কিশোরী মোহন বালিকা বিদ্যালয়ের দীর্ঘ ১৩২ বছর পর ছাত্রী পুনর্মিলনী

প্রকাশিত : ১৬ জানুয়ারি, ২০২০     আপডেট : ৩ মাস আগে  
  

কিশোরী মোহন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রী পুনর্মিলন উপলক্ষে তিনদিন ব্যাপী স্মৃতিচারণ ও মিলনমেলার আয়োজন করা হয়েছে। পুনর্মিলন অনুষ্ঠানটি আগামী ১৭,১৮,১৯ জানুয়ারি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে।

বুধবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে কিশোরী মোহন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রী পুনর্মিলন উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পুনর্মিলন উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক মারিয়াম চৌধুরী বলেন, সিলেটে নারী শিক্ষার উন্মেষ পর্বের ইতিহাসে দেখা যায় নারীশিক্ষার সর্ব-প্রথম উদ্যোগ ও বিস্তার ঘটে ক্রিস্টান মিশনারিদের উৎসাহ আর কল্যাণে। এ ক্ষেত্রে সিলেটে নয়াসড়ক এলাকার গির্জা এবং তৎসংলগ্ন যে টিলা রয়েছে যাকে সাধারণ্যে পাদ্রীর টিলা বলা হত, তারাই ১৮৮৭ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ‘ওয়েলস মিশন স্কুল’। সাধারণ্যে এটাও পাদ্রী স্কুল বলে পরিচিত ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্ববর্তী সময়ে সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাবে গির্জার পক্ষে স্কুল পরিচালনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়লে ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে স্কুল রক্ষায় এগিয়ে আসেন তৎকালীন সিলেটের প্রখ্যাত উকিল স্বর্গীয় হেমচন্দ্র সেন। প্রতিষ্ঠা করেন কিশোরী মোহন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়।

তিনি বলেন, আজ দীর্ঘ ১৩২ বছর পর এই বিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী পুনর্মিলনের মাহেন্দ্রক্ষণে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি নয়াসড়কস্থ খ্রিস্টান মিশনারিদের আর স্বর্গীয় হেমচন্দ্র সেনকে। দীর্ঘ এগারো যুগ ধরে যে প্রাজ্ঞজনেরা বিদ্যালয়টির চড়াই-উৎরাই পার করে আজকের অবস্থানে এনেছেন তাঁদের জন্য সকৃতজ্ঞ অভিনন্দন।

আহ্বায়ক মারিয়াম চৌধুরী বলেন, প্রথমবারের মতো আমাদের প্রিয় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পুনর্মিলন-২০২০’র ১৭, ১৮ ও ১৯ জানুয়ারিতে আমরা একত্র হব। তাই প্রত্যাশা করি এই প্রথম আয়োজিত পুনর্মিলন সকলের সহযোগিতায় আনন্দময় হবে, অর্থবহ হবে, সফল সমাপ্তির সুখস্মৃতি নিয়ে আমরা ফিরে যাব নিজ নিজ আলয়ে।

তিনি বলেন, এত বছরের জড়তা ভেঙে পুনর্মিলন আয়োজন সহজ ছিল না। সুবিধা-অসুবিধা অনেক কিছুই ছিল। মতানৈক্যও ছিল। প্রস্তুতি সভাতে সকলে আসা সম্ভব ছিল না কিন্তু তাদের উৎসাহ আন্তরিকতার কমতি ছিল না, যেভাবেই হোক সবাই সেই মহামিলনের আকাক্সক্ষায় উন্মুখ। বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদসহ সংশ্লিষ্ট সকলেই সাহস-সহযোগিতা যুগিয়েছেন। সবার কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। এই শেষ নয়, শুরু মাত্র। আমরা যা পারছি না তা পরবর্তী সময়ে অন্যরা পূর্ণ করবেন। আরও ব্যাপক, আরও উৎসবমুখর করে এগিয়ে নেবেন এই ধারাকে। নতুন পুরাতনের দূরত্ব ক্রমশঃক্ষীণ হয়ে আসবে এ প্রত্যাশা করতেই পারি।

তিনি আরো বলেন, দেশে-বিদেশে প্রাক্তনীরা পুনর্মিলন আহ্বানে সাড়া দিয়ে যেভাবে আমাদের প্রাণিত করেছেন, আমরা কৃতজ্ঞ। সর্বোচ্চ চেষ্টা ছিল একটা নিখুঁত আনন্দময় উৎসব প্রস্তুতির। ঘাটতি হয়ত থাকবে। অনাকাক্সিক্ষত ভুলও হয়ত হবে, এর দায় স্বীকার করেই বলছি সকলের উদারতা কাম্য। এ উপলক্ষে রানা ফেরদৌসের সম্পাদনায় ‘শিরীষের ছায়ায়’ নামে একটি স্মরণিকা প্রকাশিত হচ্ছে।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, কিশোরী মোহন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রী পুনর্মিলন উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক মারিয়াম চৌধুরী, সদস্য সচিব কার্নাজ রহিম জিহান, সমন্বয়কারী রানা ফেরদৌস, কোষাধ্যক্ষ শিরীন বেগম, যুগ্ম সদস্য সচিব সাহেদা খান, ফাতেমা জামান রোজী, যুগ্ম কোষাধ্যক্ষ তানয়িওর জাহান, অভ্যর্থনা সদস্য ইয়াসমীন চৌধুরী আকন্জী, শোভাযাত্রা, অনুষ্ঠান পরিকল্পনা আহ্বায়ক প্রেইজি সিনহা এ্যামি, রেজিস্ট্রেশন উপ কমিটির আহ্বায়ক তাসনুজ হুমায়রা চৌধুরী।

আরও পড়ুন