করোনার প্রাদুর্ভাব ও স্বাস্থ্যখাতে জনবল সংকট

Alternative Text
,
প্রকাশিত : ০৭ মে, ২০২০     আপডেট : ১০ মাস আগে
  • 88
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    88
    Shares

এম. গৌছ আহমদ চৌধুরী
বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্র সমূহ মানুষের চিকিৎসা সেবা ও সুরক্ষার বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব প্রদান না করে বরং শত্র“ নিধনের নামে মানুষকে নির্মূল করার লক্ষে কোটি কোটি ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করে সর্বাধুনিক মরনাস্ত্রের মজুদ বৃদ্ধির অসম প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। যার ফলশ্র“তিতে বর্তমান বিশ্বে নবেল কোভিড-১৯ ভাইরাস নামক একটি ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র জীবাণুর বিরুদ্ধে বিশ্বের তাবৎ রাষ্ট্র শক্তি সমূহ সম্পূর্ণ অসহায়। হায়রে মানব সভ্যতা! বৈশ্বিক এই মহামারিতে বিশ্বের ক্ষুদ্র ও উন্নয়নশীল রাষ্ট্র সমূহের অবস্থা আরোও করুণ।
বিশ্বে সর্বপ্রথম চীন দেশে উহান নামক একটি প্রদেশে ডিসেম্বর-২০১৯ এর প্রথম দিকে নবেল কোভিড-১৯ ভাইরাস মানব দেহে সংক্রমণ শুরু করে এবং ইতোমধ্যে ২১৫ টি দেশ ও অঞ্চলে তান্ডব চালিয়ে প্রায় দুুই লাখ বাষষ্ট্রি হাজারের উপরে মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এবং আটত্রিশ লাখের উপরে মানুষকে করেছে সংক্রমিত । মার্চ-২০২০ মাসে আট তারিখ প্রথমে বাংলাদেশে সংক্রমনের মাধ্যমে এই ভাইরাসটি অনুপ্রবেশ করে এ পর্যন্ত একশত ছিয়াশীটি মানব প্রাণকে বধ করেছে এবং বারো হাজারের কাছাকাছি সংক্রামিত করেছে (০৬/০৫/২০২০ ইং পর্যন্ত)। উন্নত বিশ্ব তাদের বিপুল অর্থ সম্পদ, পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্য কর্মী, সর্বাধুনিক বিজ্ঞান সম্মত স্বাস্থ্য উপকরণ, উন্নত ভৌত অবকাঠামো, স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষায় পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা, নিরাপত্তার সু-ব্যবস্থা বিদ্যমান থাকা সত্বেও মৃত্যুর মিছিল ও সংক্রমনের সংখ্যা দমিয়ে রাখতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। অপর দিকে আমাদের দেশে আর্থিক সীমাবদ্ধতা, প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল চিকিৎসা উপকরণ, আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব, স্বাস্থ্য সেবায় নিযুক্ত কর্মীদের সুরক্ষায় যথেষ্ট নিরাপত্তা ও সুযোগ সুবিধা প্রদানে সীমিত পরিসীমা সর্বোপরি প্রয়োজনের তুলনায় ব্যাপক জনবলের স্বল্পতা। যেখানে গড়ে প্রতি সাড়ে ছয় হাজার জনগনের জন্য একজন চিকিৎসক, প্রতি দশহাজার জনগনের জন্য একজন মাত্র নার্স। স্বাস্থ্য বিভাগে অনুমোদিত জনবল-চিকিৎসক- ২৫,৯৮০ টি, নার্স- ১৭,৩২২ টি, টেকনোলজিস্ট-৭,৯২০ টি, মাঠ পর্যায়ে প্রিভেন্টিভ হেল্থ কেয়ার কার্যক্রমে-২৬,৫৩৮ টি কমিউনিটি ক্লিনিক পর্যায়ে সিএইচসিপি-১৩,৫০০ টি, অফিস/প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনাসহ বিভিন্ন শ্রেণীর পদ-১৮,২৬৭ টি এবং চতুর্থ শ্রেণী-২৫,০৩৮ টি সর্বমোট-১,৩৪,৫৬৫ টি পদ রয়েছে। যার মধ্যে বর্তমানে ৩০% পদ খালি। এই স্বল্প সংখ্যক জনবল, সীমাবদ্ধ সম্পদ ও নানাবিদ প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরতœ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শি সুযোগ্য কৌশলী নেত্রীত্বে, মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহোদয়, মাননীয় স্বাস্থ্য সচিব মহোদয়, মাননীয় মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মহোদয় কর্তৃক সঠিক সময়ে বাস্তবমূখী কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন ও তা যথাযথভাবে বাস্থবায়নে সু-দৃঢ়তা, দেশের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বলিষ্ট মনোবল ও আত্ববিশ্বাসের সহিত দায়িত্ব পালন সর্বোপরি দেশের জনসাধারণের সার্বিক সহযোগীতার কারণে