কেমুসাস স্মৃতি!

প্রকাশিত : ২২ জানুয়ারি, ২০১৯     আপডেট : ১ বছর আগে  
  

শাহেদ শাহরিয়ার: কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাহিত্য আসরে নিয়মিত লেখা নিয়ে আসতেন, পাঠ করতেন এমনসব মানুষের উজ্জ্বল উপস্থিতির স্মৃতি খুব মনে পড়ে! ভীষণ মিস করি সেই প্রিয়সব মুখগুলো, মানুষগুলোকে!

এই দূর সময়ে দাঁড়িয়ে তাঁদের অনেকেরই চেহারা মনে আছে কিন্তু নামটি হয়তো আর মনে নাই, নামটি মনে আছে কিন্তু চেহারাটি হয়তো ঝাপসা হয়ে গেছে!

তরুণ কবি এবং লেখকদের মধ্যে এই মুহুর্থে মনে পড়ছে জনাব আশরাফ হাসান (Ashraf Hasan), আবিদ ফায়সাল (Abid Faysal), ফায়সাল আইয়ূব (Faysal Ayyub), সাঈম চৌধুরী, নাজমুল আনসারী (Nazmul Ansary), খালেদ সানোয়ার (Khaled Sanwer) মামুন সুলতান (Mamun Sultan), আরিফ রব্বানী (Arif Rabbani), কাইয়ূম আব্দুল্লাহ (Quaium Abdullah), আবু সাঈদ আনসারী (Abu Sayed Ansarey) জুনায়েদ চৌধুরী সবুজ (পথিক সবুজ), মাওলানা রফিকুল ইসলাম, সালাম বিন রশীদ, মতিউল ইসলাম মতিন ভাই প্রমুখের কথা!

প্রবীণ মানুষদের মধ্যে দু’জনের কথা মনে পড়ছে যাঁরা আখেরাতের পথযাত্রী হয়ে গিয়েছেন! একজন দক্ষিণ সুরমা নিবাসী হাজী মওলুল হোসেন সাহেব! ব্যবসায়ী মানুষ ছিলেন, রাজনীতিও করতেন কিন্তু সাহিত্যের আসরটি তিনি মিস করতেন না! লুঙ্গি পড়ে আসতেন, সিলেটী সরল গদ্যে ছোট ছোট, নাতিদীর্ঘ কবিতা পাঠ করতেন, উপভোগ করতো সবাই। ভীষণ মিশুক ছিলেন, সন্তানসম তরুণ লিখিয়েদের বন্ধু বলে সম্বোধন করতেন। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতবাসী করুন।

আর অন্যজন এই সেদিন ইন্তেকাল করলেন জনাব আবির উদ্দীন মাস্টার সাহেব! আবির ভাই রম্য লেখা নিয়ে আসতেন, নিজস্ব ভঙ্গিতে (সম্ভবত নোয়াখালি বা চট্টগ্রাম অঞ্চলের) আঞ্চলিক উচ্চারণে পাঠ করতেন। বাই সাইকেলে চলাফেরা করতেন। ভাবী অসুস্থ ছিলেন, ওসমানী হাসপাতালে আমি দেখতে গিয়েছিলাম মনে পড়ে। আরো কিছুদিন পড়ে তাঁকে দেখতাম নিজের ছোট্ট শিশুটিকে সবসময় সঙ্গে করে সাইকেলে নিয়েই চলতে! এমন অসহায়ত্বের দৃশ্যটি দেখে বড্ড কষ্ট হতো! ইন্তেকালের পর জানলাম আবির ভাই মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন! আবির ভাইকেও আল্লাহ জান্নাতবাসি করুন। আমীন।

সৈয়দ মোস্তফা কামাল (মস্তই) সাহেব রাজনীতির মানুষ ছিলেন। কিন্তু প্রচুর লেখালেখি করতে। আসরে আসতেন নিয়মিত। প্রবন্ধ পাঠ করতেন।

শায়েখ তাজুল ইসলাম আউয়াল মহলী সাহেবকে মনে পড়ে, আসরে নিয়মিত ছিলেন।

দক্ষিণ সুরমা (সম্ভবত কদমতলি) এলাকা থেকে চলন প্রতিবন্ধী একজন লেখক আসতেন কিন্তু তাঁর নামটি আমার আর মনে নাই! কবিতা পড়তেন মনে পড়ে।

নাজনীন আক্তার কণা আপা ছিলেন একমাত্র নারী লেখক যাঁকে মোটামুটি নিয়মিত পেতাম আসরে। অন্য কোন নারী লেখকের কথা আমার মনে পড়ছে না! কণা আপা কবিতা লিখতেন। এবারকার সিসিক নির্বাচনে তিনি কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি জনসেবা- মানবসেবায় কণা আপার সাফল্য কামনা করছি!

(পর্ব-৫- চলবে….)

২১.০১.২০১৯
শিবগঞ্জ, সিলেট।

আরও পড়ুন



নেক আমলে বিপদ দূর হয়

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক: রাসুল সাল্লাল্লাহু...

কান্নায় ভেঙে পড়লেন মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম...

সিলেট জেলা ও মহানগর যুবলীগের শোক

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: সিলেট জেলা...

বিদেশ ফেরত ছেলের লাশ আনতে নিজেই লাশ হলেন

সৌদি আরবে কিছুদিন আগে মারা...