-করোনা যা কেঁড়ে নিয়েছে,তার চাইতে বেশি কিছু দিয়েছে। আমরা কি পেয়েছি?

প্রকাশিত : ১৮ জুলাই, ২০২০     আপডেট : ২ মাস আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

করোনা যতটা কেড়ে নিয়েছে তার চাইতে বেশি কিছু দেওয়ার চেষ্টা করেছে। হ্যাঁ করোনা যুদ্ধে আমরা হারিয়েছি আমাদের অনেক শ্রদ্ধেয় প্রিয়জনকে। এই পৃথিবীর অনেক ভালো মহৎ নিরপরাধ মানবিক মানুষকে আমরা হারিয়েছি।অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতি হয়েছে পৃথিবীর শক্তিশালী প্রভাবশালী ব্যক্তি শিল্পপতি অজস্র শিল্প প্রতিষ্ঠানের,ক্ষতি হয়েছে অনেক দূর্নীতিবাজদের।ক্ষতি হয়েছে কম বেশি পৃথিবীর সকল মানুষের। হ্যাঁ পৃথিবীর নিম্ন আয়ের মানুষদের দুঃখ কষ্ট মানসিক যন্ত্রণা একটু বেশি ছিল।প্রায় সকল দেশের সরকার প্রধান রাষ্ট্র পরিচালনায় আছেন প্রচন্ড মানসিক চাপে। এই বৈশ্বিক মহামারি মোকাবেলায় অনেক দেশের সরকার প্রধান হয়েছেন নন্দিত প্রশংসিত,অনেক হয়েছে চরম ভাবে নিন্দিত ধিকৃত।একটু ভেবে দেখুন প্রিয় বাংলাদেশ কেমন আছে, সরকার কি পেয়েছে?

যাক,করোনা প্রথমতঃ যা দিয়েছে,এই বৈশ্বিক মহামারি দুঃসহ পরিস্থিতিতে সমস্ত পৃথিবীর সকল রাজা বাদশা সুলতান রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী,এমপি অন্যান্য জনপ্রতিনিধি বিত্তশালী ধনবান,উচু নিচু,ধনী গরীব,জ্ঞানী গুণী,ধর্ম বর্ণ,সকলের জন্য স্ব স্ব ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনের পরীক্ষার সুযোগ দিয়েছে। কার পারফরম্যান্স কতটা ছিল বিশ্ববাসী প্রতিবেশী স্বাক্ষী থেকেছে,মানুষ মূল্যায়ন করছে তাদের কৃতকর্মের পুরস্কার। নিশ্চয়ই অতি গোপনে পরীক্ষা নিয়েছেন মহান আল্লাহ,শুধু দেখেছে উপলব্ধি করেছে পৃথিবীর মানুষ। করোনা শিক্ষা দিয়েছে, পবিত্র কোরআন শরীফ হল সমস্ত বিজ্ঞানের রসদ। পবিত্র কোরআন শরীফ হলো যে কোন দূর্যোগ সংকটে সমাধানের শেষ ঠিকানা। কারণ হাজার বছর আগে পবিত্র কোরআন শরীফ যখন নাজিল হয় পরবর্তী পৃথিবীর সমস্ত মানুষের জন্য করণীয় পালণীয় বিষয়াবলি নির্ধারিত,নির্ভূল লিপিবদ্ধ করে রাখা হয়েছে তাতে। বিজ্ঞানী বিশেষজ্ঞরা আজ আবিষ্কার করেছেন পবিত্র কোরআন শরীফই হলো পুরো বিশ্ববাসীর জন্য একটি উত্তম কল্যাণগ্রন্থ,বিশ্ববাসীর জীবন পরিচালনার নির্দেশনা আছে সেখানেই।
করোনা জানিয়েছে আমাদের বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা সাল্লালাহুআালইহি ওয়াসাল্লামের জীবন ব্যবস্থায়ই উত্তম,তা পৃথিবীর সকল মানুষকে অনুস্মরণ করতে হবে,সবার জন্য তা হবে কল্যাণকর।এই বৈশ্বিক মহামারিতে পৃথিবীর কোন রাষ্ট্র প্রধান কিন্তুু হযরত ওমর (রাঃ),বা হযরত ইউসুফ (আঃ) এর মতো রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারেন নি,করোনা পৃথিবীর সমস্ত মানুষকে এই শিক্ষা দিয়েছে।

