কানাইঘাট, জৈন্তাপুর, কোম্পানীগঞ্জ ও ছাতকেও মানুষ পানিবন্দি সিলেটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

Alternative Text
,
প্রকাশিত : ২৭ জুন, ২০২০     আপডেট : ১ বছর আগে
  • 478
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    478
    Shares

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সিলেটের সবকটি নদীর পানি বেড়ে চলেছে। সুরমা ও সারি নদীর পানি বিভিন্ন পয়েন্টে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া কুশিয়ারা নদীর সবকটা পয়েন্টে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার কাছাকাছি রয়েছে। এদিকে, কানাইঘাটে সুরমা ও জৈন্তাপুরে সারি নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় সেসব এলাকায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অনেক স্থানে সড়ক ও গ্রামীণ রাস্তা প্লাবিত হয়েছে। কোথাও কোথাও বাড়ি-ঘর, মাছের ঘের তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গোয়াইনঘাট উপজেলায় অধিক বর্ষণে গোয়াইনঘাট-জাফলং সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি উঠে যাওয়ায় যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এছাড়া সারি ও পিয়াইন নদী দিয়ে বিপদসীমার উপরে পানি প্রবাহিত হওয়ায় উপজেলার অধিকাংশ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আমাদের গোয়াইনঘাট সংবাদদাতা। এতে কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছে পড়েছেন বলে জানান তিনি। এদিকে, সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাড়িÑঘর, গ্রামীণ সড়ক, বীজতলা তলিয়ে গেছে। এছাড়াও জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, ছাতক উপজেলায়ও পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন আমাদের উপজেলা সংবাদদাতারা। এদিকে, বৃষ্টি আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া বিভাগ সিলেটের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী। এতে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে বলে শঙ্কাও করছেন স্থানীয়রা। এদিকে, বন্যা মোকাবেলায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা এনডিসি (নেজারত ডেপুটি কালেক্টর) মো. এরশাদ মিয়া। তিনি জানান, প্রতিটি উপজেলায় ত্রাণ মজুদ আছে। আজ শনিবার তারা আরো বরাদ্দ দিবেন। সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কোন চাহিদা পাঠালে বরাদ্দ দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

হাইড্রোলজি বিভাগ জানিয়েছে, সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ২৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এই পয়েন্টে পানির বিপদসীমা ১২.৭৫ সেন্টিমিটার। এছাড়া, সন্ধ্যা ৬টায় জৈন্তাপুরে সারিঘাটে সারি নদীর পানি বিপদসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সিলেটে সুরমা এবং আমলসিদে শেওলা ও কুশিয়ারা বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পাউবো জানায়, প্রতিটি পয়েন্টে পানির উচ্চতা পূর্বের চেয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এছাড়াও ছাতকে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৭৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে, চো নদীর পানি ১শ’ সেন্টিমিটার এবং পিয়াইন নদীর পানি ১২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া অফিস সিলেটের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী বলেন, সিলেটে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের তুলনায় এখনো বৃষ্টি কম হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৪৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। যেখানে বৃষ্টি হওয়ার কথা ৮৩৫ মিলিমিটার। আগামী কয়েক দিন এভাবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। তারপর কিছুটা কমে আসবে। তবে ১, ২ ও ৩ জুলাই ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের গোয়াইনঘাট, জৈন্তা, কানাইঘাট, সুনামগঞ্জ সদর, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, ছাতক এবং এর উজানে ভারতীয় এলাকায় বৃষ্টি বেশি হবে। তাই এসব এলাকায় বন্যা দেখা দিতে পারে। পাউবো সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ শহীদুজ্জামান সরকার বলেন, সুরমা ও সারি নদীর দুটি পয়েন্টে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। বৃষ্টিপাত আরো বৃদ্ধি পাবে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে। যেকোন সময় যেকোন প্রয়োজনে কাজ করতে পারবে।


  • 478
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    478
    Shares

আরও পড়ুন

অবিলম্বে ফিলিস্তিনে হামলা ও হত্যা বন্ধ করতে হবে: বাসদ

           ফিলিস্তিনে ইসরায়েলী হামলা ও...

এলাকার উন্নয়নে আজীবন কাজ করে যাব… ইমরান এমপি

         মনজুর আহমদ, গোয়াইনঘাট থেকোঃ সরকারের...

প্রাণাধিক প্রিয়নবীর শুভাগমন ঈদে আজম উদযাপন উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা ও সমাবেশ

197        197Sharesসিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক দয়াময় আল্লাহতাআলার...