কোরবানির জন্য প্রস্তুত পৌনে ৬ লাখ পশু

,
প্রকাশিত : ১৫ জুলাই, ২০২১     আপডেট : ৭ মাস আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সিলেট বিভাগে কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে প্রায় পৌনে ৬ লাখ পশু। এ বছর সিলেট অঞ্চলের পশু দিয়েই এ বিভাগের কোরবানির চাহিদা মেটানো সম্ভব বলে জানিয়েছে সিলেট প্রাণী সম্পদ বিভাগ।

প্রাণী সম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, এ বিভাগের চার জেলায় সবমিলিয়ে কোরবানির জন্য ৫ লাখ ৭৪ হাজার গরু, ছাগল ও মহিষ প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে খামারিদের কাছেই প্রস্তুত আছে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৮০৫ পশু। বিভাগের চার জেলায় ৪ লাখ ৫০ থেকে ৫৫ হাজার কোরবানি পশুর চাহিদা রয়েছে, সে হিসেবে এবারো স্থানীয় পশু দিয়েই চাহিদা মেটানো সম্ভব।

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার গ্যালারিয়া এগ্রো ফার্মে কোরবানির জন্য প্রস্তুত হয়েছে শতাধিক গরু। সীমান্তবর্তী চারিকাটা ইউনিয়নে তার খামার থেকে এখন পর্যন্ত ১০টি গরু বিক্রি করেছেন তিনি। ক্রেতারা হাটের ঝামেলা এড়াতে খামারে এসে পছন্দ করে পশু কিনে নিচ্ছেন।

অবশ্য, এ খামারের সকল পশুর বিবরণ দেওয়া আছে অনলাইন হাটেও। সেখান থেকে ফোন নম্বর নিয়ে অনেকে যোগাযোগ করছেন বলে জানালেন খামারের পরিচালক সাহিদ উদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘এ বছরে কোরবানিতে বিক্রির জন্য যেসব পশু প্রস্তুত করা হয়েছে, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আশা করছি সবকটি গরুই বিক্রি করা যাবে। ফেসবুকে তার গরুর বিজ্ঞাপন দিয়েছেন, সেখান থেকে অনেকে ফোন করে বিস্তারিত জানছেন, আবার প্রবাস থেকেও অনেকে পশু পছন্দ করে তাকে ফোন দিচ্ছেন। তবে বিক্রি সেই তুলনায় এখনও তেমন হচ্ছে না। এখনও ঈদের ৬ দিন বাকী, লকডাউনও শিথিল। তাই অনলাইন হাটের পাশাপাশি কিছু গরু স্থানীয় দরবস্ত বাজার ও চতুল বাজারের হাটে তুলবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।’

গ্যালারিয়া এগ্রোর মতো সিলেট বিভাগজুড়ে ছোট-বড় সবমিলিয়ে ১২ হাজার ৯৭২ জন খামারি প্রাণী সম্পদ বিভাগের তালিকাভূক্ত রয়েছেন। এ বছরের কোরবানির ঈদের বিক্রির জন্য যে সংখ্যক পশু প্রস্তুত করা হয়েছে, তাতেই এ বিভাগের কোরবানির পশুর চাহিদা মিটবে বলে মনে করছেন তারা। তবে করোনার কারণে বিক্রি নিয়ে কিছুটা হতাশ খামারিরা। আর শেষ মুহূর্তে যদি সিলেটের বাইরে থেকে পশু আনা হয় তাহলেও কাঙ্খিত দাম না পাওয়ার শঙ্কা করছেন তারা।

এ বছরে ছোট পরিসরে যাত্রা শুরু করে বারাকাহ ক্যাটল ভ্যালির। এর পরিচালক খালেদুর রহমান জানালেন, ‘এ বছরে বিক্রির জন্য ৯টি গরু প্রস্তুত করেছেন তারা। তাদের সবকটি গরুই দেশীয় ও প্রাকৃতিক খাবারের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিটির গরুর দাম ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ১০ হাজার পর্যন্ত চাচ্ছেন তারা। ঝামেলা এড়াতে তারা হাটে না নিয়ে ফেসবুক মাধ্যমে এসব গরু বিক্রির বিজ্ঞাপন দেন। এরপরই গত একদিনে তাদের দুটি গরু বিক্রি হয়ে গেছে। দু’একদিনের মধ্যে বাকিগুলোও বিক্রি হয়ে যাবে বলে আশা করেছেন তিনি।’

শহরতলীর চাতলিবন্দের হালিমা অ্যান্ড হাসিনা অ্যাগ্রো ফার্মের সত্ত্বাধিকারী অ্যাডভোকেট নুসরাত হাসিনা জানালেন, ‘তিনি কোরবানির পশু বিক্রির জন্য অনলাইন হাটকেই বেছে নিয়েছেন। এজন্য ফার্মের নামের নিজস্ব পেজে পশুর ছবি ও ভিডিও এবং সম্ভাব্য মূল্য প্রকাশ করেছেন। পোস্ট প্রকাশের পর ৩৩টি গরুর মধ্যে এক সপ্তাহে ১৩টি গরু বিক্রি হয়েছে, বাকিগুলোও বিক্রি হবে বলে আশাবাদি তিনি। তারা ক্রেতাদের ঈদের আগের দিন পর্যন্ত ফার্মে পশু রাখার সুবিধা প্রদান করছেন বলেও জানালেন।’

সিলেট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রুস্তম আলী বলেন, ‘কোরবানির ঈদে সিলেটে চাহিদার তুলনায় বেশি পশু প্রস্তুত রয়েছে। লাভজনক হওয়ার কারণে অনেকেই নতুন করে কৃষি ও পশুপালনে নিয়োজিত হচ্ছেন। এতে গড়ে উঠেছে অনেক খামার। আর খামারিদের সহায়তায় প্রাণিসম্পদ অফিস সর্বদা প্রস্তুত। চাহিদার তুলনায় এ বছরে বেশি পশু প্রস্তুত রাখার কারণে বাইরের জেলা থেকে পশু আনার প্রয়োজন পড়বেনা বলেও জানিয়েছেন তিনি।’ রাইজিংবিডি


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

সোহেল আরেফিনের মাতৃবিয়োগে খন্দকার মুক্তাদিরের শোক

        সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক সিলেট জেলা...

সংবাদ সম্মেলনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী

        আজ সোমবার সংবাদ সম্মেলনে আসছেন...

গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণ

        সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: কানাইঘাটের উপর...