কেমুসাস: এক সাহিত্যকর্মীর চাওয়া

প্রকাশিত : ২৬ মে, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে

এম এ আসাদ চৌধুরী: কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ, সিলেটের সাহিত্যানুরাগীদের প্রাণকেন্দ্র। সিলেটে সাহিত্যচর্চা করেন এমন ব্যক্তিবর্গের সর্বোচ্চ থেকে সর্বনিম্ন পর্যায়ের প্রায় সকলেই কেমুসাসের সাথে জড়িত। কেউ প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে, কেউ অপ্রাতিষ্ঠানিক ভাবে। কেমুসাসের সাথে জড়িত সাহিত্যসেবীদের অনেকেই নিয়মানুসারে তার সদস্য, কেউ কেউ সদস্য না হয়েও নিজেকে অঙ্গাঅঙ্গি ভাবে কেমুসাসের সাথে জড়িয়ে রেখেছেন। কথিত ইতিহাসের ভাষ্যমতে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এই সংগঠনের নেতৃত্বে সমকালীন প্রাজ্ঞ সাহিত্যিক গবেষকরাই ছিলেন। মুসলিম চেতনায় ধর্মীয় তাহযিব তামাদ্দুনের হেফাজতের পাশাপাশি মাতৃভূমি ও মাতৃভাষার চেতনা লালনে একঝাক খাটি বাঙ্গালি মুসলিম তৈরীর লক্ষ্যে দীর্ঘ পথচলে এপর্যন্ত পৌছেছে কেমুসাস। কেমুসাসের নেতৃত্বে একতর্ফা একদলীয় মতাদর্শের প্রভাব কাম্য না হলেও সময়ের পরিক্রমায় নেতৃত্বে এরকমই একটি অবস্থা আসে। এবং শক্তিশালী ভাবে দীর্ঘদিন যাবত এভাবেই এই সংগঠন পরিচালিত হচ্ছে। যদিও এখনও এই মমতাদর্শীরা সংগঠনের পরিচালনার দায়ীত্বে তবু তাদের খোলসে বিগত কয়েকবছর থেকে সরকার দলীয়রাই নিয়ন্ত্রণ করছে প্রাচীন এই সংগঠন।

কেমুসাস প্রতিষ্ঠা পরবর্তি সময় থেকে এযাবৎ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের প্রশংসাযোগ্য কর্মসূচী পালন করে আসছে। কেমুসাসের সকল প্রোগ্রাম ( নির্বাহী পরিষদের বৈঠক ছাড়া) সাহিত্য সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য উন্মোক্ত থাকে। ছোটবড় সকল বয়সী সাহিত্যকর্মী কেমুসাসের প্রোগ্রামে আলাধা উৎসাহ উদ্যিপনা নিয়ে উপস্থিত হন। জ্ঞান পিপাসুরা কেমসাসের প্রোগ্রামে মধু খুজেন হর হামেশা। এটাই কেমুসাসের কাছে সবার কামনা।

কেমুসাসের নেতৃত্বে এক মতাদর্শী বা ভিন মতাদর্শী যারাই থাক, ক্ষুদ্র একজন সাহিত্যসেবক হিসেবে আমার ধারণা কেমুসাসের যেকোনো ধরনের প্রোগ্রামে ব্যক্তি/দল বিশেষের উপস্থিতি নিয়ে ‘সংকীর্ণতা’ দেখানো কেমুসাসের জন্য, কেমুসাসের মানের জন্য সুন্দর দেখায় না। এটা জাতীর চেতনাঘর হিসেবে কেমুসাসের জন্য লজ্জার। যেখানে জাতী মধু পায় সে বাগান সবার জন্য উন্মোক্ত থাকাই শ্রেয়।

