কলেজছাত্র অপহরণ মামলার আসামিদের বাঁচাতে ভুয়া অপহরণ মামলা

,
প্রকাশিত : ২৭ জানুয়ারি, ২০২১     আপডেট : ১ মাস আগে
  • 100
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    100
    Shares

গ্রাম্য সালিশে সাক্ষি না দেয়াতে সিলেটের মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজের ছাত্র নজির আহমদ মোজাহিদকে অপহরণ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় তার বড়ভাই বাদী হয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের জালালাবাদ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। ওই মামলায় পুলিশ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রও দাখিল করেছে। তবে এ আসামিদের বাঁচাতে বড়ফৌদ গ্রামের মৃত শুকুর উল্লার ছেলে নুর উদ্দিন উল্টো নিজের ছেলে অপহরণ হয়েছে দাবি করে জালালাবাদ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। আর ওই মামলায় মোজাহিদ এখন কারাগারে।
বুধবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব কথা বলেন মোজাহিদের বাবা সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ থানাধীন শিবেরবাজার বড়ফৌদ গ্রামের ফয়জুল হক। তিনি কথিত ওই অপহরণ মামলার উৎপত্তির বিষয়ে অবগত করতে এবং ন্যায় বিচারের প্রত্যাশা নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে হাজির হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। একই সাথে তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবিতে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি অনুরোধও করেছেন।
তিনি সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, ‘গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে একই গ্রামের মুসলেহ উদ্দিন তার ছেলে মোজাহিদের কাছে টাকা পান দাবি করে বড়ফৌদ পশ্চিম পাড়া গ্রামে মসজিদের মক্তব ঘরের পাশে ভুয়া সালিশ বৈঠক বসান। একই এলাকার রাজা মিয়া তাকে ডেকে নেয়। সেখানে আগে থেকে উপস্থিত ছিলেন একই এলাকার রফিকুল ইসলাম মোড়ল, আফতাব উদ্দিন, আব্দুর রহিম বাবু, বশির, সুরুজ আলী, সুবহান, সুনান, ইছমত, খালিক, মুহিবুর রহমান, আনিছুর রহমান আয়নিছ, আয়নুল হক, নুর মিয়া, সুরুজ আলী, রাজা মিয়া ও সিরাই। নামে সালিশ হলেও তাদের সবাই অস্ত্রহাতে অপেক্ষা করছিল।’
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘ওই বৈঠকে মোজাহিদ যাওয়া মাত্র তারা ঘেরাও করে মারধরের পর হাওর এলাকায় নিয়ে হত্যার জন্য নির্দিষ্ট করা লোক মুহিব, আয়ানিছ ও খালিকের হাতে তুলে দেয়। পরে তাকে নিয়ে তারা চেঙ্গেরখাল শাখার ভাদেশ্বর নদী তীরে নেয়। উদ্ধারের পর মোজাহিদের ভাষ্যমতে তাদের সঙ্গে হত্যার জন্য ছুরি ছিল, গুম করার বস্তাও সঙ্গে নেয়। সেখানে একজন মাটিতে গর্ত করছিল। অন্য দুইজন তার কোমনে লুঙ্গীতে ধরা ছিল। এমতাবস্থায় এক জনের মোবাইলে ফোন আসলে কিছু দূরে গিয়ে কথা বলতে থাকাবস্থায় লুঙ্গি রেখে নদীতে ঝাঁপ দেয় মোজাহিদ। পরক্ষণে তারাও নদীতে ঝাপ দিলেও হত্যার চেষ্টাকারীরা সাঁতারে তার সঙ্গে পেরে ওঠেনি। নদী পর হয়ে সে ইউনিয়নের দখড়ি গ্রামে মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমানের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে প্রাণ বাঁচায়।’
