করোনাভাইরাসে সংক্রমণ ও মৃত্যুর ভয়াবহতার দিকে এগুচ্ছে সিলেট

,
প্রকাশিত : ১৯ জুলাই, ২০২১     আপডেট : ১০ মাস আগে

করোনাভাইরাসে সংক্রমণ ও মৃত্যুর ভয়াবহতার দিকে এগুচ্ছে সিলেট। প্রতিদিন সংক্রমণ ও মৃত্যুর নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হলেও মানুষের মধ্যে সচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বালাই নেই। যেখানে একদিনে ৬৮১ জনের সংক্রমণ শনাক্ত, মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের আর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১১২জন। সেখানে কোনো আতঙ্ক ও শঙ্কা ছাড়াই মানুষ অবাধে চলাচল করছেন। সিলেট নগরীর অলিগলি, ফুটপাত, শপিংমল, হোটেল, কোরবানীর পশুর হাটসহ সর্বত্রই উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। কোথাও সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না। স্বাস্থ্য সুরক্ষার অংশ হিসেবে ন্যূনতম মাস্কও পরছেন না অধিকাংশ মানুষ। যেন স্বাস্থ্যবিধি না মানার উৎসব শুরু হয়েছে!
ঈদ উপলক্ষে লকডাউন শিথিলের পর সিলেট নগরীতে জনসমাগম বেড়েছে সব জায়গায়। গতকাল রোববার সিলেট নগরী ঘুরে দেখা যায়, ফুটপাতে ভাসমান দোকানে মানুষের ভিড়। শপিংমলগুলোতে ক্রেতার চাপ। রাস্তাগুলোতে পার্কিং করে রাখা গাড়ি ও লোকজনের জটলা। কিন্তু অধিকাংশ ক্রেতা-বিক্রেতার মুখে মাস্ক নেই। কেউ কেউ মাস্ক পরলেও তা ঝুলিয়ে রেখেছেন থুতনিতে। ফুটপাতের দোকানিদের অধিকাংশই ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলছেন মাস্ক ছাড়া। অনেকেই কাছাকাছি দূরত্বে দাঁড়িয়ে মাস্ক না পরেই কথা বলছেন নিজেদের মধ্যে।

সিলেট নগরীর জিন্দাবাজার পয়েন্ট এলাকায় একটি কাপড়ের দোকানে ২শ’ টাকার মাল ১শ’ টাকা, আগে আসলে আগে পাবেন, একরম হাকডাকে ক্রেতাদের ভিড় করাচ্ছেন তিনজন কর্মচারী। তাদের একজনেরও মুখে মাস্ক নেই। মাস্ক না পরার কারণ জানতে চাইলে বলেন, মাস্ক মুখে দিয়ে ডাকলে ক্রেতারা শুনবে না। দুইটা দিন চিল্লাফাল্লা করে যদি কিছু বিক্রি করা যায় এই চেষ্টায় আছি। দোকানটিতে দেখা যায়, ভিড় করে মানুষ কাপড় কিনছেন। অধিকাংশ মানুষের মুখে মাস্ক নেই।

এদিকে, নির্দিষ্ট পশুর হাট ছাড়াও গতকাল রোববার থেকে নগরীর বিভিন্ন গলিতে কোরবানীর পশু বিক্রির জন্য বসতে শুরু করেছেন বিক্রেতারা। এছাড়া, সিলেটের বাইরের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও গ্রাম থেকে কোরবানির পশু বিক্রি করতে নগরীতে আগতদের মধ্যে মাস্কের ব্যবহার কম দেখা গেছে। যারা কোরবানির পশু দেখতে ও কিনতে আসছেন, তারাও ঠিকমতো মাস্ক পরছেন না। ঈদের সময় ঘনিয়ে আসায় হাটগুলোতে ভিড় বাড়ছে চোখে পড়ার মতো। কাজির বাজার পশুরহাটসহ বিভিন্ন হাটের ভেতরে দোকানগুলোতে প্রচণ্ড ভিড় দেখা গেছে। হাট কমিটি মাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানার কথা বললেও সাধারণ মানুষকে এর গুরুত্ব দিতে দেখা যায়নি। হাটে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীও দেখা যায়নি। স্বাস্থ্য বিভাগ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ- সবাই বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন।

সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ খান বলেন, পত্রিকা মারফতে খবর নিয়ে জেনেছি, গত বছর গ্রামাঞ্চলে সংক্রমণ ততটা না ছড়ালেও এবার তার ব্যত্যয় ঘটেছে। অনেক জেলা-উপজেলায় শনাক্তের হার ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। এ অবস্থায় প্রয়োজন ছিল আরও কঠোর লকডাউনের। কিন্তু ঈদ উপলক্ষে বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে। হাটে-বাজারে, বিপণিবিতান থেকে শুরু করে সর্বত্রই স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রতিযোগিতা দেখা যাচ্ছে। এটি আতঙ্কের। ঈদের পরপরই সংক্রমণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

এদিকে, সিলেটে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোর করোনা রোগীর জন্য বরাদ্দকৃত আইসিইউ সিট অনেক আগেই ভরে গেছে। এখন সাধারণ বেডের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় কিছুদিন থেকে অক্সিজেন নিয়েও সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে অক্সিজেন সঙ্কটের কারণে দু’জন আইসিইউ রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির মতামত উপেক্ষা করে আরোপিত ‘কঠোর লকডাউন’ শিথিল করার পাশাপাশি কোরবানির পশুর হাট বসানো নিয়ে জনস্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা বিশেষজ্ঞ তৌফিক জোয়ারদার গণমাধ্যমকে জানান, জনস্বাস্থ্যের দিক থেকে এটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ একটা সিদ্ধান্ত। জুলাইয়ের শুরু থেকে আরোপিত লকডাউনের প্রভাব ও সংক্রামক রোগের স্বাভাবিক গতি-প্রকৃতি অনুসারে চলতি মাসের মধ্যভাগ থেকে সংক্রমণ কমে আসার একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এমন একটা সিদ্ধান্তের কারণে সংক্রমণ কমার বদলে তা আরও বেড়ে যেতে পারে।

কোভিড-১৯ সেলের দায়িত্বে থাকা সিলেট জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (সাধারণ শাখা, মিডিয়া সেল) শামমা লাবিবা অর্ণব জানান, সরকারের নির্দেশ অনযায়ী স্বাস্থ্যবিধি ও সচেতনতায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত কাজ করছে। একই সাথে জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য সচেতন করা হচ্ছে। তিনি সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য অনুরোধ করেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ, সিলেট-এর সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম জানান, বিধিনিষেধ শিথিল করা হলেও মানুষকে খুবই সচেতন থাকতে হবে। বাইরে বের হলে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি পালন করতে হবে। সিলেটে সংক্রমণের উর্ধ্বগতি কমাতে মাস্ক পরিধান, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ স্বাস্থ্যবিধি পালন করার বিকল্প নেই।


আরও পড়ুন

নিরাপদ সন্তান প্রসব বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন

 গোয়াইনঘাট, প্রতিনিধিঃ- সিলেট বিভাগের পরিবার...

মুক্তাদিরসহ ২০/২৫ জন নেতাকর্মী আটক

 লেটের জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আয়োজিত সমাবেশ থেকে...

Meditation at Work

 Have you at any time...

বিশ্বাস হচ্ছে না আব্বু বিউটিকে হত্যা করেছে

 হবিগঞ্জের আলোচিত বিউটি হত্যার ঘটনায়...