কমরেড আবদুল হক’র শততম জন্মবার্ষিকী পালনের লক্ষ্যে মৌলভীবাজারে উদযাপন কমিটি গঠন

,
প্রকাশিত : ১৪ ডিসেম্বর, ২০২০     আপডেট : ৩ মাস আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক আগামী ২৩ ডিসেম্বর ২০২০ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের মহান কমিউনিস্ট বিপ্লবী নেতা কমরেড আবদুল হক-এর শততম জন্মবার্ষিকী উদযাপনের লক্ষ্যে প্রবীণ রাজনীতিবিদ, কবি, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শহীদ সাগ্নিককে আহবায়ক ও শ্রমিকনেতা রজত বিশ্বাসকে যুগ্ম-আহবায়ক করে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট কমরেড আবদুল হক-এর ১০০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন কমিটি, মৌলভীবাজার গঠন করা হয়। এ উপলক্ষ্যে ১৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় কমলগঞ্জ উপজেলার শমসেরনগরে কবি শহীদ সাগ্নিকের সভাপতিত্বে অনুষ্টিত এক প্রস্ততিমূলক সভায় এই কমিটি গঠন করা হয়। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট-এনডিএফ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সহ-সভাপতি নুরুল মোহাইমীন মিল্টন, বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতির মৌলভীবাজার জেলা আহবায়ক কৃষকনেতা ডা. অবনী শর্ম্মা, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রমিকনেতা রজত বিশ্বাস, ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক গণসঙ্গীতশিল্পী অমলেশ শর্ম্মা, চা-শ্রমিক সংঘের জেলা কমিটির যুগ্ম-আহবায়ক চা-শ্রমিকনেতা হরিনারায়ন হাজরা, সত্য নাইড়– প্রমূখ। সভায় বক্তারা বলেন কমরেড আবদুল হক উপমহাদেশ তথা এ দেশের কমিউনিস্ট আন্দোলন ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ক্ষেত্রে শুধু একটি নামই নয় বরং তিনি হচ্ছেন এই আন্দোলনকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে এক অগ্রসেনানী, মহান দৃষ্টান্তস্থাপনকারী এক উজ্জল নক্ষত্র। ক্রুশ্চেভ-ব্রেজনেভ-গর্বাচেভ, তিনবিশ্ব তত্ত্ব, মাও সেতুং চিন্তাধারা ও মাওবাদ মার্কা সংশোধনবাদসহ সকল রূপের সংশোধনবাদ-সুবিধাবাদের বিরুদ্ধে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ প্রতিষ্ঠায় কমরেড আবদুল হক অনন্য ভূমিকা পালন করেন। সভায় আগামী ২৩ ডিসেম্বর বিকাল ৩ টায় মহান এই বিপ্লবীনেতার শততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মৌলভীবাজার শহরের একটি মিলনায়তনে যথাযোগ্য মর্যাদায় আলোচনা সভা সফল করার সিদ্ধান্ত হয়। একই সাথে কমরেড আবদুল হক-এর ১০০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জেলার সম্ভাব্য সকল এলাকায় পোস্টারিং ও লিফলেট বিরতন করার সিদ্ধান্ত হয়।
উল্লেখ্য কমরেড আবদুল হক ১৯২০ সালের ২৩ ডিসেম্বর যশোর জেলার খড়কীতে জন্মগ্রহণ করেন। কমরেড আবদুল হক ব্রিটিশ আমলে কোলকাতায় ছাত্রজীবনে শ্রমিকশ্রেণির মতাদর্শ ও রাজনীতিতে উদ্বুদ্ধ হয়ে তৎকালীন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (ঈচও)’র সংস্পর্শে আসেন এবং শ্রমিক-কৃষক-জনগণের মুক্তির সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এ সময়ে তিনি তাদের পরিচালিত ছাত্র সংগঠন ‘ভারতীয় ছাত্র