তিনি বলেন, এ ঘটনায় মোজাহিদের বড়ভাই বশির আহমদ জালালাবাদ থানায় ৭ জনের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৯/১০ কে আসামি করে অপহরণ মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় আদালতেও জবানবন্দি দিয়েছে মোজাহিদ। মামলার প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্টতায় ১৪ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। এর আগে গত ৬ অক্টোবর মামলার সাত আসামিকে রিমা-ে নেয় পুলিশ। ১৯ জানুয়ারি পলাতক আরো ৮ আসামি জামিন নিতে আদালতে হাজির হলে বিচারক তাদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করেন। আর এই কারণেই আসামিরা প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে বদলা নেয়ার চেষ্টা করে।’
তিনি বলেন, ‘১৯ জানুয়ারি বিকেলে মুসলেহ উদ্দিনকে নগরের আম্বরখানায় পেয়ে জনতার সহায়তায় পুলিশের হাতে তুলে দিতে চেষ্টা করে মোজাহিদ। কিন্তু প্রতিপক্ষ ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে তাকে অপহরণকারী বলে ফাঁসানোর চেষ্টা করে। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্যকেও ফোনে জানায়। কিন্তু এসএমপির এয়ারপোর্ট থানাধীন আম্বরখানা ফাঁড়ি পুলিশ তাদের দু’জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এয়ারপোর্ট থানায় মুসলেহ উদ্দিনকে ছাড়াতে আসেন নুর উদ্দিন গংরা। ওইদিন রাতে মোজাহিদের উপর অপহরণ মামলা দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু মিথ্যা অপহরণের ঘটনায় মামলা দায়েরের চেষ্টা করলেও এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ মামলাটি না নিয়ে তাদের দু’জনকে মারামারির ঘটনা দেখিয়ে আদালতে চালান দেয়। ওইদিন সন্ধ্যায় নজির আহমদ মোজাহিদকে আমরা ছড়িয়ে আনি। পক্ষান্তরে অভিযুক্ত পক্ষের লোকজন মুসলেহ উদ্দিনকে ছাড়িয় নিয়ে যায়।’
তিনি আরও বলেন, এরপরদিন ঘটনাস্থল বদলিয়ে মোজাহিদ অপহরণ মামলার আসামি মুহিবুর ও আনিছুরের চাচাতো ভাই বড়ফৌদ গ্রামের মৃত শুকুর উল্লার ছেলে নুর উদ্দিন জালালাবাদ থানায় অপর একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় তিনি তার ছেলে আজাদ হোসেন (১৯) কে অপহরণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন।’
তিনি বলেন, ‘তার ছেলের দায়ের করা অপহরণ মামলার আসামিদের অর্থলোভে পড়ে নুর উল্লাহ নিজের ছেলেকে আত্মগোপনে রেখে তাদের বিরুদ্ধে থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেছেন। কিন্তু পরে পুলিশের কাছে ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে নিজেই ফোন করে থানায় জানিয়েছেন, তার ছেলেকে পাওয়া গেছে। ছেলে নাকি তাকে ফোন করে জানিয়েছে, কে বা কারা তাকে রেখে গেছে।’
তিনি ওই মামলার বাদি নূর উদ্দিনকে একজন চতুর প্রকৃতির এবং টাকার বিনিময়ে মামলার বাদি হওয়া লোক বলে দাবি করেন। এর আগেও বিভিন্ন জনের হয়ে মামলা করে পরবর্তীতে টাকার বিনিময়ে আপোষে মামলা তুলে নেয়ার রেকর্ড তার বিরুদ্ধে আছে বলেও উল্লেখ করেন।


  • 100
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    100
    Shares

আরও পড়ুন

মরুভূমির হাতছানি

7        7Sharesমুহিউল ইসলাম মাহিম চৌধুরী :...

ফররুখ জন্ম শতবার্ষিকী র‌্যালি ১ জুন শুক্রবার

         নিজস্ব প্রতিবেদক: জাগরণের কবি ফররুখ...

ইয়াবার টাকা না পেয়ে মাকে খুন করল মাদকাসক্ত মেয়ে

5        5Sharesবাঞ্ছারামপুরে ইয়াবা কেনার টাকা না...

ফয়সল আহমদ চৌধুরীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ...