কমলগঞ্জে ভয়ঙ্কর বিরল রোগে আক্রান্ত ভাই-বোন !

প্রকাশিত : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮     আপডেট : ১ বছর আগে  
  

বিশ্বজিৎ রায়, কমলগঞ্জ(মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকার উত্তর তিলকপুর গ্রামের দরিদ্র কৃষক পরিবারের দুই ভাই-বোন ভয়ঙ্কর জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে আজ গৃহবন্দী অবস্থায় দিনযাপন করছে। আক্রান্ত ছেলেটির নাম-মো: সিরাজুছ ছালেকিন(১৮) ও মেয়েটির নাম মোছা: আবেদা আক্তার রিমা (১৫)। তাদের পিতা মো: ফকরুল ইসলাম (আফরুজ) ও মাতা শিরী বেগম।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, জন্মের তিন বছর পর থেকে ভাই-বোন উভয়েই অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়। চোখের সামনে ছেলে মেয়ের এমন অবস্থা দেখে তাদের বাবা মো: ফকরুল ইসলাম (আফরুজ) তাদেরকে গ্রাম্য কবিরাজের কাছে নিয়ে যান। অন্ধ বিশ্বাসের কারনে ক্রমাগত রোগটি বাড়তে থাকে। মো: সিরাজুছ ছালেকিনের মুখমন্ডল ও শরীরের রোগটি ক্রমাগত বাড়তে থেকে মারাত্মক রূপ ধারন করে। এবং মোছা: আবেদা আক্তার রিমার রোগটিও বেড়ে গিয়ে মুখ ও শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। তাদের এই অবস্থাতে ঘরের বাইরে বের হওয়া খুবই কষ্টসাধ্য। তাদের মধ্যে কেউই সূর্যের আলো সহ্য করতে পারে না। ভাই-বোন দীর্ঘ ১৫-১২ বছর যাবত তাঁরা এই ভয়ংকর রোগের সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে আছে। আর্থিক অস্বচ্ছলতা ও অজ্ঞতার কারণে অসহায় ফকরুল ইসলাম কোনো সুচিকিৎসা করাতে পারছেন না তাদের। ভাল কোনো ডাক্তারও দেখাতে পারেননি। একদিকে রোগের যন্ত্রনা অন্যদিকে দারিদ্রতার কারণে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা না হওয়ায় দুটি তর তাঁজা প্রাণ ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছে মৃত্যুর দিকে।
৬ ভাই-বোনের মধ্যে সিরাজুছ ২য় এবং রিমা ৩য়। আক্রান্ত এই দুই জন বাদে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা এখনও সুস্থ্য। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তাদের বাবা মো: ফকরুল ইসলাম (৫০) কৃষিকাজ করে কোনমতে জীবিকা নির্বাহ করছেন। সংসারের বোঝা বহন করে সন্তানদের চিকিৎসার খরছ চালানো তার পক্ষে কোনভাবেই সম্ভব হচ্ছেনা। এখন পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি কোনো সহায়তা পায়নি এই অসহায় পরিবার।
আলাপকালে ফকরুল ইসলাম জানান, প্রথমে সিরাজুছের মুখে একটি ক্ষতচিহ্ন ও সাদা সাদা দাগ দেখা যায়। পরে তা মারাত্মক রূপ ধারন করে এবং সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে । সে তরল জাতীয় খাদ্য ছাড়া কিছুই খেতে পারে না। রিমার শরীরে ও মুখে প্রথমে কিছু সাদা সাদা দাগ ছিল । পরে তা পুরো মুখে ও শরীরে ছড়িয়ে পড়ে মারত্মক কালো রূপ ধারন করে। এখন সে আলোতে ঠিকমতো চাইতে পারে না। তখন স্থানীয় ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে তারা রোগটি সনাক্ত করতে পারেনি। স্থানীয়দের পরার্মশে পরবর্তীতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কিছুদিন চিকিৎসা নেওয়ার পর ডাক্তাররা সঠিক রোগটি সনাক্ত করতে না পারায় এবং সুনিদিষ্ট কিছু না বলায় রোগাক্রান্ত ছেলে-মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে চলে আসেন তিনি। ইচ্ছে থাকলেও তিনি তাদের উন্নত চিকিৎসা করাতে পারছেন না। এই মুহুর্তে তার সন্তানদের চিকিৎসার পথে অর্থনৈতিক সংকটকেই প্রধান বাঁধা হিসাবে দেখছেন।
রোগাক্রান্ত ছেলে-মেয়ের চিকিৎসা করাতে না পারায় তিনি অসহায়ের মত কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এবং বলেন অভাবের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরায় এমতাবস্থায় নিজের চোঁখের সামনে ছেলে মেয়ের আর্তনাদ দেখে যাওয়া ছাড়া আর কিছু করার নেই তার।
কমলগঞ্জ ৫০ শয্যা হাসপাতালের কর্মরত চিকিৎসক ডা.সৈয়দ শওকত আলী জানান, এটি জিনগত সমস্যা হতে পারে। রোগীর চামড়ার কোষে মেলানিন না থাকায় সূর্যের আলোর অতিবেগুনী রশ্মিতে কোষের উঘঅ নষ্ট হয়ে যায়। ক্রমাগত অতিবেগুনী রশ্মির সম্মুখীন হলে উঘঅ নষ্ট হয়ে ক্যান্সার হতে পারে। প্রাথমিকভাবে তিনি ধারনা করছেন রোগটি ঢবৎড়ফবৎসধ চরমসবহঃড়ংধস হতে পারে। এটি একটি বিরল ধরনের রোগ। ছেলে ও মেয়েটিকে সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ অথবা পিজি হাসপাতালে পাঠানো যেতে পারে। রোগাক্রান্ত ছেলে-মেয়েকে সাহায্য করতে চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন- ০১৭৩১৩৮১৩৬৫ এই নম্বরে। রোগাক্রান্ত ছেলে-মেয়ের বাবা সরকারের কাছে তার ছেলে-মেয়ের চিকিৎসার জন্য আকুল আবেদন জানান। সরকার বা সমাজের বিত্তশালীরা এগিয়ে এসে যদি এই অসহায় ভাই-বোনের চিকিৎসার ভার নেন তাহলে হয়তো তারা নতুন জীবন ফিরে পেতে পারে ।

আরও পড়ুন