এই সংগঠন অবশ্যই জাতী ও জাতীয়তাবাদের সুন্দর ও সুফলা আগামি নিয়ে সুদূর চিন্তা করবে। এখানে গবেষণার বিষয় হবে জাতীয় পরিবৃত্তি বিস্তার করণের পন্থানুসন্ধান। এখান থেকে উজ্জীবিত হবে সেই আলো, যার ফোকাসে গোটা জাতী নির্বিঘ্নে হেটে যাবে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে। সময়ের পালাক্রমে হারিয়ে যাওয়া সোনালী দিনের স্বর্ণালি সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনবে অকপটে। এই সংগঠন তৈরী হবে গোটা জাতীর অতন্দ্র পাহাদার হিসেবে, এবং তাহযিব-তামাদ্দুনের দরস ও তাদরিসের মাধ্যমে তৈরী করবে আগামি দিনের সুদক্ষ, পক্ষ ও প্রাজ্ঞ প্রহরী। আর এই সকল কর্মসূচী প্রতিফলনের জন্য কেমুসাসকে আরো উদার হতে হবে।এবং অবশ্যই। দুহাতে আগলে নিতে হবে সকল শুভাকাঙ্ক্ষী শুভানুধ্যায়ীকে। কেমুসাসের সকল কর্মসূচীতে সকলের উপস্থিতি নিশ্চিত করনের লক্ষ্যে কেমুসাসকে উন্মোক্ত রাখতে হবে তার প্রশস্ত দ্বার।

সম্প্রতি কেমুসাসের দুটি বৃহৎ আয়োজন নিয়ে আমার এই কথা বলা। অবশ্যই আমি কেমুসাসের প্রাতিষ্ঠানিক সদস্য, কর্মকর্তা-কর্মচারী কিছুই নই। বিগত ক’মাস আগে কেমুসাস প্রতিবারের ন্যায় ডাক দেয় প্রাণের আয়োজন ‘শেকড়ের সন্ধানে অভিযাত্রা’র’। সেখানে এবার শুধু কেমুসাস তার প্রাতিষ্ঠানিক সদস্যদের মধ্যে এই আয়োজন আবৃত রাখে। যদিও এই আয়োজন স্থগিত হয়েছে। তবুও ঘোষণার পর আমারমত অনেক গরীব ও ছোট সাহিত্যসেবিদের দুঃখিত হতে দেখেছি। কারণ ‘শেকড়ের সন্ধানে অভিযাত্রা’ শুধু মাত্র একটি আয়োজনই নয় বরং এখন এটি একটি ঐতিহাসিক সফর সিরিজে রূপ পেয়েছে। যার মাধ্যমে বৃহত্তর সিলেটের সকল শ্রেণীপেশার সাহিত্যসেবিদের এক মিলন মেলাও হয়ে উঠে। এমন একটি আয়োজন সংগঠনের সদস্যদের গণ্ডির মধ্যে বেধে রাখা অবশ্যই দুঃখের বিষয়।
দ্বিতীয় বিষয় হলো কেমুসাসের নিয়মিত সাপ্তাহিক আসরের হাজারতম আসর উপলক্ষ্যে আয়োজিত আগামি ১২ই জুলাই ১৮ অনুষ্ঠিতব্য ‘তরুণ সাহিত্য পুরষ্কার’ অনুষ্ঠান। উক্ত অনুষ্ঠান চিন্তাশীল তারুণ্য গঠনে অবশ্যই প্রশংসাযোগ্য। কিন্তু এখানেও কেমুসাসের চিন্তা সংকীর্ণতায় দুঃখিত আমারমত কিছু তরুণ সাহিত্যসেবী। কেমুসাস তার এই মহৎ আয়োজনে অংশগ্রহণের জন্য নিয়মিত সাপ্তাহিক আসরে উপস্থিত হয় এমন তরুণ্যকেই সুযোগদিচ্ছে। যার কারণে আমারমত চাকুরীজীবী অনেক যুবক যারা সাপ্তাহিক আসরে উপস্থিত হওয়ার সৌভাগ্যহীন তারা এই মহত আয়োজনে অংশ নিতে পারছেনা।

‘তরুণ সাহিত্য পুরষ্কার’ পাওয়া না পাওয়া পরের কথা। কিন্তু জাতীয় পর্যায়ের এমন একটি সংগঠন/প্রতিষ্ঠান এই ধরনের একটি আয়োজনে সীমারেখা টেনে দেয়া জাতীর আগামি নিয়ে চিন্তা লালনকারী হাজারো তরুণ হৃদয়ে নিরবে কষাঘাত করে। এটা সত্যি দুঃখের বিষয়। আলোচ্য বিষয়ে কেমুসাসের প্রাজ্ঞ পরিচালকবৃন্দ, নির্বাহী পরিষদ সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে সুবিবেচনা করার সবিনয় অনুরোধ জানাচ্ছি।

মা’আস সালাম,

এম এ আসাদ চৌধুরী
সাধারণ সম্পাদক
জালালাবাদ কবি ফোরাম, কেন্দ্রীয় পর্ষদ।

আরও পড়ুন