কালাপাহাড়ে বিস্ময়কর র্ঝণা

,
প্রকাশিত : ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১     আপডেট : ৩ সপ্তাহ আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মৌলভীবাজার জেলায় রয়েছে পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনা। প্রাকৃতিক সবুজ বন ও পাহাড়ি টিলার বৈচিত্র্যময় পরিবেশের কারণে পর্যটকরা এখানে ছুটে আসেন। মনকাড়া সবুজ বন বনানী উঁচু নিচু পাহাড় টিলার ভাঁজে ভাঁজে কালাপাহাড়ে রয়েছে বিস্ময়কর ৭টি র্ঝণা। পর্যটকদের কাছে নূতন করে যুক্ত হতে পারে আর্কষণীয় এই কালাপাহাড়। স্থানীয়ভাবে কালাপাহাড়কে লংলা পাহাড় বলে।

বাংলাদেশ জিওগ্রাফি সোসাইটির মতে, এই পাহাড়টি হারারগঞ্জ পাহাড় নামেও পরিচিত। প্রকৃতির নির্জনতা, চারদিকে সবুজ গাছপালা, মাঝে মাঝে পাখ-পাখালির ডাক আর শীতল বাতাস অপরূপ নিসর্গ প্রকৃতিপ্রেমিদের বিমোহিত করবে।

এটি দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের সর্বোচ্চ চূঁড়া। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা প্রায় ১১শ’ ফুট। বৃহত্তর সিলেটের সর্বোচ্চ চূঁড়া হিসেবে খ্যাত এটি। কালাপাহাড় মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নে অবস্থিত। একশ’ বর্গমাইল আয়তনের এই ইউনিয়নে চা-বাগান, পাহাড়, টিলা, ঝর্ণা ও লেকসহ অপরূপ সৌন্দর্যের কারণে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় এক নাম কর্মধা। কর্মধা ইউনিয়নের এক তৃতীয়াংশ ভূমি জুড়ে কালাপাহাড়ের অবস্থান। কুলাউড়া থেকে আনুমানিক ৩৫ কিলোমিটার দূরত্বের এই পাহাড়ের ৬০ শতাংশ বাংলাদেশে পড়েছে এবং বাকি অংশ ভারতের ঊনকোটি জেলায় অবস্থিত।

সবুজ প্রাকৃতিক ঘন জঙ্গল, বন্যপ্রাণী, সাপ, বানর হাতি, হরিণ একসময় বাঘও ছিলো কালাপাহাড়ে। এই পাহাড় সময়ের সাথে কয়েকটি নামে পরিচিতি লাভ করেছে। লংলাপাহাড়, হারারগজ পাহাড়, সাড়েরগজ পাহাড় থেকে এখন কালাপাহাড় নামে পরিচিত। বনবিভাগের কাছে পৃথিমপাশা একোয়ার্ড ফরেস্ট নামে রেকর্ডভুক্ত এই পাহাড়ে রয়েছে আকর্ষণীয় বেশ কয়েকটি ঝর্ণা। সরকারের পৃষ্টপোষকতা পেলে ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য প্রকৃতির স্বর্গ হতে পারে কালাপাহাড়।

কালাপাহাড়ের আনাচে কানাচে লোকায়িত মানুষের দর্শন পায়নি এমন ঝর্ণাও রয়েছে বেশ কয়েকটি। কর্মধা ট্রাভেলার গ্রুপের সাথে সরেজমিন দেখা পাওয়া গেলো আকর্ষণীয় ৭টি ঝর্ণার। এগুলো হচ্ছে, পাষাণের ধর ঝর্ণা, বেলকুমা ঝর্ণা, জাহাজমারা বাবা ঝর্ণা, উপলিয়া সং ঝর্ণা, শোলকুটার সং ঝর্ণা, জাহাজমারা পাদদেশ-১ ও জাহাজমারা পাদদেশ-২ ঝর্ণা ছড়ার ছোট-বড় আরো কয়েকটি জলপ্রপাত রয়েছে এই পাহাড়ে। এখানে প্রাকৃতিক বনের ভিতরে নৈসর্গিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু পাহাড়ি আদিবাসী খাসিয়া সম্প্রদায় পাহাড় দখল করে প্রাকৃতিক বনায়ন ধ্বংস করে গাছের মাথা কেটে পান চাষ করায় হুমকির মুখে পড়েছে কালাপাহাড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও বনায়ন।

দুই দশক থেকে আটকে থাকা মুরাইছড়া ইকোপার্ক কালাপাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। এই পাহাড়ের বৈচিত্র্য পরিবেশ মানুষের নজরকাড়লেও আদিবাসী খাসি জনগোষ্ঠীর বিরোধিতায় আলোর মুখ দেখেনি মুরাইছড়া ইকোপার্ক প্রকল্প।

ট্রাভেলার গ্রুপ অব কর্মধার গাইড ইন্তাজ আলী জানান, এক সময় আমাদের রুটি রুজির একমাত্র অবলম্বন ছিলো লংলা পাহাড়। এখানে কয়েকটি বাঁশ মহাল ছিলো। প্রচুর জ্বালানি কাঠ পাওয়া যেতো। এখন অল্প জায়গা ব্যতীত সব জায়গাই পাহাড়ি খাসি সম্প্রদায়ের দখলে। এখানে কয়েকটি ঝর্ণা রয়েছে। এগুলো সংরক্ষণ করতে পারলে পাহাড়ে পর্যটকদের বিপুল সমাগম হবে।

ট্রাভেলার গ্রুপ অব কর্মধার সদস্য আক্তার হোসেন জানান, কালাপাহাড়ে ছোট বড় অনেকগুলো ঝর্ণা রয়েছে। সরকারের পৃষ্টপোষকতা পেলে এবং যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন করা গেলে এ পাহাড় অপার সম্ভাবনাময় একটি পর্যটন সিরিজ হতে পারে।

ট্রাভেলার গ্রুপ অব কর্মধার সমন্বয়ক প্রদীপ কুমার সিংহ জানান, আমরা প্রকৃতির টানে একঝাঁক তরুণ বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করি। আজ কালাপাহাড়ে এসেছি। এখানে প্রাকৃতিক পরিবেশের পাশাপাশি আকর্ষণীয় অনেকগুলো জলপ্রপাত রয়েছে। এগুলো দেখার পর পাহাড় ভ্রমণের ক্লান্তি দূর হয়ে যায় এবং পাহাড় ভ্রমণের অনুপ্রেরণা জোগায়।

জাহাজমারা ঝর্ণা ভ্রমণ করে আব্দুল আজিজ নামে এক পর্যটক বলেন, বয়সের চাপ থাকা সত্ত্বে প্রকৃতির টানে কর্মধার কালাপাহাড়ে ছুটে এসেছি। এখানে আসার মতো সড়ক পথের কোন ব্যবস্থা না থাকায় অনেক কষ্ট হয়েছে। কিন্তু ঝর্ণাগুলোর ছন্দময় পানির ধ্বনিতে সবধরনের ক্লান্তি দূর হয়ে গেছে। এখানে সরকারের পৃষ্টপোষকতা প্রয়োজন। যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত হলে পর্যটনখাত সমৃদ্ধ হবে।
কর্মধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ রহমান আতিক বলেন, কর্মধার কালাপাহাড় অনেক গুণে গুণান্বিত, পাহাড়ের চূঁড়া থেকে হাকালুকি হাওর দেখা যায়। এখানে অনেকগুলো ঝর্ণা রয়েছে। যার সৌন্দর্য্যে আকৃষ্ট হয়ে পাহাড়ি দূর্গম পথ অতিক্রম করে পর্যটকরা এখানে ছুটে আসে। কালাপাহাড়কে পর্যটনকেন্দ্র ঘোষণা করে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও যাতায়াতের সুব্যবস্থা করতে সরকারের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি।

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান বলেন, মৌলভীবাজার সমগ্র জেলার প্রকৃতিই পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। কর্মধার কালাপাহাড়ের ৭টি ঝর্ণায় যাতে পর্যটকরা যেতে পারে আমরা কুলাউড়া উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সে ব্যবস্থা করবো। আমাদের দিক থেকে সর্বোচ্চ সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পরবর্তী খবর পড়ুন : তিনিই আমীরুল

আরও পড়ুন

ইসলামী শ্রমনীতি প্রতিষ্ঠা হলে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে

        ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সদস্য...

লকডাউন

          তাবেদার রসুল বকুল :...

বঙ্গবন্ধু টি টোয়েন্টি কাপ শেষ শফিউলের

        সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক ইনজুরির কারণে...

সিলেটয কল্যাণ পরিষদ নেতৃবৃন্দের বাজার মনিটরিং

        সিলেট জেলা ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ...