কেন এই মহামারি,বাঁচতে হলে মানতে হবে

প্রকাশিত : ২৯ মার্চ, ২০২০     আপডেট : ৬ মাস আগে
  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    3
    Shares

মোঃ নিজাম উদ্দিন  খুবই ছোট্ট একটি প্রাণী মশা, এই মশার উপদ্রব কিছু দিন পূর্বে ঢাকা নগরবাসীকে এতোই অতিষ্ঠ করেছিল। ভয়ে মানুষ ঘর থেকে বের হয়নি,ঘরে বাহিরে মানুষ ছিল অস্বস্থিতে দিনেও মানুষ ছিল মশার ভয়ে। ডেঙ্গু মশার কামড়ে আক্রমণে ভাইরাস ছড়াতো, হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়ে বর্ত্তী হলেন হাসপাতালে, মৃত্যু বরণ করলেন অনেকেই । ক্ষুদ্র ডেঙ্গু মশা মোকাবেলায় ঢাকার মাননীয় মেয়র সাহেবরা হলেন চরম ব্যর্থ, অবশেষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন পরবর্তী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন লাভে হলেন বঞ্চিত,অনেকেই বলেছে মশার কাছে সাঈদ খোকন পরাজিত।
সামান্য মশার কাছে সরকারও হলো অনেক ক্ষেত্রে পরাস্ত । মশা মারতে কামানের ব্যবহার আমরা দেখেছি,অনেকেই বলছিলেন সেটা মশা ছিল না হয়তো আল্লাহর তরফ থেকে ছিল আমাদের জন্য একধরনের গজব।
মহান আল্লাহ কখনও কখনও কিছু রাষ্ট্রে কিছু অঞ্চলের মানুষের আচরণ কাজের উপর অসন্তুষ্ট হয়ে বিভিন্ন সুরতে গজব নাযিল করে থাকেন।
কিছু দিন পূর্বে অষ্ট্রেলিয়ার এক অঞ্চলে দাবানলে পুড়েছিল হাজার হাজার একর সবুজ গাছপালা,আক্রান্ত হচ্ছিল মানুষ এবং কতো জীবপ্রাণী। দাবানল নিয়ন্ত্রণের নেভানোর বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় চেষ্টা করে সরকার সকল চেষ্টায় চরম ব্যর্থ হলো,তাদের সকল প্রযুক্তি ফায়ার সার্ভিস দূর্বল হলো কাজে আসলোনা । সরকার বা জনগণের উপলব্ধি হলো আল্লাহর সাহায্য ছাড়া এই আগুন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। পরিশেষে মুসলমানরা একত্রিত হয়ে অগণিত মানুষ নামাজ পড়ে আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করে সবাই প্রার্থনা করলেন হে মহান আল্লাহ একমাত্র তুৃমিই পারো এই আগুন নিভিয়ে এই অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে দিতে, আল্লাহ তুমি ছাড়া আমাদের আর কোন উপায় নাই। সেই প্রার্থনায় সরকারের কর্তাব্যক্তিরা শামিল হলেন। দয়াল আল্লাহ হয়তো তাদের আর্তনাদ প্রার্থনা কবুল করেছিলেন সহসাই বৃষ্টি অতিবৃষ্টি শুরু হলো আগুন নিভে গেল।
যে চায়নাতে কিছুদিন পূর্বেও মুসলমানরা কতো নির্যাতিত নীপিড়ীত হত্যাকান্ডাের শিকার হচ্ছিল অনেক মসজিদ বন্ধ করে দেয়া হলো, অনেকে নামাজ পড়তে পারতোনা হঠাৎ করে করোনাভাইরাসের পাদূর্ভাবে মুসলমানরা হলো যতেষ্ট নিরাপদ। চায়নার প্রধানমন্ত্রী মুসলমানদের পাশে দাঁড়ালেন মসজিদ খুলে দিলেন মুসলমানরা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে হলো উল্লসিত। মসজিদে স্থান সংকুলান না হওয়ায় রাস্তায় হাজার হাজার মুসলমান নামাজ আদায় করলো কি অপূর্ব ছিল সেই দৃশ্য। চায়নার অন্যান্য ধর্মের মানুষরা মুসলমাদের সিকিউরিটি দিয়ে করলো সহযোগিতা।
যে চায়না থেকে করোনাভাইরাসের উৎপত্তি অল্পদিনেই নিয়ন্ত্রণ করলো তারা মহামারী।
আল্লাহকে যারা চিনেছে যারা মেনেছে ভয় পেয়েছে তার নিষেধকে, অদৃশ্য আলামত যারা যত তাড়াতাড়ি অনুধাবন করতে পেরেছে সেই মানুষ কিংবা অঞ্চল হয়েছে পরম শান্তিময়।
মুসলমানদের জন্য পরম সম্মান গৌরবের পবিত্র স্থান হচ্ছে কাবা শরীফ মসজিদে নববী মদিনা মনোওয়ারা, আজকে সেই পবিত্র স্থান সরকার লকডাউন করে রেখেছে তা দেখে মুসলমানদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হওয়ার কথা। এমন তো হবার কথা ছিল না ? কেন হচ্ছে, সৌদি আরবের সরকার যেভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে তার নাগরিকরা শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় আছে,সরকারের কার্যক্রমে চরম অসন্তুষ্ট সৌদির জনগণ। প্রিন্স সালমান তার ক্ষমতা বলে এতোদিন যা কোরআন হাদিসে নিষেধ ছিল তা তিনি খুলে দিলেন তার বিরুদ্ধবাদী অবাধ্য অনেক নিকট আত্মীয়কে করলেন কারারুদ্ধ।
আল্লাহ হয়তো তা সহ্য করতে পারেননি যে কারণে পবিত্র মক্কা মদিনা শরীফ আজ মুসল্লি শূণ্য, নয়তো রাষ্ট পরিচালনায় তাদের দূরদর্শিতার যতেষ্ট অভাব। করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আগেই যদি পবিত্র মক্কা মদিনা এলাকাকে লকডাউন করে কাবা শরীফ মসজিদে নববী শুধু স্থানীয়দের জন্য উন্মুক্ত করে রাখা হতো তাহলে মুসলমানদের জন্য হতো অনেক সম্মানের এবং শান্তির। পরিস্থিতি যাই হউক অন্তত সতর্কতার সহিত এই মহিমান্বিত পবিত্র স্থান নামাজের জন্য খোলা থাকলে মুসলমানদের বা বিশ্ববাসীর জন্য মহামারী গজব হয়তো কম হতো। প্রশ্ন আসতে পারে এটা সৌদি সরকারের সিদ্ধান্ত নাকি অন্য কোন প্রভাবশালী গোষ্ঠি বন্ধের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে ছিল ?
বিশ্বের অনেক কর্তা ব্যক্তিরা তাদের ইচ্ছা মতো ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন,করেছেন অনেক অন্যায় অবিচার লাগামহীন কতো দূর্ণীতি সহ ভয়ংকর নির্মম খেলায় মেতেছিল তারা।
আজ একসাথে শুরু হয়েছে অনেকের মৃত্যুভয়,কেউ করছেন জাতিকে বাঁচানোর সকল চেষ্টা, কারও জন্য শুরু হয়েছে কঠিন পরীক্ষা।
অনেকেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ছেন আল্লাহর কুদরতি কদমে নিবেদন করে প্রার্থনা করছেন, কেউ প্রকাশ্যে কেউ নিরবে চাচ্ছেন আল্লাহর সাহায্য।
অন্যায় যে করে অন্যায় যে সহে সবই সমান অপরাধী,নিশ্চয়ই সকল অপরাধীর জন্য করোনা ভাইরাসের এই সংক্রমণ। এই করোনা ভাইরাস নাকি প্রতিদিন তার চরিত্র আচরণ বদলাচ্ছে ?
আমরা সরে গেছি ইসলাম ধর্মের মূলস্তম্ভ থেকে দূরে অনেক দূরে, কালেমা নামাজ রোজা হজ্ব যাকাত সত্য ন্যায় ইনসাফ মানুষের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করা ছিল ধর্মীয় মানবিক দায়িত্ববোধ। আমাদের রাষ্ট্র বা পৃথিবীর অনেক দেশেই তা আজ সম্পূর্ণ অনুপস্থিত, ক্ষমতার রাজনীতির কারনে অনেকরাষ্ট্র শ্রদ্ধেয়জন হচ্ছেন নিষ্পেষিত, তাইতো আজ এতো বিপদ এতো মহামারি। বাঁচতে হলে জানতে হবে একজনকে, তার বাঁধা নিষেধ মানতে হবে,তিনি আমাদের সৃষ্টিকর্তা মহান পাকরাব্বাল আলামীন দয়াময় আল্লাহ। অনুস্মরণ করতে হবে জগৎ বিখ্যাত বিজ্ঞানী আমাদের প্রিয়নবী বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ) এর রেখে যাওয়া জীবন বিধান পবিত্র কোরআন হাদিস।
এই বিশ্ব মানবজাতির কল্যাণ অকল্যাণের জন্য মহান আল্লাহ পাক সব ব্যবস্থা রেখেছেন পবিত্র কোরআন মজিদে এবং বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) রেখে গেছেন তাঁর সুন্নাহ। অসংখ্য ওলি আউলিয়া মাওলানা মুফতি মুহাদ্দিস কোরআনের হাফেজ অনেক ইসলামী চিন্তাবিদ উত্তম রাস্তা আজও বাতলে দিয়ে যাচ্ছেন। আমরা তা গ্রহণ করছিনা বলেই এতো মুসিবত।
এখনও বাংলাদেশ সহ বিশ্বের অনেক দেশে কোরআন হাদিসে বিশদ তাৎপর্য আমাদের প্রিয় নবীজির উত্তম আমলের কথা বলে চলেছেন অনেক বুজুর্গ শ্রদ্ধেয় ইসলামি চিন্তাবিদ ইসলামিক স্কলারর্স গণ,আমরা তাদের সম্মান দিতে যতেষ্ট কৃপণ।
তাদের অনেক ক্ষেত্রে অসম্মান করার ইতিহাসও অতি নিকট অতীতে আছে,করোনা ভাইরাস নিশ্চয়ই এমনিই আসেনাই, আমাদের আমল আচরণের কারণেই হয়তো তার আগমন। আল্লাহ যেন আমাদের সমস্ত পাপ গোনাহকে মাফ করে দেন, সবাই বলি আমিন।

সাবেক চেয়ারম্যান
খুরমা (উত্তর) ইউনিয়ন পরিষদ, ছাতক।


  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    3
    Shares

আরও পড়ুন