উন্নত বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় আমাদের দেশে মৃত্যু ও সংক্রমনের সংখ্যা নিয়ন্ত্রনে রাখতে সক্ষম হয়েছি। কোভিড-১৯ মোকাবেলায় বর্তমান সরকারের সঠিক ও বাস্তবমূখী নীতিমালা ইতোমধ্যে বিশ্বের অনেক রাষ্ট্র কর্তৃক প্রসংশিত হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডঐঙ) এর স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী প্রতি তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার জনগনের জন্য একজন চিকিৎসক, প্রতি একজন চিকিৎসকের বিপরীতে যথাক্রমে তিনজন নার্স, পাঁচজন টেকনোলজিস্ট এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী তিনজন হিসাবে দেশে সতের কোটি জনসাধারনের মানসম্মত চিকিৎসা সেবা সুনিশ্চিত করার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের অনুমোদিত জনবল প্রায় সাত লাখের উপরে থাকার কথা। অথচ বর্তমানে দেশে অনুমোদিত জনবল এক লক্ষ চৌত্রিশ হাজার পাঁচশত চৌষষ্ট্রি টি। দেশের মোট বাজেট বরাদ্দের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ মাত্র ৪.৯%। স্বাস্থ্য খাতের অপ্রতুল বাজেট বরাদ্দ ও অতি স্বল্প জনবলের মাধ্যমে দেশের সতের কোটি মানুষের স্বাস্থ্য সেবা ও সুরক্ষা স্বাভাবিক অবস্থা যেখানে চালিয়ে নেওয়া কষ্টকর অধিকšু— বর্তমান বৈশ্বিক নবেল কোভিড-১৯ মহামারীর বিরুদ্ধে দেশের মানুষকে স্বাস্থ্য সেবা ও সুরক্ষা প্রদান একটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখিতে দাঁড় করিয়েছে। বিশেষ করে কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে কাজ করতে গিয়ে চিকিৎসক সেবিকা সহ স্বাস্থ্যকর্মীগন যে হারে সংক্রমিত হচ্ছেন এবং কোয়ারেন্টাইনে যেতে হচ্ছে তাতে যদি এর ব্যপকতা বেড়ে যায় তাহলে চিকিৎসা সেবার ধারাবাহিকতা রক্ষা করা/চালিয়ে যাওয়া দূরহ হয়ে উঠবে। ইতোমধ্যে ব্যাপক সংক্রমনের কারণে কোন কোন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-কে লক-ডাউন করা হয়েছে। আগামীতে অনুরুপ লক-ডাউন হইতে স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান/ হাসপতালগুলোকে স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচলনার ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থে দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগের জন্য বর্ধিত বাজেট ও জনবল বৃদ্ধির প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহন একান্ত আবশ্যক।
চিকিৎসা সেবা মানুষের একটি অন্যতম মৌলিক অধিকার। এই অধিকার সু-রক্ষায় দেশের সতের কোটি মানুষের সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করে বৈশ্বিক মহামারী নবেল কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে জয়লাভ করতে হলে অবশ্যই স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি ও ডঐঙ এর স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী স্বাস্থ্য বিভাগের জন্য প্রয়োজনীয় জনবলের পদ দ্রুততম সময়ের মধ্যে সৃজন এবং নতুন সৃজিত পদ সমূহের নিয়োগের ব্যবস্থা করা বর্তমান সময়ের জন্য একান্ত অপরিহার্য।
এম. গৌছ আহমদ চৌধুরী: চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ স্বাস্থ্য বিভাগীয় অফিস সহকারী কল্যাণ সমিতি, কেন্দ্রিয় পরিষদ ও আহ্বায়ক, বাংলাদেশ স্বাস্থ্য পরিবার।


  • 88
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    88
    Shares

আরও পড়ুন

১৮ মাসে প্রেম – ব্রাজিলের তরুণী এখন সিলেটে

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: ফেসবুকে পরিচয়,...

এক লন্ডন প্রবাসীর মহতি উদ্যোগ লাউয়াই মাদ্রাসায় ১০ শতক ভূমি প্রদান

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: ইসলামী শিক্ষার...

বিমানবন্দর থানা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সম্মেলন

10        10Sharesবাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাবেক...