করোনা আক্রান্ত সাংবাদিক ক্যারল যা লিখলেন ফেইসবুকে:

প্রকাশিত : ০৮ এপ্রিল, ২০২০     আপডেট : ২ মাস আগে  
  

সালাম ও শুভেচ্ছা সবাইকে । দেশ বিদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আমার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা জানার জন্য গভীর আগ্রহে আছেন অনেক আপনজন, তাই দীর্ঘদিন পর আবার ফেইস বুকের মাধ্যমে আমার শারীরিক উন্নতির সুখবর জানাচ্ছি, আলহামদুল্লাহ প্রায় ৩ সপ্তাহ পর আমি এখন সুস্থ হয়ে উঠছি এবং অনেক ভাল বোধ করছি। আমার যে লক্ষণগুলি ছিল তার মধ্যে অন্যতম, উচ্চ তাপমাত্রা, কাশি, বুকে ও গলায় প্রচন্ড ব্যথা এবং একটু শ্বাসকষ্ট। গলায় মনে হতো চাকু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে, কিছু পেট অসুখ ও ছিল, আমার তাপমাত্রা এবং শ্বাস কষ্ট এখন অনেক কমেছে তবে এখনও কাশি রয়েছে, তবে এটি আগের চেয়ে ভাল। পুরাপুরি সুস্থ না হলেও আলহামদুল্লাহ মোটামুটি ভালোর দিকে যাচ্ছি l আশাকরি এভাবে চলতে থাকলে আগামী সপ্তাহ থেকে সাধারণ জীবনযাপনে ফিরে যেতে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ l গত ৩০ মার্চ সোমবার সকালে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে একজন নার্স এসে আমার শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছেন। নার্স জানিয়েছেন, ব্লাড প্রেসার, শ্বাস-প্রশ্বাস, ব্লাডসুগার স্বাভাবিক আছে। তবে টেম্পারেচার একটু বেশি। প্রায় ৩৮.৯ ডিগ্রী। কাশির কারণেই শ্বাসকষ্ট বেশি হচ্ছে। আমাকে এবং পরিবারের বাকি সবাইকে সেলফ আইসোলেশনে থাকতে হবে। প্রতিদিন কমপক্ষে ৬/৮ গ্লাস গরম পানি খেতে হবে। সময় সময় প্যারাসিটামল খেতে হবে। কোনো ধরণের এন্টিবায়োটিক খাওয়া যাবেনা, কারণ এসব ভাইরাল ইনফেকশনে এন্টিবায়োটিক কোনো কাজ করে না। অ্যাম্বুলেন্স আসার আগেই বাসার সবাইকে বলে রেখেছিলাম, আমি হসপিটালে যাব না, আলহামদুল্লাহ প্যারামেডিক ও আমাকে হসপিটালে নেয়ার প্রয়োজন মনে করে নি, যেহেতু গত রাত থেকে আমার শারীরিক অবস্থা একটু উন্নতি হচ্ছে l সেলফ আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় ছেলে মেয়ের সাথে একটু দুরুত্ব রাখার চেষ্টা করলাম, স্ত্রী, বেচারি নাছুড় বান্দা, নিজের দিকে লক্ষ না করেই আমার সেবা যত্ন নিয়ে ব্যস্ত, যদিও চেষ্টা করেছি দুরুত্ব বজায় রাখতে l আলহামদুল্লাহ এখনো আমার পরিবারের সবাই সুস্থ আছেন l ভাই – বোন, ভাগ্না – ভাগ্নি, চাচাতো – ফুফাতো ভাই বোন, বাড়ীর মানুষ, শশুরালয়ের স্বজন, সাংবাদিক বন্ধুরা, মসজিদ কমিটির সদস্যরা, আত্নীয়স্বজন, সংগঠনের জনশক্তি সবাই আমাকে নিয়ে পেরেশান, দান দক্ষিণা, সদগা পরিবারের পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে l ২/৩ দিন আমিও শারীরিক ও মানসিক ভাবে মারাত্নক আক্রান্ত হয়েছিলাম, দিন রাত চোখে ঘুম নেই, শুধু কষ্ট আর কষ্ট, এই কয়দিন অনেক খারাফ স্বপ্নও দেখেছি, চোখের সামনে দিয়ে শুধু কোরনা ভাইরাস উড়ছে শিমুল তুলার মত, ভোরে উঠে আমার স্ত্রী লাকীকে বলেছি এবং ওইদিনই সবচেয়ে বেশি মানুষ ইংল্যান্ড মৃত্যু বরণ করেছে l আমিও সবসময় শুধু আল্লাহকে স্মরণ করেছি, বিছানায় শুয়ে শুয়ে নামাজ, দোআ দুরুদ করেছি, দুনিয়াকে প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম, শুধু কয়েকবার আল্লাহকে বলেছি, “হে আল্লাহ ব্যাবসায়িক কারণে কিছু মানুষের সাথে দেনা পাওনা আছে, এই লেনদেন গুলি পরিশোধ করার পর আমাকে নিয়ে যাও” আলহামদুল্লাহ আল্লাহ আমার দোয়া কবুল করেছেন, তাড়াতাড়ি ব্যবসায়িক সকল সমস্যা সমাধান করে