কাউন্সিলর সেলিমের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করলেন যুবলীগ নেতা জাকির

Alternative Text
,
প্রকাশিত : ২৩ জানুয়ারি, ২০১৯     আপডেট : ৩ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সিলেট নগরীর ২২ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর, আওয়ামী লীগ নেতা এডভোকেট সালেহ আহমদ সেলিমের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলেছেন উপশহর মহানগর ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতাকালীন সদস্য, বর্তমানে মহানগর যুবলীগের সদস্য জাকিরুল আলম জাকির।

বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার অর্ন্তগত ৪ নং কুচাই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী এই যুবনেতা বুধবার সিলেট প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে উপশহরে সন্ত্রাসের জন্য কাউন্সিলর সালেহ আহমদ সেলিমকে দায়ী করে বলেছেন, শুধু সন্ত্রাস চাদাঁবাজি নয়, তাঁর অবাধ্য হলেই নিজ দলের কর্মীদেরকের মিথ্যা মামলা হামলা দিয়ে বিপর্যস্ত করে তুলেন। যে নির্যাতনের শিকার তিনিও।

জাকির তার লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করে বলেন, আমার প্রাণপ্রিয় এই সংগঠন আওয়ামী লীগের পরিচয়ে বির্তকিত ব্যক্তি এডভোকেট সালেহ আহমদ সেলিমের গ্রুপবাজীর কূটকৌশলে পড়ে বিপন্ন হতে যাচ্ছে আমার মতো দলের অনেক নিবেদিত কর্মী-সমর্থকের। কোমলমতি অনেক রাজনৈতিক কর্মীর স্বাভাবিক জীবন এখন নাভিশ্বাস। মিথ্যা হামলা মামলায় তারা দিকবিদিক, দিশেহারা। ফরমায়েসী মিথ্যা ঘটনায় দায়েরকৃত এ মামলার পাহাড়ে চরম হতাশাগ্রস্ত আগামীর ভবিষ্যত এই রাজনীতিক নেতাকর্মীরা।

জাকির বলেন, নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে আইনশৃংখলা পরিস্থিতিসহ সার্বিক বিবেচনায় ২২ নং ওয়ার্ডের শান্তি-শৃংখলা এখন হুমকির মুখে। নিরাপত্তা নিয়ে এখানকার মানুষ উদ্বিগ্ন। খুন-রাজাহানি-ছিনতাই-ডাকাতি-চাঁদাবাজি-মাদক ব্যবসার নিরাপদ জোনে পরিণত হয়েছে এই ওয়ার্ডটি। যেমন খুশি তেমন ভাবে চলছে। অপরাধ ও অপরাধীদের সাথে সালেহ আহমদ সেলিমের প্রত্যক্ষ পরোক্ষ সর্ম্পক ওপেন সিক্রেট। তার প্রতিপক্ষ হলে, যেকোন সময় মায়ের বুক খালি হয়ে যায়। আর্তনাদ আর বুক চাপা অসন্তোষ নিয়ে অনেকে এই এলাকা ছাড়ছে, কেউ বা বাধ্য হচ্ছে পরিবেশ পরিস্থিতি মোকাবেলা করে বেঁচে থাকার। সেলিমের বলয় ছাড়লেই নির্ঘাত জীবনের ঝুঁকিতে পড়তে হবে তাকে।

লিখিত বক্তব্যে তিনি তাকেসহ দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর মামলায় জড়ানোর প্রমানাদি উপস্থাপন করে বলেন, দলের নিবেদিত নেতাকর্মীদের মামলার গ্যাঁড়াকলে ফাঁসিয়ে ধ্বংস করতে চাইছেন আদর্শচ্যুত এই কাউন্সিলর সেলিম। মামলায় ভাড়াটিয়া বাদি সাজিয়ে, গোপনে প্রকাশ্যে মদদ দিয়ে বা জোর করে ভয় দেখিয়ে, কখনো অর্থের বিনিময়ে বাদী করছেন। মামলাবাজিতে লিপ্ত রয়েছেন পর্দার আড়ালে বসে তিনি। মোট কথা ‘সাপ হয়ে দংশন করছেন, ঔঝা হয়ে ঝারছেন তিনি‘। আবার আপোষের নামে মধ্যস্থতা করে আর্থিক ধান্ধার প্রমানাধি রয়েছে একাধিক তার বিরুদ্ধে। উপশহরের মামলার বাস্তবতা পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, বিগত সময়ে বিএনপি বা জামায়াতের বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে কোন হামলা বা মামলার ঘটনা ঘটেনি। বরং তাদের সাথে সখ্যতা বজায় রেখে, নিজ দলের কর্মী সমর্থকদের হামলা-মামলায় তটস্থ করে তুলে নিজে অট্রহাসিতে মত্ত।

জাকির তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি মামলার তথ্য তুলে ধরে বলেন, ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে শাহপরান (রহ.) থানায় মামলা নং-৩ রুজু করেন উপশহরের ব্যবসায়ী মার্জিয়া বেগম রুমা (৪২)। কথিত ঘটনায় উপশহরের তার ব্যবসা প্রতিষ্টান (ওয়ান টু হান্ড্রেড) ভাংচুর, লুটপাট ও চাঁদাবাজি ঘটনায় এই মামলা দায়ের করেন রুমা। এ মামলায় আসামী করা হয় আমিসহ দলের ১৬ জন নেতাকর্মীকে। এজহারের বর্ণিত ঘটনার সাথে আমার কোন সর্ম্পক্ততা ছিল না।

জাকির জানান, এই মামলার বাদী রুমা বেগমের সাথে একপর্যায়ে যোগাযোগ করে আমাকে জড়ানোর কারন উদঘাটনে সফল হই। কোনরূপ জড়তা না রেখেই, রুমা আমাকে জানান, ২ লাখ টাকার প্রলোভনে পড়ে তিনি এ মামলায় আসামী করেছেন আমাকে। যদিও মাত্র ৪৭ হাজার টাকা তাকে প্রদান করেন কাউন্সিলর সেলিম। শুধু এখানেই শেষ নয় উপশহরে এবিসি পয়েন্টে কথিত হত্যার উদ্দেশ্যে মারামারি ঘটনায় ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর মামলা (নং-১৪) দায়ের করে জনৈক রায়হান আহমদ (২২)। সে সুনামগঞ্জ দিরাইয়ের বাসিন্দা। এই মামলায় আমাকে প্রধান আসামী করে ১০জনের মামলা দায়ের করা হয়। এই মামলার আসামীদের তালিকায় ১০ নম্বরে রয়েছে তেররতনের জাহেদ। সম্প্রতি সালেহ আহমদ সেলিম বলয়ের অনুসারী রাহাতের ছুরিকাঘাতে সে খুন হয়। সম্প্রতি রায়হান আহমদ নিজেই হঠাৎ করে আমাকে ফোন করে কথোপকথনের এক পর্যায়ে জানায়, আমার বিরুদ্ধে রুজুকৃত মামলার ব্যাপারে সে কিছুই জানে না। এছাড়া তেররতন বাজারে কথিত প্রেমের ঘটনাকে কেন্দ্র ১৩ মার্চ ২০১৮ইং সশস্ত্র সজ্জিত হয়ে গতিরোধ ও হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি ও জখম, হুকুমের অপরাধে মামলা নং- ১২ দায়ের করা হয় শাহপরান (রহ.) থানায়। এই মামলার বাদি তেররতনের মালিক মিয়ার কলোনীর বাসিন্দা মিন্নত (২৮)। এই মামলায় আমাকে প্রধান করে ১৩জনকে আসামী করা হয়। যদিও এই মামলার ব্যাপারে আমার কোন ধরনের সংশ্লিষ্টতা ছিল না। কিন্তু সালেহ আহমদ সেলিমের রোষানলের পড়ে তার নেপথ্য ভূমিকায় এই মামলায়ও আসামী আমি। মামলার বাদি নিজেই স্বীকার করেছে সে নিজেই জানে না কিভাবে অভিযোগ লেখা হয়, কাদের আসামী দেয়া হচ্ছে।

যুবলীগ নেতা জাকির এ সব ঘটনার সুষ্টু তদন্ত ও সন্ত্রাসী তৎপরতা বন্ধ এবং মিথ্যা মামলায় হয়রানী বন্ধের মাধ্যমে উপশহরে শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। সেই সঙ্গে কাউন্সিলর সেলিমের কবল থেকে যুবলীগ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের রক্ষার আহবান জানান। এসময় তার সঙ্গে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

গোয়াইনঘাটে প্রবাসী পরিষদের উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী বিতরণ

        গোয়াইনঘাট (সিলেট) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতাঃ...

ইয়াবাসহ দুই মাদকব্যবসায়ী আটক

        সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: সিলেট নগরীতে...

নাত্নি ও নানুভাই

        এম.আশরাফ আলী: নাত্নি বলে ও...