কবি শফিক ফাতেমা’র জীবনের বেশিভাগ সময় কেটেছে সিলেটের বাইরে

প্রকাশিত : ১১ এপ্রিল, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

তাসলিমা খানম বীথি:
১৯ অক্টোবর ১৯৫০ খিষ্ট্রাব্দে ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া শহরে জন্ম গ্রহণ করেন শফিক ফাতেমা। বাবা মোহাম্মদ মোজাক্কির এবং মা আয়েশা খাতুন। আট বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলায় অগন্শী গ্রামে শফিক ফাতেমার পৈতৃক নিবাস। তার বাবা ছিলেন সমবায় ডাইরেক্টরেটে সরকারী কর্মকর্তা। বাবার কর্মক্ষেত্র বদলের সুবাদে বাংলাদেশের অনেকগুলো জেলায় যাবার সুযোগ তার হয়েছে। সিলেট সরকারী অগ্রগামী বালিকা স্কুল ও সিলেট মহিলা কলেজে পড়ার সময়ের চারটি বছর সিলেটে তার নানার বাড়িতে অবস্থান করেন।

একটি উদার সংস্কৃতিমনা পরিবারের তার জন্ম। পরিবারের সদস্যরা তাকে অনুপ্রাণিত করতেন, সেই সুুবাদে তার মানসিক বিকাশ ঘটে। সাহিত্য চর্চার শুরু হয় শৈশব থেকেই। নবম শ্রেণীতে পড়ার সময় দৈনিক আজাদ পত্রিকায় ‘মকুলের মহফিলে’ একটি ভ্রমণ কাহিনী লেখার মাধ্যমে তার সাহিত্য জীবনের সূচনা। আজাদ, সংবাদ, পূর্বদেশ, জাহানে নও পত্রিকায় নিয়মিত লেখা প্রকাশিত হতে থাকে। সিলেট থেকে প্রকাশিত যুগভেরী, আল ইসলাহ, উশীষ, কলতান ইত্যাদি সংকলনে তিনি নিয়মিত লিখেছেন।

সিলেট সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তিনি এস.এস.সি ও কুমিল্লা মহিলা মহাবিদ্যালয় থেকে এইচ.এস.সি পাশ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স পড়ার সময় ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে ডা: মোহাম্মদ বদিউজ্জামান-এর সাথে তার বিয়ে হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ডিগ্রী নেবার পর স্বামীর কর্মস্থল চট্রগ্রামে বসবাস শুরু করেন। চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে এম.এ পাশ করেন। সে সময় তিনি চট্রগ্রামে রেডিওতে সাহিত্য বিষয়ক অনুষ্ঠানে নিয়মিত অংশ গ্রহণ করতেন। একসময় তার স্বামী ডা. বদিউজ্জামান লিবিয়ায় চলে যান। এজন্যে ১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দের শেষ দিকে শফিক ফাতেমা স্বামীর কর্মস্থল লিবিয়া চলে যান। সেখানে থেকে দেশে ফিরে আসেন দীর্ঘ নয় বছর পর। নব্বই এর দশক থেকে আবার লেখালেখি শুরু করেন। অনন্যা, রোববার, বিচিত্রা, বিনোদন বিচিত্রা, সবুজ পাতা, প্রথম আলো, আল আমিন, আল-মুজাদ্দিদ ইত্যাদি বিভিন্ন পত্রিকায় লেখেন। ২০০০ খ্রিস্টাব্দে তার রচিত ‘ভূমধ্য সাগরের তীরে’ নামের বইটি প্রকাশিত হয়। এটি তার প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ। মূলত তিনি ছোট গল্প লেখতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন। বেশ কয়েকটি গল্প কিছু গল্পগ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। তিনি অনেকগুলো দেশ ভ্রমণ করেছেন। তার সেইসব অভিজ্ঞতা অনেক লেখায় ফুটে উঠেছে। বাংলা ছোটগল্প রূপায়নে যে দক্ষতার প্রয়োজন হয়, পাঠক যে গল্পটি পড়ে চিন্তার জগতে আবিষ্ট হতে পারেন, যার রেশ মনের মধ্যে অনেকক্ষন থেকে যায় সে ধরনেরই গল্প লেখেন শফিক ফাতেমা।

