করোনার দিন-রাত্রি’ সাতাশ মার্চ ২০২০

প্রকাশিত : ২৮ মার্চ, ২০২০     আপডেট : ৬ মাস আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

তাইসির মাহমুদ:

করোনাজনিত কারণে দুই শুক্রবার জুমার নামাজ পড়া হলো না। আগামীতে আর কতদিন পড়া যাবেনা তাও জানিনা। এটা নতুন এক অভিজ্ঞতা। ইসলামের তীর্থভুমি মক্কা মদীনাসহ বিশ্বজুড়ে এভাবে মসজিদ বন্ধ থাকবে, দৈনন্দিন জামাতে নামাজ হবেনা। জুমাও বন্ধ থাকবে। এটা কোনোদিন কল্পনাও করতে পারিনি। কিন্তু আজ সবই বাস্তবে ঘটছে।

করোনার কারণে আজ কিন্তু ধর্ম ও বিজ্ঞানের অজানা অনেক তথ্যই আমরা নতুন করে জানছি। এমন কিছু জানছি, যা আগে কোনোদিন ভাবিনি, চিন্তাও করিনি। মহামারী দেখা দিলে মসজিদে না গিয়ে ঘরে নামাজ পড়তে হবে। আজানে ‘হাইয়া আলাস-সালাহ’ (অর্থাৎ নামাজের দিকে এসো) এর পরবর্তী “আসসালাতু ফি বুয়ুতিকুম” (তোমরা ঘরে নামাজ পড়ো) বলতে হবে।

প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে, রাসুলের (সাঃ) আমলে একবার প্রচণ্ড ঝড় হচ্ছিলো। ওই সময় মসজিদের মুয়াজ্জিন যখন আজান দিতে যাবেন তখন রাসুল (সাঃ) বললেন, এই ঝড়ের মধ্যে মানুষকে নামাজে আসতে আহবান না জানিয়ে বরং ঘরে নামাজ পড়তে বলো। তাই মুয়াজ্জিন আজানে ‘হাইয়া আলাস-সালাহ’ এর পরবর্তী ‘আসসালাতু ফি বুয়ুতিকুম’ বলেছিলেন। আমরা ইতোপুর্বে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখী হইনি বিধায় এই হাদীসটি হয়তো জানা হয়নি।

একবার মহামারীর সময়ে রাসুল (সাঃ) বললেন, “তোমরা অসুস্থ মানুষকে সুস্থ মানুষের সম্মুখে উপস্থিত করো না”। সেই হাদীস থেকেই সৌদি ওলামা পরিষদ মসজিদে নামাজ পড়া বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন। কারণ যারা নামাজে যাবে তাদের মধ্যে কার শরীরে করোনা ভাইরাস আছে কেউ জানিনা। যার কাছে আছে তিনিতো আক্রান্ত, অসুস্থ । সুতরাং তার সাথে সুস্থ মানুষ মেশা উচিত নয়। এটা রাসুলেরই (সাঃ) নির্দেশনা।

রাসুল (সাঃ) বলেছেন, “কোনো এলাকায় যদি মহামারী দেখা দেয় তাহলে ওই এলাকার মানুষ বাইরে বেরুবে না। আর বাইরের মানুষ ওই এলাকায় প্রবেশও করবেন না”। রাসুলের (সাঃ) সেই থিউরিই আজ সারা বিশ্বে মহামারী ঠেকাতে একমাত্র উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ এক দেশ থেকে আরো এক দেশ সম্পুর্ণ বিচ্ছিন্ন। এক শহরের মানুষ আরেক শহর থেকে বিচ্ছিন্ন। এক এলাকার মানুষ অন্য এলাকা থেকে বিচ্ছিন্ন। এক বাড়ির মানুষ অন্য বাড়ি থেকে বিচ্ছিন্ন। এটাই বিশ্বনবীর থিউরি। প্রতিটি রাষ্ট্রই জরুরী অবস্থা ঘোষণা করে এই থিউরিগুলো মানতে মানুষকে বাধ্য করছে।

রাসুল (সাঃ) বলেছেন, কলিজিরা ও মধু হচ্ছে সব দূরারোগ্য ব্যাধির ওষুধ। এতোদিন আমরা শুনছি। কিন্তু তেমন আমলে নিইনি। বাস্তবে আজ বিশ্বনবীর কথা সত্য হচ্ছে। ইতোমধ্যে পরিচিত অনেকেই কোয়ারিন্টিনে থেকে গরম পানিতে কালিজিরা ও মুধু মিশিয়ে খেয়ে সুস্থ হয়ে ওঠেছেন। আজ বিশেষজ্ঞ অনেক চিকিৎসকই করোনা থেকে বাঁচতে গরম পানিতে মধু ও কালিজিরা মিশিয়ে খাওয়ার উপদেশ দিচ্ছেন ।

যাক, আজকের ‘দিনরাত্রি’তে তেমন কিছু লেখার নেই। সারাদিনই ঘরে ছিলাম। সাইকেল নিয়েও বেরুনো হয়নি। কারণ ব্যায়ামটা দুপুরে গার্ডেনে সেরে নিয়েছিলাম। মাত্র ৬ দিন ঘরবন্দী থেকে বুঝতে উপলব্দি হচ্ছে, বছরের পর বছর জেলে বন্দী থাকা মানুষের অবস্থা কেমন হবে। অসুস্থ মানুষ যারা দিনের পর দিন ঘরবন্দী কিংবা শয্যাশায়ী, তাদের জীবন কেমন কাটছে? ‘করোনা’ই এই বিষয়গুলো আমাদেরকে উপলব্ধি করতে শেখাচ্ছে।

ডেগেনহ্যান, লন্ডন
২৭ মার্চ ২০২০


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

গোলাপগঞ্জে প্রবাসী পরিবারের স্বজনদের মামলা দিয়ে হয়রানি

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক : সিলেটের...

দেড় মাসের শিশুকে বিষ দিয়ে হত্যা

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক:  কানাইঘাটের বড়চতুল...

গণধর্ষণ মামলার এজাহারে যা উল্লেখ রয়েছে-

3        3Sharesসিলেটএক্সপ্রেস সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে...