কিছু পেতে চাইছেন? ব্লেইম গেম বাদ দিন

প্রকাশিত : ২৯ এপ্রিল, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে  
  

বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল : জীবনে পথ চলতে অনেক কিছু দেখি। ইদানিং অভিজ্ঞতা হয় অনেক বেশি তীব্র, ক্ষুরধার, কষ্টদায়ক। কিন্তু তারপরেও সময়ের অভাবে লেখা হয় না। জীবনের ব্যস্ততা অন্যরকম মাত্রায় বেড়ে চলেছে, কমবেশি সবারই এমন হয়। আমার সবচেয়ে প্রিয় মানুষটার কথা মনে পড়ছে যিনি হাজার বছর আগে থেকেই যত্নবান হতে বলেছিলেন জীবনের ব্যস্ততার আগের অবসর নিয়ে।জানি জীবন ক্রমাগত ব্যস্ত থেকে ব্যস্ততর হয়, জীবন জটিল থেকে জটিলতর হয়। আল্লাহ যদি সময়ে বারাকাহ না দেন, তাহলে কেউ কিছুই করতে পারবে না। আল্লাহ যদি আমাদের জীবনকে সহজতা দান না করেন, তাহলে কেউ এর ক্রমবর্ধমান জটিলতা ও ঝামেলাকে কমাতে পারে না। আমাদের মধ্যে যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি বলে দাবী করি, তাদের জীবন ক্রমাগত কঠিন হয়। আল্লাহ আমাদেরকে প্রকৃতপক্ষে তার দিকে ফিরিয়ে নিতে চান, তার দয়ায় আমরা তাকে স্মরণ করতে পারি, তার দয়ায় আমরা দুনিয়া অশান্তির মাঝে শান্তির স্পর্শ পাই আত্মায়, হৃদয়ে।
আমরা মানুষ আমরাই সৃষ্টির সেরা জীব ।আমাদের চারপাশে হাজার হাজার মানুষের বসবাস প্রত্যেকেই এক একটি আলাদা আলাদা চরিত্রের অধিকারী ,আর সেই চরিত্রর দ্বারা আমরা একে অন্যকে প্রভাবিত করে বেঁচে থাকি। আমরা মাঝে মাঝে অন্যর উপর এতটাই প্রভাব বিস্তার করি যে ভূলে যাই সেও একটা মানুষ তারও কিছু ইচ্ছে থাকতে পারে । মানুষ অনেক প্রতিশোধপরায়ণ, সে প্রতিশোধ নিতে ভালোবাসে। অরেকজনের ক্ষতি করে সে আত্মতৃপ্তি লাভ করে। অপরের বাকস্বাধীনতাকে হরণ করে সে তৃপ্তির হাসি হাসে। সে এ কথা একবারও ভাবে না যে মানুষ মাত্রই ভুল হতে পারে। সে নিজেও তো ভুলের ঊদ্ধে নয় সে অপরেরর ভুলকে কিছুতেই ক্ষমার চোখে দেখে না। সে নিজে খারাপ হয়েও অপরের কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করে। সমাজ নামক একটা অর্দৃশ্য দড়িতে অামরা সবাই বাঁধা থাকি। যার কারনে আমরা আমাদের ব্যাক্তি স্বত্বাকে হারিয়ে ফেলি ।খুব সহজেই নিজের ভুল মেনে নেওয়ার মানসিকতা খুব কম মানুষেরই থাকে। অধিকাংশ সময় আমরা নিজেদের কষ্টটাকে বড় করে দেখি, আমাদের কথায় যে অন্য কেউ কষ্ট পেতে পারে সেইকথা ভুলে যাই ।
সময়ের প্রয়োজনের আমরা অনেক বেশী বদলে যাচ্ছি। বদলে যাচ্ছি না বলে বদলে যেতে হচ্ছে সময়েই বদলে দিচ্ছে আমাদের । মানুষের চাওয়া, তার স্বপ্ন গুলো সব কিছুই পরিবর্তন হচ্ছে সময়ের সাথে সাথে । বদলে যাওয়া প্রকৃতির-ই নিয়ম !! শুধু পার্থক্য এতটুকু-ই,কেউ কারণে আবার কেউ অকারণে বদলায় !!!! একটা শিশু যখন জন্মলাভ করে তখন সে নিষ্পাপ অবস্থাতেই জন্মায় ,অামরা আমাদের পরিবেশের দ্বারা তাকে অমানুষ বানাই ।