ফেডারেশন’-এর বঙ্গীয় শাখার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। এ প্রক্রিয়ায় তিনি শ্রমিক শ্রেণির আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ১৯৪১ সালে পার্টির প্রার্থীসভ্য পদ ও পরে পূর্ণ সভ্যপদ লাভ করেন। এ সময়ে ছাত্রআন্দোলন, হলওয়েল মনুমেন্ট ভাঙ্গার আন্দোলন, মহামন্বন্তরে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো, হাটতোলা বিরোধী আন্দোলন, তেভাগা আন্দোলন ইত্যাদি আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বকারী ভূমিকা ও অবদান রাখেন। পাকিস্তান আমলে ঐতিহাসিক খাপড়া ওয়ার্ড আন্দোলন, কৃষক আন্দোলন, সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলন, সর্বোপরি কমিউনিস্ট আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনে তিনি সকল রূপের সংশোধনবাদ ও সুবিধাবাদ-টিটো মার্কা, ক্রুশ্চেভ-ব্রেজনেভ-গর্বাচেভ মার্কা, ইউরো কমিউনিজম মার্কা, জুচে ভাবধারা মার্কা, তিন বিশ্ব তত্ত্ব, মাও সেতুং চিন্তাধারা ও মাওবাদ মার্কা, চীনকে সামনে রেখে চীন-ভিয়েতনাম-উত্তর কোরিয়া-কিউবাকে সমাজতান্ত্রিক দেশ আখ্যায়িত করা, ট্রটস্কিবাদী অবস্থান থেকে কমরেড স্তালিনের বিরোধিতা ইত্যাদি সকল রূপের সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে নীতিনিষ্ঠ আপোষহীন আদর্শগত সংগ্রাম পরিচালনা করে তত্ত্বগতভাবে পথিকৃতের অবদান রাখেন। তিনি এ দেশে কমিউনিস্ট আন্দোলনে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ এর তাত্ত্বিক ভিত্তিতে বলশেভিক ধরনের পার্টি গড়ে তোলা; এ দেশের আর্থসামাজিক ব্যবস্থা ও বিপ্লবের চরিত্র নির্ধারণ; বলপ্রয়োগে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের নির্দিষ্ট রূপ, রাজনৈতিক ও সামরিক রণনীতি ও রণকৌশল ইত্যাদি নির্ধারণে বিশেষ অবদান রাখেন। ১৯৯০-৯১ সালে সোভিয়েত সামাজিক সাম্রাজ্যবাদ ও পূর্ব ইউরোপের পতনের ঘটনাবলীর মধ্যদিয়ে সাম্রাজ্যবাদ, প্রতিক্রিয়াশীল ও সংশোধনবাদীরা “সমাজতন্ত্র ব্যর্থ”, “মার্কসবাদ-লেনিনবাদ ব্যর্থ” এবং “পুঁজিবাদ শাশ্বত ও সংকট মুক্ত” বলে যে প্রতিবিপ্লবী ঝড় তুলে, তার বিরুদ্ধে মার্কসবাদ-লেনিনবাদকে রক্ষায় হিমালয়ের মত অটল থাকার বিপ্লবী দৃঢ়তা ও আশাবাদের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত কমরেড আবদুল হক। এ প্রেক্ষাপটে কমরেড আবদুল হক রচিত পুস্তকগুলো মতাদর্শিক ও রাজনৈতিক সংগ্রাম পরিচালনায় বিশেষ অবদান রাখছে। মহান এই বিপ্লবী নেতা ১৯৯৫ সালের ২২ ডিসেম্বর ৭৫ বছর বয়সে আত্মগোপনে থেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। প্রেসবিজ্ঞপ্তি


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

দেশের কৃষক সমাজের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে সরকার: শামীমা শাহরিয়ার এমপি

13        13Sharesকেন্দ্রীয় কৃষক লীগের যুগ্ম সাধারণ...

রোটারি ক্লাব সিলেট কসমোপলিটনের বৃক্ষরোপন কর্মসূচী

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: রোটারি ক্লাব...

সাংবাদিক বাবলুর মাতা’র মৃত্যুতে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী’র শোক

         দৈনিক সমকালের সিনিয়র রিপোর্টার সাংবাদিক...