চাচ্ছেনা। ক্রেতা সমাগম বেশী হওয়ায় বিক্রেতারাও দাম হাকাচ্ছেন তাদের ইচ্ছে মাফিক। ক্রেতারা অনেকটা বাধ্য হয়েই ছুরি, চাপাতি, দা-বটি কিনছেন বিক্রেতাদের হাকা দামেই। বিক্রেতারা পশু জবাই ও চামড়া ছাড়ানোর কাজে ব্যবহৃত নানা ধরণের ছুরি, চাইনিজ কুড়াল, চাপাতি, দা-বটি সাজিয়ে রেখেছেন তাদের দোকানে। গত এক সপ্তাহ আগে থেকেই সরগরম হয়ে ওঠেছে নগরীর ব্যস্ততম এলাকায় অবস্থিত ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোও। দিন-রাত পরিশ্রম করছেন কামারদের সাথে থাকা সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরাও। যদিও বছরের অধিকাংশ সময়ই এ শিল্পের লোকজন বলতে গেলে, প্রায় বেকার সময় কাটান।
সিলেটের কামার শিল্প অনেক পুরনো। উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি ও সময়ের বিবর্তনে কাজের চাহিদা না থাকায় এ পেশা ত্যাগ করেছেন অনেক পরিবার। এ শিল্পের প্রধান উপকরণ লোহা, ইস্পাত ও কয়লার দাম বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে কামাররা দারুন অর্থ সংকটে ভুগছেন।
কয়েকজন কামারের সাথে আলাপ করে জানা যায়, ঈদের দিন পর্যন্ত চলবে ছুরি, চাপাতি তৈরী ও বিক্রির ধুম।
বন্দরবাজার এলাকার প্রবীণ কামার শিল্পী শশী কর্মকার জানান, এ পেশা তার বাপ-দাদার ঐতিহ্যের পেশা। তিনি তাদের পেশা ধরে রেখেছেন। ১২ বছর বয়স থেকেই দা, বটি, ছুরি, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, লাঙ্গলের ইস তৈরী ও বিক্রি করে সংসার চালিয়ে আসছেন। বর্তমানে তার চারজন কর্মচারী রয়েছে। তার মধ্যে দু’জন মালামাল তৈরী এবং দু’জন বিক্রির কাজে নিয়োজিত।
সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এখন তাদের ব্যস্ততা।
তিনি আরো জানান, সারা বছর যে পরিমাণ ছুরি, চাপাতি বিক্রি হয় তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশী বিক্রি হয় বছরের এক কোরবানীর ঈদে। তাদের বিক্রিটা নির্ভর করে কোরবানীর পশুর সংখ্যার ওপর। যতবেশী কোরবানীর পশু, ততবেশী ছুরি, চাকু বিক্রি হয়। নগরীর বিভিন্ন কামার দোকান ঘুরে দেখা গেছে, দেড় থেকে আড়াই কেজি ওজনেরও চাপাতি রয়েছে। ভাল মানের একটি চাপাতি তৈরীতে ৪ থেকে ১ হাজার টাকা, জবাই করার কাজে ব্যবহৃত একটি ছুরির দাম ৩ থেকে ৫শ’ টাকা, বটি ও দা ৬শ’ থেকে ২ হাজার টাকা, একটি চায়নিজ কুড়ালের দাম ৫শ’ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
দাম বেশী অভিযোগের প্রেক্ষিতে আরেক কামার শিল্পী রাম চন্দ্র দাস বলেছেন, আগে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় এক বস্তা কাঠ কয়লা পাওয়া যেতো। ১৫ থেকে ২০ টাকার লোহার দাম এখন বেড়ে হয়েছে ১শ’ থেকে ১৫০ টাকা। চামড়ার তৈরী ভাতি দিয়ে কয়লার আগুন জ্বালানোর সময় বাতাস দিতে হয়। ওই ভাতির দাম ৩ হাজার থেকে বেড়ে হয়েছে ৮ হাজার টাকা। আর শ্রমিকদের মজুরী দিতে হচ্ছে প্রতিদিন ২৫০ টাকা থেকে ৩শ’ টাকা। সারা বছর এ শিল্পে মন্দাভাব থাকলেও প্রতি কোরবানীর ঈদে এদেরও কদর বাড়ে।
এদিকে, চীনের তৈরী রেডিমেড স্টিলের ছুরি চাকুর কদর এ বছর বেশী থাকলেও দেশীয় কামার শিল্পীদের তৈরী লৌহজাত উপকরণই বেশী বিক্রি হচ্ছে বলে বিক্রেতারা জানিয়েছেন।
নগরীর আম্বরখানা এলাকার কামার শিল্পী পিন্টু চন্দ্র দে জানান, গ্রাম শহর সর্বত্র দা, চুরি, চাপাতি বিক্রেতারা পসরা সাজিয়ে বসায় লোকজন কামারপাড়ার দিকে আসতে চাচ্ছেন না।
নগরীর তোপখানা এলাকার কামার শিল্পী রুপক দে অভিযোগ করে বলেন, সরকার সব শিল্প এবং পেশায় সহযোগিতা করলেও তারা বঞ্চিত রয়েছেন। তাদের ব্যাপারে দৃষ্টি প্রদানে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

সঞ্জয় কান্তি দাশকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন

         ডাক্তারের শরণাপন্ন হলেই রোগ নির্ণয়ের...

প্রসঙ্গঃ সংক্রমণ, মৃত্যু এবং লকডাউনের দাবী

48        48Sharesইকবাল মাহমুদঃ সংক্রমনের সংখ্যা দেখে...

ফ্রান্সে এমসি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ১২৫ বছরপূর্তি উৎসব

         আবু তাহির ,ফ্রান্স: বর্ণাঢ্য আয়োজনের...