সিলেটের প্রথম অনলাইন দৈনিক সিলেট এক্সপ্রেস ডট কম-এর পক্ষ থেকে শফিক ফাতেমা’র একটি সাক্ষাতকার গ্রহণ করা হয়। তিনি সিলেট এসেছিলেন এক আত্মীয়ের বিয়েতে। ৩০ মে ২০১৪ সিলেট নগরীর ‘রেইনবো গেস্ট হাউজে’ সাক্ষাতকারটি গ্রহণ করেন সিলেট এক্সপ্রেস-এর স্টাফ রিপোর্টার তাসলিমা খানম বীথি এবং আলোকচিত্র ধারন করেন সাংবাদিক তোফায়েল আহমদ।

বীথি: কবে থেকে লেখালেখি শুরু করেছেন? প্রথম লেখা কী ছিল এবং কত সালে?
শফিক ফাতেমা: আমার লেখালেখি শুরু ১৯৬৪ সাল থেকে। তখন আমি ক্লাস নাইনে পড়ি। প্রথম লেখা ছিল একটি ভ্রমণ কাহিনী। ১৯৬৪ সালে দৈনিক আজাদ পত্রিকার শিশু কিশোর বিভাগ ‘মুকুলের মহফিলে’ লেখাটি বের হয়।

বীথি: আপনাকে লেখালেখিতে কে বেশি উৎসাহ দিয়েছেন?
শফিক ফাতেমা: রবীন্দ্র নজরুল জয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত কবিতা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করি। সেই প্রতিযোগিতায় আমি কাজী নজরুল ইসলামের ‘নতুন চাঁদ’ নামের একটি বই পুরষ্কার পাই। তারপর থেকেই বিশেষ করে নজরুলের বই পড়ে আমার আরো আগ্রহ হয় লেখালেখির প্রতি। তাছাড়া আমার মার মুখে নজরুল সঙ্গীত, সাহিত্য বিষয়ক কথা শুনতাম। মা আমাদেরকে নজরুলের কামাল পাশা, আনোয়ার কবিতা আবৃত্তি করে শুনাতেন। সেখান থেকে লেখালেখির প্রতি আরো বেশি উৎসাহ পাই। আমার নানা বাড়িতে আমি পড়াশোনা করতাম। সেখান থেকেই আমার লেখালেখি শুরু। নানা বাড়িতে আমার খালা ও মামাদের সাহিত্য বিষয়ক আলোচনা শুনে আমারও আগ্রহ জন্মে লেখালেখিতে। তবে লেখালেখির জন্য আমার খালা মামা খুব উৎসাহ দিতেন। নানার বাড়ির অবদান আমি কখনো ভুলতে পারব না।

বীথি: আপনার নানা বাড়ি কোথায়?
শফিক ফাতেমা: আমার নানার বাড়ি সিলেট নগরীর ধোপাদিঘির পারে, এখন যেটি হাফিজ কমপ্লেক্স। আমার নানা আবু আহমদ আব্দুল হাফিজ। বর্তমান সময়ের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত হচ্ছেন আমার মামা।

বীথি: আপনার লেখা কতটা বই বের হয়েছে। বইগুলো নাম কী?
শফিক ফাতেমা: আমার ৯টি বই বেরিয়েছে। বইগুলো হলো-ভূমধ্য সাগরের তীরে ২০০০ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। হজ্জ্ব ওমরাহ জিয়ারত নিয়ে ‘স্মৃতির এলবাম’, ২০০৬। ছোট গল্প ‘এ্যাকুরিয়ামের সোনালী মাছ’ (২০০৭), মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কিশোর গল্প ‘মাগো আরো বল’ (২০০৮), মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক স্মৃতিচারণ ‘নিজগৃহে পরবাসী’ (২০০৯), নানা দেশে নানা বেশে (২০০৯), দেশে সুখ বাংলার মুখ (২০১০), সবুজ ব্যাঙলোর অবুঝের নিমহেন্স (২০১১), কিশোর বিষয়ক গল্প ‘ফিরে পাওয়া হাসি’(২০১২), পলাতক খড়কুটো (২০১৫) ও অরণ্যে বাণবেঁধা পাখি (২০১৬)।