শালীনতা, ভদ্রতা ও বিনম্র আচরণ হচ্ছে মু’মিনের প্রধান চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। তাই যার মধ্যে ভদ্রতা ও শালীনতার মহত্ গুণটি যতটা পূর্ণাঙ্গরূপে বিকাশ লাভ করবে সে ততটা পূর্ণাঙ্গ মু’মিন হিসেবে পরিগণিত হবে। শুধু তাই নয়, এই শালীনতা, ভদ্রতা ও বিনম্র আচরণের মধ্য দিয়েই একজন মানুষের প্রকৃত মানবতার পরিচয় ঘটে।

বর্তমান সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে যে অশান্তি-অরাজকতা ও বিশৃংখলা-বিপর্যয় বিরাজ করছে, এর একমাত্র কারণ হচ্ছে ইসলাম আমাদের যে সহিষ্ণুতা, শিষ্ট-সুন্দর ও বিনম্র আচরণ শিক্ষা দিয়ে থাকে, আমরা সেই শিক্ষা ও আদর্শ থেকে বহু দূরে সরে যাচ্ছি। আমাদের মধ্যে অসহিষ্ণুতা ও উত্তেজনা ক্রমেই বেড়ে চলছে। আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী ও সহকর্মীদের সঙ্গে অতি তুচ্ছ কারণেই আমরা উত্তেজিত ও উগ্র হয়ে উঠি, এমনকি ব্যবসা-বাণিজ্য, কায়কারবার, লেনদেন ইত্যাদি পারস্পরিক বিভিন্ন কার্য সম্পাদনের ক্ষেত্রে অতি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাদের এই উত্তেজনা প্রকাশ পেয়ে যায়, আর এই উত্তেজনা ও উগ্র মনোভাব থেকেই সৃষ্টি হয় রেষারেষি।

আমরা আমাদের এই রুক্ষ-কঠিন আচরণকেই নিজেদের বীরত্ব ও সাহসিকতার পরিচায়ক বলে মনে করি। কিন্তু হাদিসে রাসুলুুল্লাহ (সা.) নিজের ক্রোধকেই দমন করার শক্তিকেই বীরত্ব বলে আখ্যায়িত করেন।
হযরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কাউকে ধরাশায়ী করে ফেলে দেয়া বাহাদুরি নয়, বরং প্রকৃত বাহাদুর হচ্ছে ওই ব্যক্তি, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ রাখতে সক্ষম হয়। (বুখারি শরীফ)।
উন্নত মহত্ চরিত্রের অধিকারী সেই ব্যক্তিই হতে পারবে, যার স্বভাব-চরিত্রে কোমলতা ও মাধুর্যতা থাকবে। কারণ বিনম্রতা ও কোমলতার মাধুর্যই মানুষের স্বভাব চরিত্রকে সৌন্দর্যবিমণ্ডিত করে।রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মা আয়েশা (রা.)- কে নসিহত করে বলেন, তুমি নম্রতা অবলম্বন কর এবং কঠোরতা, অশালীনতা থেকে বিরত থাক।নম্রতা যে কোনো বিষয়কে সুসজ্জিত করে এবং যে বিষয়ে নম্রতা না থাকে সে বিষয়টি অসুন্দর ও ত্রুটিযুক্ত হয়। পরস্পরের মাঝে কঠোরতা, রুক্ষতা মানুষের চরিত্রকে কলুষিত করে এবং আল্লাহ তায়ালাও কঠোরতাকে পছন্দ করেন না।

