কোম্পানীগঞ্জে কথিত মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে ফুসে উঠেছে রণাঙ্গণে অংশগ্রহণকারী মুক্তিযোদ্ধারা

প্রকাশিত : ১৬ জুলাই, ২০১৯     আপডেট : ৯ মাস আগে  
  

সিলেট জেলা উত্তরে অবস্থিত কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ডাঃ আব্দুন নূর নামের এ ব্যাক্তি একাত্তরের রনাঙ্গনে অংশগ্রহণ না করেও মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে বুক চেতিয়ে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ শাসন করে আসছে দীর্ঘদিন থেকে, অভিযোগ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের।
মুক্তিযোদ্ধকালীন কোম্পানী কমান্ডার মতিলাল মোহন্ত আক্ষেপের সুরে বলেন, আমরা প্রানের মায়া না করে মহান মুক্তিযোদ্ধে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছি কিন্তু কিছু ভূয়া মুক্তিযুদ্ধা যুদ্ধতে অংশগ্রহণ না করেও মুক্তিযোদ্ধা হয়ে গেছে। ভারতে না খেয়ে ট্রেনিং করেছে লক্ষ লক্ষ মুক্তিযোদ্ধা। না খেয়ে দেশকে শত্রু মুক্ত করতে যুদ্ধ করে শহীদ হয়েছেন অনেকেই। কিন্তু যে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাড়িতে শুয়ে বসে দিন কাটিয়েছে সেও নাকি মুক্তিযোদ্ধা হয়ে গেছে, আজ সেই সব আরাম আয়েশি ঘুমন্ত দুলালীদের কাছে আমরা কোম্পানীগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধারা জিম্মি হয়ে পরেছি।
তিনি আরো বলেন, ডাঃ আব্দুন নূর সেই রকম একজন ভূয়া মুক্তিযোদ্ধ। তার বিরুদ্ধে কোম্পানীগঞ্জের সকল মুক্তিযুদ্ধাদের অভিযোগ থাকা সত্যেও প্রভাব খাটিয়ে ও টাকার বিনিময়ে সে কোম্পানীগঞ্জের মুক্তিযুদ্ধাদের কমান্ডার হয়ে যায়। এর চেয়ে লজ্জার আর কি হতে পারে।
মুক্তিযুদ্ধ কালীন কোম্পানীগঞ্জ সাব-সেক্টরের কোম্পানী কমান্ডার মতিলাল মোহন্ত আরো বলেন, মুক্তিযোদ্ধ কালীন সময়ে আমাদের বর্তমান উপজেলাতে ৪-নাম্বার সেক্টরের সাব-সেক্টর লেফটেন্যান্ট আখঞ্জির অধিনে যুদ্ধ পরিচালনা করেছিল, আর আমি সেই সাব-সেক্টরের কোম্পানী কমান্ডার। আমার (মতিলাল) অধিনে ১৫০ জন বীর সেনা মুক্তিযোদ্ধে অংশগ্রহন করেন।
তিনি আরো বলেন-বিগত ১৩ জুন বৃহস্পতিবার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ অফিসে এক সভায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা ডাঃ আব্দুন নূর মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার মিথ্যা সার্টিফিকেটের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং সবাই এক বাক্যে সমর্থন করেন ডাঃ আব্দুন নূর ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন বলেন, ডঃ আব্দুন নূর যুদ্ধ না করেও মুক্তিযোদ্ধা আর আমরা জীবন বাজী রেখে শত্রুর বুলেট ফাকি দিয়ে শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। ডঃ আব্দুন নূর যদি নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দেয় তাহলে আমরা যারা যুদ্ধ করেছি তারা পরিচয় দিতেও লজ্জাবোধ হবে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা হাতেম আলী বলেন, ডাঃ আব্দুন নূর ভারতে কিংবা দেশের ভিতরে কোথাও ট্রেনিং নেয়নি। সে কোন যুদ্ধে অংশগ্রহন করেনি তার পরেও সে কি করে মুক্তিযোদ্ধা হয় তা বুজতে পারছিনা।

তিনি আরো বলেন, স্থানীয় হাতে গনা কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ আব্দুন নূরের টাকার কাছে তারা জিম্মি হয়ে গেছেন। সেই সব মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়েই ডাঃ আব্দুন নুর মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার প্রান-পান লড়াই করে যাচ্ছে।

গত ১৫জুলাই ডাঃ আব্দুন নুরের বিরুদ্ধে স্থানীয় ১০৫জন মুক্তিযুদ্ধার স্বাক্ষরিত স্মারকলিপি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে স্থানীয় এমপি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ ছাড়াও সিলেট জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব (১), মহা পরিচালক জাতীয় মুক্তিযুদ্ধা কাউন্সিল, ব্যবস্থাপক পরিচালক বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট, মহা সচিব (আইসিটি) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে অনুলিপি প্রেরণ করেন।

আরও পড়ুন



ইলিশ

জুঁই ইসলাম: রহমত আলির হাতে...

আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস সিলেটে বিভিন্ন কর্মসূচি

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: বিশ্ব পরিবেশ...

অবশেষে মশক নিধনে মাঠে সিসিক

ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সিলেট...