কুশীল মিয়ার কোরবানি

প্রকাশিত : ৩০ জুলাই, ২০২০     আপডেট : ২ মাস আগে
  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    2
    Shares

মোহাম্মদ আব্দুল হক

কোরবানির হাটে পশু কিনতে গিয়ে ফিরে এসেছেন কুশীল মিয়া।
স্ত্রী জানতে চাইলেন, কি-গো গরু কিনলে না কেন?
কুশীল মিয়া জবাবে বললেন, কোরবানির হাটে গিয়ে ফেসবুক চালাতে গিয়ে দেখলাম, একজন শিক্ষক ও লেখক পোস্ট দিয়েছেন ঘুষ সুদ ও মানুষের সাথে প্রতারণা করে টাকা দিয়ে পশু কিনলে পশু জবাই হবে, তবে কোরবানি হবে না।
স্ত্রী বলেন, তাতে তোমার সমস্যা কোথায়?
কুশীল বলেন, আমি চাকরি করে প্রথম দিকে মাসে বেতন পেতাম বিশ হাজার টাকা, এখন পাই ত্রিশ হাজার টাকা। আমার সংসার খরচ মাসে পঁয়ত্রিশ হাজার টাকা। ছোটো ভাইকে ঠকিয়ে প্রতারণা করে তার জমি দখল করে বছরের পর বছর আমরা খাচ্ছি। এছাড়া প্রতিমাসে তিনটি একহাজার টাকার ডিপিসএস চালাই। ফিক্সড ডিপোজিট করে যে টাকা রাখছি, তা থেকে মাসে মাসে টাকা তুলে ব্যাংকে জমাই এবং আমাদের দুইটি লাইফ ইন্সুইরেন্স চালাই। এদিকে চাকরি জীবনের পনেরো বছরের মধ্যে শহরে বাড়িও করেছি। মাসে ত্রিশ হাজার টাকা বেতনের চাকরি করে এতোসব করে ফেলেছি। তুমি কি মনে করো আমাদের এই টাকা, জমি, বাড়ি এগুলো হালাল।
স্ত্রী বুদ্ধি দিলেন, শুনো, ওই লেখক-শিক্ষকের কথা বাদ দাও। আমাদের কাছে যে হুজুর মাঝে মাঝে সাহায্য নিতে আসেন, তুমি তার কাছে যাও। দেখবে, তিনি আমাদের পছন্দের মতো কথা বলবেন।
কুশীল এবার ক্ষেপে গিয়ে বললেন, আরে রাখো তোমার ওই কটমোল্লার কথা। মরলে কি ওই কটমোল্লায় আমারে উদ্ধার করবে? তোমাদের খাই খাই স্বভাবের জন্যেই আমি এতো পাপ করেছি। আখেরাতে তোমরাও-তো আমার পাপের দায়িত্ব নিবে না।
কুশীলের স্ত্রীও রেগে বলেন, তোমার পাপের বোঝা আমি কেন নিতে যাবো?
এবার কুশীল মিয়া বলেন, শুনে রাখো, ইন্ধন দাতা হিসেবে তোমাকেও পাপের শাস্তি ভোগ করতে হবে। কোরান শরীফ কেবল পড়লে হয় না। আমি আরেকজন লেখকের আরেকটি পোস্ট দেখেছি। তিনি বলেছেন, সূরা লাহাব বুঝে পড়লে কোনো স্ত্রী তার স্বামীকে অবৈধভাবে সম্পদ আহরণের কথা বলতো না ; বরং নিষেধ করতো।
এপর্যায়ে কুশীল মিয়া ও তার স্ত্রী দুই জনেই মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়েন আর আক্ষেপ করে বলেন – হায় খোদা এখন কি করবো ?????
এসময় ঘরের কোণে টেলিভিশনে এক ঝাঁক শিশুর কন্ঠে আবৃত্তি শোনা যায় _
“ঘুষখোর সুদখোর দুর্নীতিবাজ
বেহুঁশের চক্কর নাই তার লাজ
ব্যাংক আর মানিব্যাগে ঘুষের টক্কা
হজ্জ পেতে উড়ে যাও দূরের মক্কা।
ক্ষমা তুমি পাবে কি ঠকিয়ে তারে?
মনে করে দেখো কাঁদিয়েছো যারে
দাও দাও বিলিয়ে সোনা টাকা কড়ি
ঠকিয়ে রেখেছো যা ব্যাংকেতে ভরি।”
# এখানে টেলিভিশনের পর্দায় ঘোষকের উপস্থিতি এবং তিনি বলেন – সকল মানুষের বোধ জাগ্রত হোক।।


  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    2
    Shares

আরও পড়ুন

বিশ্ব স্বাস্ত্য সংস্থার উদ্যোগে সিলেটে চিকিৎসকদেরকে নিয়ে সভা

         ২০২০ সালের মধ্যে হাম-রুবেলামুক্ত বাংলাদেশ...

অস্ট্রিয়া বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের অমর একুশে উদযাপন

         সোহেল চৌধুরী, ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া :...

মেয়র আরিফের সাথে সিলেট কমিউনিটি ইন কোরিয়ার মতবিনিময়

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: দক্ষিণ কোরিয়ার...