করোনা দ্বিতীয়তঃ যা দিয়েছে, প্রতিটা মানুষকে স্বামী স্ত্রী সন্তান পরিবারকে সময় দেওয়ার পর্যাপ্ত সুযোগ দিয়েছে,যা আগে অনেকের জীবন সংসার খুব অগোছালো ছিল। অনেকজন প্রতিদিন ছিলেন কত অনৈতিক খারাপ কাজ পাপাচার ব্যবিচারে লিপ্ত,তা থেকে বিরত থেকেছেন, থেকেছেন সবাই সব সময় নিজ ঘরে। যুদ্ধ সংগ্রাম স্বার্থের খেলা লোভ লালসা থেকে সরিয়ে রেখেছে পুরো পৃথিবীকে।

করোনা তৃতীয়তঃ যা দিয়েছে, পৃথিবীতে ক্ষমতার দম্ভ দূর্ণীতি যথেষ্ট সংকোচিত করেছে।সৎ পবিত্র হওয়ার সংকেত দিয়েছে বিশ্ববাসীকে,মৃত্যুর ভয় দেখিয়েছে বিশ্বের সমস্ত মানুষ এবং বিশ্ব মোড়লদের। সুযোগ দিয়েছে নিজেকে পরিবর্তন করার,তাই অনেক মানুষ হয়েছে মানবিক।দান খয়রাতের সুযোগ সব সময় সব রাষ্ট্র অঞ্চলে সকলের জন্য হয় না,সে সুযোগ দিয়েছে সবার জন্য এক সাথে উন্মুক্ত করে। মোক্ষম সুযোগ ছিল মুসলমানদের জন্য অনেক বেশি।নিজেকে পরিবর্তন করতে না পারলে করোনার দুঃখ হতেই পারে।পরিবর্তনের প্রচুর সময় সুযোগ সে আমাদের দিয়েছে।আমরা এই সময়ে কি কাজে, কেমন করে সময় কাটাবো,সিদ্ধান্ত নিতান্তই নিজেকে নিতে হয়েছে।
করোনা নিশ্চয়ই আমাদেরকে ঘরে রেখে অধিক ভালো মহৎ কাজে মনোনিবেশ করার প্রচুর সময় দিয়েছে। সত্যি এই কয় মাসে মনে হয়ে হয়েছে আমরা ছাড়া পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ ভালো হয়েছে গেছে,হত্যা খুনাখুনি ডাকাতি ছিনতাই যুদ্ধ সংগ্রাম পৃথিবীর কোথাও ছিল না,হলেও হিসেবে খুবই কম ছিল।
পবিত্র কোরআন শরীফকে হারিয়েছিলাম প্রায় ত্রিশ বছর আগে,তাকে খুঁজে নিয়েছি এই সময়ে। চেষ্টা করেছি কোরআন শরীফের সাথে গভীর সম্পর্ক তৈরী করতে। এই দুই তিন মাসে অনেকজন নিশ্চয়ই একাধিক বার পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত মাধ্যমে খতম আদায় করেছেন,আমি নিজেও ইনশা আল্লাহ দুই খতম আদায় করেছি বিগত রমজান মাসে। এখনও চালিয়ে যাচ্ছি।
প্রচুর সময় পেয়েছি ফরজ সুন্নত নফল ওয়াজিব বা তাহাজ্জুদ সহ অন্যান্য আরো ভালো আমল করার। মহান আল্লাহর কাছে উদার মনে চাইবার বা আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার এর চাইতে উত্তম সময় হাজার বছরেও পাওয়া যাবে না নিশ্চয়ই। আমরা কি এই সময়টুকুকে কাজে লাগাতে পেরেছি? নিশ্চয়ই পারিনি! কারণ সে মানসিকতা আমরা তৈরী করতে পারিনি। আমি নিজে একটু চেষ্টা করেছি, সুযোগ ছিল আরো বেশি কিছু করার পারিনি, করিনি। যেটুকু করেছি জানিনা আমার আল্লাহ কবুল করবেন কি না,তবে নিজের মনে একটু প্রশান্তি পেয়েছি।

