কিছুর স্মৃতি এখনও চোখের সামনে ভেসে ওঠে

প্রকাশিত : ০৯ জুন, ২০২০     আপডেট : ৩ মাস আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জাবেদ আহমেদ বাংলাদেশ ব্যাংকের আগামে আমাদের সিলেট শহরের প্রথম বাসা উপরপাড়া, পাঠানটুলা আলীবাহার চা বাগানের পাশে মনোরম লোকেশনে। ১৯৯৪ – ২০০৭ সময়ে এখানে মাসহ ৪ ভাই একত্রে থাকি। সবার বিয়ে হয় এ বাসা, আমার চার সন্তানের, বড় ভাইয়ের মেয়ের জন্ম এ বাসায়। প্রিয় উপরপাড়া ও এলাকার মানুষের সাথে কত সুখস্মৃতি রয়েছে আমাদের। গত ঈদে বেড়াতে গিয়ে স্মৃতিঘেরা বাড়িটির সামনে আমার দুভাই ও ভাতিজি মালিহা।
১৯৯৪ সালের এপ্রিল মাসের কোন এক দিনে তরুন সহকারী পরিচালক (বর্তমানে নির্বাহী পরিচালক, চট্টগ্রাম অফিসে বৃহস্পতিবার যোগদান করবেন) বাংলাদেশ ব্যাংক ক্লাবের জনপ্রিয় সভাপতি মোহাম্মদ আহমেদ আলী স্যারের বাড়ির কাজ দেখতে অফিস হতে রওয়ানা হই। পাঠানটুলা পয়েন্ট হতে দু কিলোমিটার ভিতরে স্যারের বাসা দেখে ফেরার পথে গাছ গাছালিতে ঠাসা সাড়ে ৬ শতকের একটি বাড়ি আমাকে দেখান। এলাকার রাস্তা সংলগ্ন মনোরম পরিবেশ আর দাম বিবেচনায় আমার পছন্দ হয়ে যায়। সিলিং আসার ৩ মাস আগেই শতক ১৬ হাজার ধরে মূল্য দাড়ায় ১লক্ষ ৪ হাজার টাকা, চাচা জহির উদ্দিন চৌধুরীর কাছ থেকে ধার করে ২০ হাজার টাকা দিয়ে বিশিষ্ট আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ ফজলুর রহমান মেম্বার এর গোয়াবাড়ির বাসায় বসে বায়না করে ফেলি। আমি তখন রাতের শিফটে সিলেটের ডাক এ সাংবাদিকতা করতাম। জুলাই ১৫, ১৯৯৪ সিলিং আসার মাত্র ৯ দিনের মাথায় সকল আনুষ্ঠানিকতা সেরে লোন দিতে মূল ভূমিকা রাখেন পেমেন্ট শাখার তৎকালীন অফিসার (উপপরিচালক/অব.) বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবু তাহের ভাই। দ্রুততার সাথে একতলা বাড়ি নির্মাণ করে নভেম্বর ৯৪ এ বাসায় উঠে যাই। ২০০৩ সালে দ্বিতীয় তলা নির্মাণ করি। উপরপাড়ায় আমার পরে আসেন যুগ্ম পরিচালক মো. ইকবাল হাসান ও মোঃ ইউনুস। সবাই বাড়ি বিক্রি করে চলে আসলেও ইকবাল মামা এখনও আছেন। আমরা তাঁর বাসায় গিয়ে উপরপাড়ার স্বজনদের দেখে আসি। উপরপাড়ায় সাংবাদিক সেলিম আউয়াল পরিবারের জায়গা ক্রয়, কাঁচা রাস্তা পাকা করা, গ্যাস লাইন নেয়া, বিদ্যুতের লাইন পরিবর্তন, টিএন্ডটি ভূগর্ভস্থ লাইন নেয়া, স্বজন সমাজকল্যাণ পরিষদ গঠন, মসজিদ মাদ্রাসার উন্নয়নসহ কত কিছুর স্মৃতি এখনও চোখের সামনে ভেসে ওঠে।
পাঠানটুলা, গোয়াবাড়ী, কুচারপাড়া, হাওলাদার পাড়া, ব্রাম্ননশাসন পুরো বৃহত্তর উআখালিয়া এলাকার কত মানুষের সাথে পরিচয় ঘটে, আজও আছে।
প্রাক্তন কাউন্সিলর জগদীশ দাস, পাঠানটুলার খালিক মাস্টার, রাজা ভাই, দারা মিয়া, গোয়াবাড়ির মকবুল ভাই, নুরুল চৌধুরী, কুচারপাড়ার মকবুল হোসেন মকু মেম্বার, আব্দুল জব্বার তুতু ভাই, সিদ্দেক আহমদ, স্নেহাস্পদ কাউন্সিলর ইলিয়াছুর রহমানের বাবা মাখন চাচা, বড়ভাই আলতা ভাই, দুদু মিয়া, উপরপাড়ার মতিন মামা, আজাদ মামা, আবু তাহের, এডভোকেট কয়সর, মুরতাজ চৌধুরী, মাওলানা আফরোজ খান, এডভোকেট কবি কামাল তৈয়ব, আব্দুল জব্বার, শফিক মেম্বার, বাচ্চু মিয়া, রুহুল আমীন, কালা মিয়া, শামীম ভাই, আদু ভাই, শাহজাহান, সেলিম, শাহান, তোফায়েল, ভাটার সুরুজ মেম্বার, বিএনপি নেতা শুক্কুর ভাই, হাওলাদারপাড়ার ইদ্রিস নানা, জামাল মামা, কামাল মামা, মাসুম মামা,হাফিজ মুহিব, আমার আপন মামা মালিক চৌধুরী, মামাতো ভাই লিটন, লিপন, টিটু, রাজন আরও কত নাম চোখের সামনে ভেসে আসলেও এখন নাম মনে আসছে না। ভালবাসার টানে আনন্দ বেদনার খবর পেলে এখনও ছুটি উপরপাড়ায়। আজ শহরে একাধিক বাড়ি হলেও গোলাপগঞ্জের শেরপুর যেভাবে আমাদের পৈত্রিক ভিটা উপরপাড়াও ছিল আমাদের পরিবারের সিলেট শহরের প্রথম স্থায়ী ঠিকানা।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

সিলেট মহানগর জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত

         ২ নভেম্বর শনিবার ৪টায় সিলেট...

সিলেটীরা আসামে থেকেও অহমিয়ার সাথে একাত্ম হয়নি

         সেলিম আউয়াল: মোগল আমলে সিলেট...

মুক্তিযুদ্ধের বই পড়ে পরীক্ষা দিলো ৫’শ শিক্ষার্থী

         সিলেটে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার...