কমলগঞ্জের ধলাই নদী থেকে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন

Alternative Text
,
প্রকাশিত : ২১ এপ্রিল, ২০২০     আপডেট : ১১ মাস আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিশ্বজিৎ রায়,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি –

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীর ইজারার মেয়াদ গত ১৩ এপ্রিল (৩০শে চৈত্র) শেষ হলেও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে প্রভাবশালী একটি মহল। এতে একদিকে যেমন বিরাট অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার তেমনি হুমকির মুখে পড়েছে এই বালু ঘাটগুলোর পার্শ্ববর্তী ব্রীজ ও বসতি বাড়ীসহ ফসলি জমি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার পৌরসভা এলাকা, ১নং রহিমপুর ইউনিয়ন, ৩নং মুন্সিবাজার ইউনিয়ন, ৫নং কমলগঞ্জ ইউনিয়ন ও ৮নং মাধবপুর ইউনিয়নের মধ্যদিয়ে বয়ে যাওয়া ধলাই নদীর বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলনে পুরাতন ইজারাদারদের ইজারার মেয়াদ শেষ হয় গত ১৩ এপ্রিল (৩০শে চৈত্র) ও নতুন ইজারার সরকারের রাজস্ব পরিশোধ না করেই অবাধে চলছে বালু উত্তোলন।
২০১০ সালের প্রণীত বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনের চার নম্বর ধারার (খ) উপধারা অনুযায়ী সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারেজ, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, বন, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা অথবা আবাসিক এলাকা থেকে সর্বনিম্ন এক কিলোমিটার এলাকার মধ্য হতে বালু উত্তোলন করা যাবে না। (গ) উপধারায় বলা আছে, বালু বা মাটি উত্তোলন বা বিপণনের উদ্দেশ্যে ড্রেজিংয়ের ফলে কোনো নদীর তীর ভাঙনের শিকার হতে পারে এরূপ ক্ষেত্রেও বালু উত্তোলন করা যাবে না।
নদীর দুই পাশের স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে নিয়ম উপেক্ষা করে অবৈধভাবে বালু তুলছে একটি প্রভাবশালী মহল, তাতে করে আমাদের বসতি বাডী ও ফসলি জমি হুমকির মুখে। স্থানীয় প্রশাসন অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করার নির্দেশ দিলেও তারা তাতে কর্নপাত করেনি।
ট্রাক চালকরা জানান, তারা প্রতি ট্রাক ২৫০০ টাকা থেকে ৩০০০ টাকা করে বালু ক্রয় করে জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছেন।
১নং রহিমপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামের নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষক জানান, এখানে বালু উত্তোলনের ফলে আমাদের অনেক ফসলি জমি ইতিমধ্যে নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে।
এ ব্যাপারে আলাপকালে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি জুনেল আহমদ তরফদার বলেন, ধলাই নদীর বালুমহালের ইজারার মেয়াদ গত ১৩ এপ্রিল (৩০শে চৈত্র) শেষ হয়ে গেলেও স্থানীয় প্রভাবশালী মহল আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েই নিয়মিত বালু উত্তোলন করছে। নতুনভাবে যারা ইজারা পেয়েছেন তারা এখনও সরকারের রাজস্ব আদায় করেননি বলে প্রশাসন এখনও তাদের ঘাটগুলো বুঝিয়ে দেয়নি, এর পরও তারা কেমনকরে বালু উত্তোলনের সাহস পায় ? এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি।
আগের ইজারাদার জিল্লুল আহমদ বলেন, আমার ইজারার মেয়াদ সদ্য শেষ হলেও আমি নতুন ইজারাদার থেকে ১৫ দিনের সময় নিয়েছি, সাথে করে আমি কোর্ট থেকে আরও ২ মাসের সময় নিয়ে এসেছি।
কোর্টের অনুমতি পত্রটি দেখতে চাইলে তিনি বলেন, আর দেখে কি করবেন, অনুমতি পত্রটি এখন অন্যজনের কাছে আছে।
নতুন ইজারা প্রাপ্ত আনোয়ার এন্টারপ্রাইজের সত্ত্ব¡াধিকারী আনোয়ার হোসেন বলেন, এইবারের ইজারায় ঘাটগুলো আমি পেলেও করোনা ভাইরাসের কারনে অফিস-আদালত বন্ধ থাকাতে প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও আমাকে ঘাটগুলো বুঝিয়ে দেয়নি, আর বালু যারা তুলছে তারা আমার সাথে কোনও যোগাযোগ করেনি। বর্তমানে ধলাই নদীতে (নদী খনন)একটি প্রকল্প চালু আছে, হয়তোবা তারা ঐ প্রকল্প থেকে বালু উত্তোলন করছে ।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশেকুল হক বলেন, পুরনো ইজারাদারের মেয়াদ শেষ হয়েছে ১৩এপ্রিল (৩০ চৈত্র)। নতুন ইজারাদারকে এখনও ঘাটগুলো প্রশাসনের পক্ষথেকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

লেখকদেরকে ঐতিহ্য সন্ধানী ও ঐতিহ্যপ্রেমী হতে হবে

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: লেখকদেরকে ঐতিহ্য...

শহীদ মিনারে বিপিজেএ’র তিনদিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন

         বাংলাদেশ ফটো জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশন (বিপিজেএ)-এর...

বাসায় গিয়ে মুক্তাদিরের দেখা পেলেন না ড. মোমেন

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: একাদশ জাতীয়...

দুর্নীতির ঘরে আলোকিত মানুষ জন্মে না-মোহাম্মদ আব্দুল হক

27        27Sharesএক্সপ্রেস সাহিত্য ডেস্ক বর্তমানে চলমান...