.এটি দুনিয়া, জান্নাত বা জাহান্নাম নয়। এখানে আপনি যেমন চির প্রশান্তিতে থাকবেন না, তেমনি চির অশান্তিতেও থাকবেন না। জীবনে উত্থানপতন চলবে। এরমধ্য থেকে কিভাবে সুখী হবেন?
.
মানুষ সর্বদা ৩টি অবস্থার একটিতে থাকে। প্রত্যেকটি অবস্থায় কি করণীয় তা জেনে নিয়ে আমাদের সে অনুযায়ী আগত পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। এটি হচ্ছে জীবনে সুখী হওয়ার একমাত্র মাধ্যম।
.
.
১। যখন আমরা আল্লাহর দেয়া নিয়ামাতের মধ্যে সুখে শান্তিতে থাকিঃ এমন অবস্থায় আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে হবে। নিজের সাফল্য বা সুখের জন্য নিজের ক্রেডিট এমনটি ভাবা যাবে না। কোনভাবেই ইগো বা অহংকার যেন স্থান না পায় আর বিনয় যেন চলে না যায়। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে হবে যেন তিনি আমাদের আগত দিনে কোন কঠিন পরীক্ষায় না ফেলেন। আমাদের জন্য এই জীবনকে সহজ করে রাখেন। সেই সাথে মনে রাখতে হবে জীবনে উত্থানপতন আসবেই।
.
২। যখন আমরা বিপদআপদ বা দুঃখকষ্টের মাঝে থাকিঃ আল্লাহ কর্তৃক এমন পরীক্ষার সময় ধৈর্যশীল হতে হবে। মনে রাখতে হবে আমার সাথে যা ঘটেছে সেটি ঘটতোই, যদি আমি এভারেস্টের চূড়ায়ও অবস্থান করতাম তাও এটি আমাকে ছেড়ে যেত না। যা ঘটেছে তা ভেবে হতাশ না হয়ে, তা মেনে নিয়ে কিভাবে জীবনকে সামনে এগিয়ে নেয়া যায় সে বিষয়ে ভাবতে হবে। বিনয়ের সহিত আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে যেতে হবে যেন তিনি আমাদের জন্য সহজ করে দেন। মনে রাখতে হবে, কষ্ট কখনো চিরস্থায়ী হয় না, যেমনটি সুখও চিরস্থায়ী নয়।
.
৩। যখন আমরা কোন গুণাহের সাথে জড়িয়ে যাইঃ এমন অবস্থায় সাথে সাথে তাওবা করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসতে হবে। আল্লাহ ছাড়া কি আমাদের যাওয়ার কোন জায়গা আছে? আল্লাহ ছাড়া আমাদের ক্ষমা করার মত’ই বা কে আছে? আল্লাহর কাছে মাফ চাইতে লজ্জা কিসে? তিনি তো আমাদের সব কিছুই জানেন, তিনি তো জানেন আমরা গুণাহের ব্যাপারে কতটুকু দুর্বল। কোনভাবেই আল্লাহর রাহমাতের ব্যাপারে নিরাশ হলে হবে না।
.
ইনশাল্লাহ এটি সুখী হওয়ার মাধ্যম। সুখ কোন বস্তুগত জিনিসের সাথে সম্পৃক্ত নয়। আত্মিক, মানসিক সুখ’ই প্রকৃত সুখ।

অন্ধকারকে গালি দিলে, শাপশাপান্ত করলে কখনো তা দূর হয় না। আঁধার দূর হয় আলো জ্বেলে দিলে। চলার পথে বাধা পেয়ে প্রতিবন্ধকতাগুলোকে গালাগালি দিলে কখনো গন্তব্যে পৌঁছানো হয়ে যায় না।

আলোকিত হতে চাইলে আলো জ্বেলে দিতে হয়। লক্ষ্যে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হলে বাধা পার হতে হয়। বাধা থাকবেই, অন্ধকার থাকবেই। যারা লক্ষ্য অর্জন করতে না পারার ব্যর্থতার অন্যের উপর চাপায়, তারা কখনো ঠিকমতন চেষ্টাই করেনি। ব্যর্থতা তো সফলতার পথের একটা ধাপমাত্র।

কিছু পেতে চাইছেন? ব্লেইম গেম বাদ দিন, অভিশাপ বাদ দিন, আহাজারি বাদ দিন। চেষ্টা করুন। আল্লাহর সাহায্য তো সন্নিকটে!

আরও পড়ুন



যেদিনটির কথা কখনো ভুলবো না

তাসলিমা খানম বীথি: ১. লেখার...

বজ্রপাত : সচেতানতাই একমাত্র বিকল্প

রাজু আহমেদ : মহান আল্লাহ...

শাবিতে শিক্ষা দিবস পালন করছে জাতীয় ছাত্রদল

মঙ্গলবার, জাতীয় ছাত্রদল শাবি শাখা...

বাংলাদেশ ব্যাংকের ৫দিনব্যাপী কর্মশালা উদ্বোধন

আব্দুস সোবহান ইমন :  বিআইবিএম-এর...