করোনার দিনরাত্রি: আর কত বসে থাকা যায়?

প্রকাশিত : ০৬ এপ্রিল, ২০২০     আপডেট : ৬ মাস আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

তাইসির মাহমুদ: আর কত বসে থাকা যায়? গৃহবন্দী জীবনে ষোলো দিন পেরিয়ে সতেরোতম দিবসের সুর্যের অপেক্ষা করছি। মানুষ সামাজিক জীব। কারাগার ছাড়া মানুষকে আটকিয়ে রাখা যায় না। কিন্তু আমরা আকটে আছি। আমাদের হাতে কোনো হ্যাণ্ডক্যাপ নেই। রশি দিয়ে আমাদের হাত-পা বাঁধাও নয়। এরপরও আমরা গৃহবন্দী। একটিমাত্র অদৃশ্য ভাইরাস আমাদের তাবৎ স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে। দিনের পর দিন আমাদেরকে বন্দী করে রেখেছে। কত ক্ষুদ্র একটি জীবানুর কাছে আমরা শক্তিশালী মানুষ কত অসহায়। কত নিরুপায়।

মনটি সারাদিন ভীষন্ন থাকে। চারদিকে শুধু দুঃসংবাদ। ঘুম থেকে জেগে দিনের শুরু হয় দুংসবাদ দিয়ে। স্বজনদের কেউ করোনা অক্রান্ত হয়ে স্বেচ্ছায় গৃহবন্দী আছেন। কেউ বা হাসপাতালে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন। কারো বা প্রাণপাখী বেরিয়ে গেছে। হাসপাতালের কোল্ডরুমে পড়ে আছে শুধু প্রাণহীন দেহ। কাউকে গোরস্থানে নিয়ে তড়িগড়ি করে কবরস্থ করে রেখে আসা হচ্ছে। স্ত্রী, সন্তান ছেলে মেয়েদের শেষ দেখার সুযোগটুকুও নেই। এই হলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনের করুণ চিত্র।

রোববার বিকেলে করোনার আতংককে জয় করে সাইকেল নিয়ে বেরিয়েছিলাম বাইরে। কারণ ঘরে বসতে বসতে শরীর জমে যাচ্ছে। মাথায় যেন কিছু একটা ভনভন করে। বন্দী ঘরে কান তালি লেগে যায়। জনশুন্য রাস্তায় সাইকেল চালাতেও ভয় হয়। মনে হয় কোনো মৃত্যুপুরিতে হাঁটছি। যেন কোনো ভয়াবহ সাইক্লোনে শহরের সব মানুষ মরে গেছে। খালি পড়ে আছে শহরটি। আর আমি এই শহরে অন্য কোনো প্লানেট থেকে নেমে আসা এক প্রাণী। কী করবো, কোথায় যাবো শুধুই ভাবছি।

আগে সাইকলে চালাতাম রাস্তায়। আজ সাইক্লিং করলাম ঘরের পাশের ম্যাকডোনাল্ডের ড্রাইভ থ্রোতে। সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ততম একটি রেস্তুোরা হলো ম্যাকডোনালডস। সপ্তাহের সাতদিনই যেখানে দিবারাত্র চব্বিশ ঘণ্টা মানুষ গিসগিস করে। একদল সরাসরি রেস্টুরেন্টে গিয়ে খাবার খায়। একদল ড্রাইভ থ্রোতে গাড়ি চালাতে চালাতে খাবার সংগ্রহ করে। আর আরো একদল অনলাইনে অর্ডার দিয়ে জাস্ট ইটের মাধ্যমে ঘরে ডেলিভারী নেয়।

কিন্তু সেই ব্যস্ততম রেস্তোরাটিতেও আজ ঝুলছে তালা। বিশ্বের ১২০টি দেশে ৩৭ হাজারেরও বেশি ম্যাকডোনাল্ডস আছে। প্রতিদিন ৬৮ মিলিয়ন কাস্টমার ম্যাকডোনালডে খেয়ে থাকে। কাজ করেন ২ লক্ষাধিক কর্মী। আজ সেখনে সুনসান নীরবতা, নিস্তবতা। বিশাল বিস্তৃত কার পার্কটিও খালি পড়ে আছে। বাচ্চারা সেখানে ফুটবল খেলছে। আর আমি সাইকেল চালাচ্ছি। এটা কি কোনোদিন কল্পনা করেছিলাম?

কারাগারে দিনের পর দিন বন্দী থাকা মানুষটি যেভাবে মুক্তির দিনটির অপেক্ষায় ব্যাকুল থাকে, তেমনই আমরাও মুক্তির অপেক্ষায় আছি। অপেক্ষায় আছে সারা বিশ্ব। এই গৃহবন্দী জীবন থেকে আমাদের একমাত্র মুক্তিদাতা হলেন বিশ্বজাহানের অধিপতি আল্লাহ। তাঁর কাছে আমরা কায়মনো চিত্তে প্রার্থণা করি, হে আল্লাহ আমাদের আর পাপের প্রায়শ্চিত্য দিওনা। আমাদের আপনি নিজ করুনায় ক্ষমা করে দিন। মুক্তি দিন, স্বাভাবিক জীবেন ফিরেয়ে দিন। আমিন।

তাইসির মাহমুদ
ডেগেনহ্যান, লন্ডন,
সোমবার; ৬ এপ্রিল ২০২০


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ ব্যাংকে সঞ্জিব কুমার সিংহ এর বিদায় সংবর্ধনা

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: বাংলাদেশ ব্যাংক...

ফিলিপাইনের মুখোমুখি বাংলাদেশ

         বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টে...