এতো শ্বাসরুদ্ধকর দুঃসহ শোকাবহ সময় পরিস্থিতি পৃথিবীতে কখনও হয়নি,এই সময়ে আমরা আল্লাহকে কি চিনতে পেরেছি? এত সবের পরেও মনে হয় পারিনি! বেশ ভালো সুযোগ সময় ছিল অতীত দিনের গোনাহ মাফের চেষ্টা করার, মহান আল্লাহর কাছে চাইবার কত কিছু ছিল। মহান আল্লাহর নিষেধ বাধা মানিনি তাঁকে চিনতে পারিনি বলেই এই বিপর্যস্ত অবস্থার জন্যই পৃথিবীর মানুষই দায়ী,আমরা দায়ী। আমরা বেমালুম ভূলেই গিয়েছি একদিন মুখাপেক্ষী হতে হবে প্রভুর দরবারে,সুতরাং সেদিনের জন্য কিছু সঞ্চয় করে রাখি,সেই চেষ্টা ক জন করেছি?

এই সময়ে পৃথিবীর কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি কেমন হয়েছে আপনারাই বলুন?
আমাদের চরম দূর্ভাগ্য করোনা কালে অনেক মহৎ মানবিক দেশপ্রেমিক মানুষ আমরা হারিয়েছি,অর্থনৈতিক খাদ্য চিকিৎসা সংকটে পড়েছে দেশের মানুষ।এতো হারানোর মাঝেও আমরা হারিয়েছি বহিঃবিশ্বের কাছে আমাদের চরিত্র।শুধু পেয়েছি প্রতারক সাহেদ করিম,ডাঃ সাবরিনা,পেয়েছি ১টা কলার দাম ২০০০টাকা,১টা ডিমের দাম ১০০০টাকা আরো বেশ কিছু দূর্ণীতির চমকপ্রদ চিত্র। আর প্রতিদিন শুধু শুনেছি অসৎ ব্যক্তিদের বক্তৃতা,ইহাই তো আমাদের প্রাপ্তি তাই-না।
শুরু করেছিলাম প্রত্যাশার পারদ নিয়ে শেষটা হয়ে গলে অপ্রত্যাশিত এলোমেলো। আসলে আমরা ডুবেছি জাতিগত অসৎ চরিত্রে।জানিনা “মাননীয়” কখন ঘুম থেকে জেগে উঠবেন,একটা স্বাস্থ্য মন্ত্রীকে অন্ততঃ তাড়াতাড়ি বিদায় দেন,দেশের মানুষ কিছুটা স্বস্তি পাবে।
প্রার্থনা করি মহান আল্লাহ কাছে, আগামীর পৃথিবীটা যেন হয় সকলের জন্য উদার সহনীয় এবং মানবিক।

## মোঃ নিজাম উদ্দিন, সাবেক চেয়ারম্যান
খুরমা (উত্তর) ইউনিয়ন পরিষদ, ছাতক।
যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

জমজ

         লোকমান হাফিজ: -ওই তুই কি...

হবিগঞ্জে ছাত্রলীগ নেতার বাড়ি থেকে শতাধিক অস্ত্র-গুলি উদ্ধার

         হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সদস্য তোফাজ্জল...

হাকালুকি হাওরের অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

         মির্জা আব্দুল হক জালালাবাদী: ফেঞ্চুগঞ্জ...

আমিরাতে প্রবাসীদের অধিকার বিষয়ে সভা

         লুৎফুর রহমান: বিয়ানীবাজার জনকল্যাণ সংস্থা...