কলঙ্কিত এক রাত, কি হারিয়েছে বাংলাদেশ

প্রকাশিত : ২৯ মে, ২০২০     আপডেট : ১ মাস আগে

মোঃ নিজাম উদ্দিন  রক্তাক্ত এক রাত, নীভে গেল এক মহান নেতার জীবন প্রদীপ, দিকভ্রান্ত সংগ্রামী জাতি। হতাশায় নিমজ্জিত মাত্র কিছুদিন আগে জন্ম নেওয়া একটি স্বাধীন রাষ্ট্র এবং তার নাগরিক।
কত গৌরব সৌরভে মানুষ ছিল কর্ম চঞ্চল, নতুন জন্ম নেওয়া একটি রাষ্ট্রের গৌরবের স্বাধীন পতাকা পথ পথ করে উড়ছিল দূদান্ত প্রতাপে বিশ্ব সভায়। যে পথাকা বহন করে একজন সফল রাষ্ট্র নায়ক বিশ্ববাসীকে বিস্মিত করে দেশকে নিয়ে যাচ্ছিলেন অনন্য উচ্চতায়, তিনি ছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহান। মুসলিম বিশ্বের কাছে তিনি ছিলেন ধূমকেতুর ন্যায় এক মহা তারকা, এক আলোকবর্তীকা, তিনি ছিলেন সত্যিকার নিখাঁদ দেশপ্রেমিক একজন মহান নেতা। তাঁর সততা মেধা বিচক্ষণতায় অন্তর জ্বালায় পুড়েছিল অন্য অনেক দেশের অনেক রাষ্ট্র প্রধান, তাঁর আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তায় ইর্ষান্বিত হয়ে থাকে নিঃশেষ হত্যা করার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল দেশ বিদেশের বহু জায়গায়।
অন্য সব দিনের মতোই সেই দিনটি শুরু হয়েছিল। মোয়াজ্জিনের আজানের ধ্বনি মানুষকে জাগিয়ে তুলেছিল অন্যান্য দিনের মতোই। পাখির কলকাকলি ভোরের নিস্তব্ধতাকে কাটিয়ে একটি দিবসের – বার্তা ঘোষণা করেছিল। অন্যান্য দিনের মতো যে যার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে কর্মচঞ্চল মানুষের মনে সবার চোখে স্বনির্ভর বাংলাদেশের সজীব ছবি। হৃদয়ে তাদের প্রিয় প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অনুপ্রেরণা।
তখনো কেউ জানেনা কি হৃদয় বিদারক লোমহর্ষক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে গেছে বাংলাদেশে। কেউ তখনো কল্পনাও করতে পারেনি তাদের জন্য কি ভয়াবহ দুঃসংবাদ অপেক্ষা করছিল। হঠাৎ বেতারে ভেসে এল সেই শোকাবহ দুঃসংবাদ। বাংলাদেশের আপামর জনতার প্রিয় স্বজন স্বাধীনতার মহান ঘোষক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আর নেই ! ৩০ শে মে রাতে সেনাবাহিনীর কতিপয় বিভ্রান্ত দুষ্কৃতিকারী সদস্য তাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। প্রেসিডেন্ট জিয়া ১৯৮১সালের ৩০শে মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে রাত ৩টা তখন মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল। নিঘুঢ় ঝড় আর বজ্রপাতের বিকট শব্দ উপেক্ষা করে অন্ধকার ভয়াল দূর্যোগপূর্ণ রাতে একদল দূবৃত্ত সেনা সৈনিক অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হত্যা করে।
রেডিও টেলিভিশনে এ খবর শুনে প্রথমে কারোরই বিশ্বাস হতে চায়নি। একবার দু’বার তিনবার একই ঘোষণা শুনলো দেশবাসী। কোটি মানুষ অশ্রুসিক্ত চোখে উচ্চারণ করলো “ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন”। মূহুর্তেই স্তব্ধ হয়ে গেল বাংলাদেশ। কৃষকের লাঙ্গল থেমে গেল, থেমে রাখালের বাঁশির সুর,বন্ধ হয়ে গেল মিলের চাকা। শ্রমিকের উত্তোলিত হাতুড়ি খসে পড়লো হাত থেকে। বিদ্যালয় থেকে সজল নয়নে বেরিয়ে এলো কোমলমতি কিশোর কিশোরীর দল। প্রিয় মানুষটির বিয়োগ ব্যথায় তাদের হৃদয়কে করে তুললো ক্ষতবিক্ষত। পাখির কোলাহল থেমে গেল,বাতাস যেন কোন অজানা পথে আটকে গেল,গাছের পাতা নড়ছিল না। সারাদেশ আচ্ছন্ন হয়ে পড়লো প্রিয় মানুষটির শোকে। মাত্র একজন মানুষের মৃত্যু গোটা বাংলাদেশকে সেদিন নিস্তব্ধ করে দিয়েছিল। তারপর শুরু হলো দেশবাসীর ক্রন্দন। যে মানুষটি এই দেশ এই দেশের মানুষের জন্য জীবনের সব চাওয়া পাওয়াকে তুচ্ছ করে ভোগ বিলাসিতাকে পদদলিত করে নিরলস ভাবে কাজ করে গেছেন,তাঁর এই শোকাবহ মৃত্যু মেনেনিতে পারেনি এদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষ। আর তাই সেদিন তার মরদেহ এলো রাজধানী ঢাকায়, শোকার্ত জনতার ঢল নেমেছিল। সেদিন একটি কফিনের পাশে যেন সমেবত হয়েছিল গোটা বাংলাদেশ। লাখ লাখ শোকার্ত মানুষ অশ্রুস্নাত হয়ে এদেশের বীর সন্তান জিয়াউর রহমান সেদিন শায়িত হয়েছিলেন তাঁর শেষ ঠিকানায়।
প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সেদিন বাংলাদেশে যে শোকের মাতম উঠেছিল তার পিছনে কারণটি কি ছিল? কেন এদেশের মানুষ একজন রাষ্ট্রপ্রধানের শাহাদাৎ বরণে এমন ব্যথাতুর হয়ে উঠেছিল। জিয়া কি জাদুমন্ত্রের বলে এদেশের আপামর জনতার হৃদয় জয় করে নিয়ে ছিলেন? না তিনি জাদুমন্ত্র জানতেন না। তবে তার কাছে জাদুর কাটি ছিল। যে জাদুর কাটির ছোঁয়ায় তিনি জাগিয়ে তুলেছিলেন একটি ঘুমন্ত জাতিকে। তাঁর সে জাদুর কাটির স্পর্শে জাতির ভিক্ষার হাত মূহুর্তেই পরিণত হয়েছিল কর্মীর হাতিয়ারে, দিশেহারা জাতিকে তিনি দিয়েছিলেন সঠিক পথের সন্ধান। যে পথ আত্ম মর্যাদায় বেঁচে থাকার, যে পথ স্বনির্ভর অর্জনের। যে পথ বিশ্ব সভায় মাথা উঁচুকরে আমরা 🇧🇩 বাংলাদেশি বলে পরিচয় দেয়ার। তিনি ছিলেন এদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের রক্ষক। স্বাধীনতার জন্য জীবনপণ লড়াই করতে তার দ্বিধা ছিলনা। জিয়াউর রহমানের মতো দেশপ্রেমিক পৃথিবীতে গন্ডায় গন্ডায় জন্মায়না। তিনি স্বল্প সময়ের জন্য এসেছিলেন বিশ্বকে জয় করে বিজলীর মতো চমকে দিয়ে অদৃশ্যে চলে গেলেন। দূর্ভাগ্য আমাদের, তার দেশপ্রেম মহৎ চিন্তা নিচু জাতের দুষ্কৃতকারীরা ছোট মনে ধারণ করতে পারেনি বলে ক্ষতি হলো রাষ্ট্রের হিমালয়ের মতো অনেক স্বপ্ন।
আফসোস শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উদার মহত্ত্বে তাঁর কল্যাণে যারা এমপি মন্ত্রী রাষ্ট্রপতি এমনকি দাপটে রাজনীতি করছেন তারা অনেকেই জিয়াউর রহমান নাম অর্জন সম্মান মুছে দিতে চেষ্টা কম করেননি।

বন্ধুরা, শহীদ প্রেসিডেন্ট বীর উত্তম জিয়াউর রহমানকে নিয়ে কিছু লেখার যোগ্যতা আমার নেই। তার পরও তাকে যতটুকু জেনেছি সামান্য লিখে মনের প্রশান্তি পাওয়া যায় না।
চট্রগ্রাম সার্কিট হাউসের সেই অবিশপ্ত ভবনে গিয়ে বার বার মন চায় তার সহজ সরল জীবনের প্রতিচ্ছবি দেখে আসি। কেমন করে কতটা প্রশান্ত নিশ্চিন্ত মনে তিনি ঘুমে ছিলেন? সেই ভবনের বুলেটবিদ্ধ ক্ষত চিহ্নের দিখে থাকালে মনে হয় এখনও তার শরীর থেকে রক্তঝরছে ঝর্ণাধারায়। সেখানে গেলে শুধুই অনুভব হয় তিনি দেশটাকে কতটা ভালোবাসতেন নিজের মতো করে।
তাঁর লাগানো বাংলার জমিনে সবুজ ধানের চারা সোনালী ধানে আজ আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার কথা থাকলেও। সঠিক পরিচর্চার অভাবে ধানে অনেক পোঁকা ধরেছে, আর যেটুকু ভালো আছে তাও তাদের কড়া নজরদারিতে।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকীর এই দিনে হৃদয়ের সবটুক ভালোবাসা শ্রদ্ধা দিয়ে তাকে স্মরণ করছি, বিনম্র শ্রদ্ধা জানাচ্ছি তাঁর স্মৃতির প্রতি।
রাজনীতির পথ পদর্শক হিসেবে তিনিই আমার আদর্শ শিক্ষক। তিনি ঘুমিয়ে আছেন ঢাকার জিয়া উদ্যানে, জেগে আছেন দেশর ১৬ কোটি মানুষের হৃদয় মনে।

## মোঃ নিজাম উদ্দিন, সাবেক চেয়ারম্যান
খুরমা (উত্তর) ইউনিয়ন পরিষদ, ছাতক।
যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি।

আরও পড়ুন