কাফনে মোড়ানো রায়হানের মুখ, আত্মীয়-স্বজনের বুকফাটা আর্তনাদ

,
প্রকাশিত : ১৫ অক্টোবর, ২০২০     আপডেট : ১ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক::কাফনে মোড়ানো আদরের বড় ছেলে রায়হানকে বুকফাটা আর্তনাদে আরেকটা বার দেখলেন মা সালমা বেগমসহ আত্মীয় স্বজনরা। কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না আদরের মানিক দুনিয়ায় নেই। ছেলের লাশ পুনরায় ময়না তদন্তের জন্য কবর থেকে তোলা হলে পাশে থাকা নবাবী মসজিদ সংলগ্ন একটি ভবন থেকে অবাক চোখ দিয়ে লাশ উত্তোলন দেখেন রায়হানের পরিবারসহ আত্মীয়স্বজন। আহাজারিতে পুরো পরিবেশটাই ভারী হয়ে উঠে।

এসময় লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণের পূর্বে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। গ্রামবাসী সবাই কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্বজনরা হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন।

লাশ উত্তোলনের পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সিলেট জেলা পুলিশ সুপার খালেকুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে রায়হান নামের এক যুবকের লাশ তুলা হয়েছে। লাশ তুলার পর সুরতহাল করা হয়। এরপর ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে লাশ পাঠানো হয়। সেখানে মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের পর তার ময়নাতদন্ত করা হবে।

তিনি আরও জানান, পুলিশ এই হত্যা মামলায় অজ্ঞাতদের গ্রেফতার করার জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া তদন্তকালিন সময়ে যাদের সংশ্লিষ্টতা পিবিআই পাবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

পুণরায় ময়না তদন্তের জন্য রায়হানের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের আবেদন করেছিলেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল বাতেন।

তার আবেদনের প্রেক্ষিতেই রায়হান আহমদের মরদেহ কবর থেকে তোলার অনুমতি দেন জেলা প্রশাসক।

পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে বর্তমানে এই মামলাটির তদন্ত করেছে পিবিআই। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) রাতেই এই মামলার নথি পিবিআই’র কাছে হস্তান্তর করে এসএমপি।

উল্লেখ্য- রোববার (১২ অক্টোবর) পুলিশ জানায়, রায়হান উদ্দিন আহমদ সিলেট নগরীর কাষ্টঘর এলাকায় ছিনতাই করতে গিয়ে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন । পরে তাকে উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বলে জানানো হয়। কিন্তু রায়হানের শরীরে বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। তার হাতের নখও উপড়ানো ছিল। এ ঘটনার পর পুলিশের বিরুদ্ধে পরিবারের অভিযোগ ওঠে রায়হান পুলিশের নির্যাতনে মারা যায়।

এই ঘটনায় বন্দর বাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ ৪জনকে সাময়িক বরখাস্ত ও ৩ জনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে ।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

জালালাবাদ যুব কল্যাণ সংস্থার নবনির্বাচিত কমিটির পরিচিতি সভা

        সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: জালালাবাদ যুব...

মেরিন একাডেমিতে চাকরি

        বাংলাদেশ মেরিন একাডেমিতে দুই পদে...

ফাইজারের ১০ লাখ টিকা আসছে

        পূর্ব ঘোষণা থাকলেও গতকাল সোমবার...