আজ আর কেমুসাসে সাহিত্য আড্ডা জমে না

প্রকাশিত : ০২ জুলাই, ২০২০     আপডেট : ১ মাস আগে

জেনারুল ইসলাম

সিলেটের সাহিত্যামোদীদের কাছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যাটা অন্যান্য সন্ধ্যার চেয়ে একটু ভিন্ন আঙ্গিকে আসে। সেদিন কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদে শিল্প,সাহিত্য ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের হাট বসে। পরিণত হয় নবীন-প্রবীণ লেখকদের মিলনমেলায়।

করোনার প্রাক্কাল থেকে অন্যান্য কাজকর্মের মতোই সাহিত্য আসরটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। যেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ অফিস বন্ধ সেখানে সাহিত্য আসর বন্ধ থাকবে এটা অস্বাভাবিক নয়। তবুও যেনো সাহিত্য আসরের এই ধারাবাহিকতার ব্যাহত মনকে বিষণ্ন করে। মনকে নাড়া দিয়ে যায় অস্বাভাবিক পৃথিবী আমাদের একত্র হতে দিচ্ছে না।

করোনা যখন চীন থেকে বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে তখন আমি শহর ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে চলে আসি। অদ্যাবধি গ্রামেই আছি।
গ্রামে থেকে প্রিয় শহর সিলেটের যে বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে তা হলো কেমুসাস সাপ্তাহিক সাহিত্য আসর।

সাহিত্য পাড়ায় আর আগে মতো গল্পকার তাসলিমা খানম বিথী আপুর মনোমুগ্ধকর উপস্থাপনা শোনা হয় না। কানের কাছে এসে বলে না জেনারুল কবিতা পড়বা নাকি গল্প?
কবি মামুন সুলতানের দুর্দান্ত আবৃত্তি! আলোচনা পর্বে যিনি সবাইকে উৎসাহ দিতেন। তরুণদের প্রিয় মামুন সুলতানের হাসিটা চোখে ভাসে।
ভরাট কণ্ঠে কবিতা শোনান না সালেহ আহমদ খসরু। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে প্রবন্ধ লিখে পত্রিকার পাতাটা হাতে নিয়ে আর আসেন রাজনীতি থেকে সাহিত্যে আসা সবার প্রিয় সালেহ আহমদ খসরু।
আলোচকের আসনে বসেন না কবি বাছিত ইবনে হাবিব। তরুণ লেখকদের কবিতাপাঠ শোনে শোনে টুকিটাকি লিখেন না আর। সাহিত্য আড্ডা শেষে চায়ের আড্ডা জমে না।
ছড়াকার কামরুল আলম গুছিয়ে কথা বলা, ছড়ার গঠনমুলক আলোচনা করার সময় কতো লেখকের সুন্দর উদ্বৃত্তি দেয়া এগুলো এখন দুষ্প্রাপ্য।
গল্পকার মিনহাজ ফয়সাল ভাইয়ের সাহসী কথাগুলো কানে বাজে।তরুণদের কীভাবে ভালোবেসে আগলে রাখতে হয় তা শিখিয়ে দেয় প্রতিনিয়ত।
গল্পকার বাশীরুল আমিন ভাইয়ের মন খোলা কথাগুলো।
দেখিনা দৃপ্ত পায়ে হেঁটে আসা কবি মুকুল চৌধুরী কে। যিনি সাহিত্য আসরের শুরুতেই হাজির থাকেন।
কর্ণেল সৈয়দ আলী আহমেদ স্যারের কথা শুনি না মুগ্ধ হয়ে।
কবি কালাম আজাদ স্যারের পান খাওয়া লাল টুকটুকে মুখটা চোখে ভাসে।
কলামিস্ট ইনাম চৌধুরী,বশির সাহেবকে খুব মনে পড়ে।
গল্পকার সেলিম আওয়াল কাঁধে ঝুলানো ব্যাগটা নিয়ে হয়তো এখনো কেমুসাস ঘুরে যান তবে শুনি না সুস্পষ্ট আলোচনাগুলো।
কলামিস্ট কবি আব্দুল হকের তথ্যনির্ভর কলাম আর প্রবন্ধগুলো পড়া হয় না।
কবি সম্রাট তারেকের তৃষ্ণা মিটানো কবিতাগুলো কবির কণ্ঠে শুনি না বহুকাল।
তরুণ ওপন্যাসিক মিদহাদ আহমেদ আর গল্পকার জুয়েলের গল্প শোনার জন্য অপেক্ষা করতে হয় না।
আব্দুল কাদির জীবন এর একটা সুন্দর ছড়া শোনা হয় না। মুয়াজ বিন এনামের ছড়া মানেই মন-প্রাণ-কান সবগুলো একজায়গায় রেখে শ্বাসরুদ্ধকর শ্রবণ।
কতো কিছু মনে পড়ে দাদন সাহেবের গান,কুদা বখত চৌধুরী রুবেলের গজল গান,সিরাজুল হকের ক-তো বিশ্লেষণ,জুবায়ের আহমেদ সার্জনের লেখা।

মাহমুদ রেজা চৌধুরী আর আব্দুল মুকিত অপি ভাই হয়তো এখনো কেমুসাস প্রাঙ্গণে ঘুরে যান তবে আগের মতো সাহিত্য আড্ডার জন্য সময় নিয়ে হয়তো আসেন না।

অসুখে ভরা জঞ্জালের এই পৃথিবীতে আমাদের দূরে রেখেছে।
এই পৃথিবী আবার আমাদের এক সাথে বসাবে এটাই প্রত্যাশা।
জীবনানন্দ দাশের কবিতার মতো বলতে ইচ্ছে হয়-
আমাদের দেখা হোক আগের মতো করে
আমাদের দেখা হোক সুস্থ শহরে।

বংশীকুণ্ডা,মধ্যনগর
ধর্মপাশা,সুনামগঞ্জ।

আরও পড়ুন

দোয়ারাবাজারে অনৈতিক কাজে ইমাম আটক

দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারের...

চেতনা যুব পরিষদের সম্মাননা প্রদান

আব্দুস সোবহান ইমন : সিলেট...

সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সহ-সাধারণ সম্পাদক হলেন তাওহীদ

সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সহ-সাধারণ সম্পাদক...