চিন্তামুক্ত করুন l আলহামদুল্লাহ মাত্র ২/৩ দিনের মাথায় আমি একটু আরোগ্য হতে লাগলাম, যদিও তিন সপ্তা থেকে অসুস্থ, কিন্তু মূলত ঐ ২/৩ দিনই আমার আসল ব্যারাম ছিল, জীবনের এক চরম অধ্যায় অতিবাহিত হল l আমার অসুস্থতার খবর প্রথম আমাদের লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের ওয়াটসআপ গ্রূপে প্রচার করে আমার একজন প্রিয়ভাজন ছুটভাই, ব্রিট বাংলার নির্বাহী সম্পাদক সাংবাদিক আহাদ চৌধুরী বাবু এবং ২/৩ দিন পরে আররকজন আপনজন ব্রিটেনের জনপ্রিয় সাপ্তাহিকী দেশ পত্রিকার সম্পাদক প্রিয় তাইসির মাহমুদ ফেইস বুকের মাধ্যমে আমার অসুস্থতার খবর জানিয়ে দিলেন সারা পৃথিবীর আপনজনদের কাছে, তাইসির এর নিউজ কপি করে আরো অনেকে প্রচার করেছেন যার যার ইচ্ছেমতো l আলহামদুল্লাহ হায়াৎ ছিল এবং সবার দুয়ায় বেঁচে আছি, এ পর্যন্ত করনা ভাইরাসে প্রায় ৩৫ জন ব্রিটিশ বাংলাদেশী মৃত্যু বরণ করেছেন, আমাদের প্রাইমিনিস্টার সহ হাজার হাজার মানুষ অসুস্থ আছেন l আমার অসুস্থতার খবর জেনে দেশ বিদেশে অবস্থানরত বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আমার আত্নীয়স্বজন, বন্ধু বান্ধব, স্কুল বন্ধুরা, সাংবাদিক বন্ধুরা, মসজিদ কমিটির সদস্যরা, সাহিত্য ও সাংকৃতিক বন্ধুরা, গ্রামের মানুষ, আত্নীয়স্বজন, বিভিন্ন সংগঠনের জনশক্তি, শুভাকাঙ্কী, পরিচিত অপরিচিত হাজারো আপন ও প্রিয় স্বজনরা আমার জন্য দোয়া করেছেন এবং আমার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন, কয়েকজন উঁচু মানের ঈমাম ও ইসলামিক ব্যক্তিত্ব সরসরি টেলিফোনের মাধ্যমে আমার জন্য দোয়া দুরুদ করেছেন, সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও গভীর ভালোবাসা রইলো । সকলের দোয়ায় সুস্থ হচ্ছি, এখনও কথা বলতে একটু কষ্ট হয়, তাই আপাতত ফোন না করে শুধু দোয়া করতেই অনুরোধ জানাচ্ছি। সর্বশেষ গত ১৮ মার্চ বুধবার রাতে লন্ডন মুসলিম সেন্টারের সেমিনার রুমে কাউন্সিল অব মস্ক টাওয়ার হ্যামলেটস আয়োজিত একটি বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছিলাম করোনাকালীন সময়ে মসজিদগুলো বন্ধ রাখার ব্যাপারে আলোচনা হয় এবং পরের দিন থেকেই ইস্ট লন্ডন মসজিদ সহ লন্ডনের অনেক মসজিদ অস্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয় l একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সবসময়ই নিজেকে কমিউনিটির কাজে ব্যস্ত রাখি, এই মহামারির সময় অসহায় মানুষের পাশে থাকার জন্য একটি মহৎ কাজে যোগ দিয়েছিলাম, মুরব্বিদের ও আত্নীয় স্বজনের খবর নিবো, ২০ ও ২১ মার্চ শুক্রবার ও শনিবার দুদিন অনেকের সাথে ফোনে আলাফ করে বিভিন্ন জরুরি কথা ও বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি, কিন্তু আমার সকল পরিকল্পনা উল্ঠা হয়ে গেলো, অন্যরা আমার খবর নিচ্ছেন, আমাকে সান্তনা দিচ্ছেন । সবই আল্লাহর ইচ্ছা, তাতে আমাদের কুনো হাত নেই, আল্লাহ তায়ালার কাছে একান্ত প্রার্থনা, তিনি যেন এই কঠিন সময়ে আমাদের সবাইকে শান্তি দেন এবং সুস্থ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেয়ে আনেন l আপনাদের সবার সহানুভূতি ও দুআর জন্য আবারো ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞ, আল্লাহ আমাদের সকলকে এই কঠিন সময়ে একে অন্যকে সাহায্য সহযোগিতা করার তৌফিক দান করুক, সবার মংগল কামনা করি l আপনি ও আপনার পরিবারের সুস্থতা আমাদের একান্ত কাম্য। সংক্রমণ থেকে বাঁচতে ঘরেই থাকুন। আমাদের জন্য দোয়া করবেন, সবার ধর্য্য ও সুস্থতা কামনা করি l শুভকামনা – ক্যারল ৭ এপ্রিল’২০

আরও পড়ুন