বীথি: নতুন কোন বই বের করার পরিকল্পনা আছে কী?
শফিক ফাতেমা: অবশ্যই আছে। আরো দুটো বই আগামী বছরে একুশে বইমেলায় বের করার ইচ্ছে আছে।

বীথি: আপনার শৈশব কৈশোর কোথায় কেটেছে? শৈশবের কোন স্মৃতি মনে পড়ে কী?
শফিক ফাতেমা: আমার শৈশব কৈশোর নানা বাড়িতে কেটেছে। আমার নানা আবু আহমদ আব্দুল হাফিজ। আমার শৈশব কৈশোর এর একটি স্মৃতি সবসময় হৃদয়ে নাড়া দেয়। তখন আমি ক্লাশ সিক্সে পড়ি। তখন আমি নানা বাড়িতে ছিলাম। নজরুল জয়ন্তীর একটি অনুষ্ঠান হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানে আমি পুরষ্কার পেয়েছিলাম। কার কাছ থেকে পুরষ্কার নিয়ে ছিলাম এখন এত স্পষ্ট মনে নেই। যাই হোক সেই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির কথা মনে না থাকলেও যে পুরষ্কারটা পেয়েছিলাম সেটা আমার জীবনে বিশেষ তাৎপর্য। এটি আমি সারাজীবন মনে রাখব। এই স্মৃতি আমার আজো নাড়া দেয়। আমি এরপর অনেক পুরষ্কার পেয়েছি কিন্তু সেই স্মৃতি এখনো ভুলতে পারি না। সব সময় মনে পড়ে এই বিশেষ স্মৃতির কথা।

বীথি: নানা বাড়ি নিয়ে আর কোন বিশেষ স্মৃতি আছে কী যা আপনাকে আজো আনন্দ দেয়?
শফিক ফাতেমা: মনোপলি নামে একটি খেলা ছিল। সে খেলা আমরা ছোট ছোট মামা খালারা একসাথে সবাই মিলে খেলতাম। বেশি মজা হতো বৃষ্টির সময়। আমি আমার মামা খালারা সবাই প্রায় একই বয়সের ছিলাম, তাই খেলাধুলা করতে কোন সমস্যা হত না। নানা বাড়িতে আমাকে কেউ বকা দিত না। সবাই খুব ভালোবাসতেন। আমার মামা মোমেন (রাষ্ট্রদূত), নাজিয়া খালা, ফুয়াদ (আমেরিকা প্রবাসী) তাদের সাথে শৈশব কৈশোরে খুব মজার সময় কাটিয়েছি। আমার চেয়ে একটু বড় নাজিয়া খালা খুব আদর করতেন। সবাইকে বলতেন কেউ ওর সাথে দুষ্টুমি করবে না। ও আমাদের বোনের মেয়ে। আমার সাথে সবার খুব বন্ধুত্বপূর্ণ সর্ম্পক ছিল। এখনো নাজিয়া খালার সাথে দেখা হলে আড্ডা জমে ওঠে। অন্য খালারা দেখলে বলে কী দুই বান্ধবী এক সাথে হয়ে গেছ।

বীথি: প্রিয় লেখক?
শফিক ফাতেমা: আমার আদর্শ বা প্রিয় লেখক একজনই। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। বিশেষ করে নজরুলের গান কবিতা, ইসলামিক ভাবধারা, অসাম্প্রদায়িকতা, নজরুলের বিদ্রোহী চেতনা আমাকে খুব বেশি উজ্জীবিত করে।

বীথি: একজন নারী হিসেবে বা কবি হিসেবে আপনার অনুভব কেমন বলবেন কী?
শফিক ফাতেমা: নারী হিসেবে আমি চাই আমার অবস্থানটা আরো ভালো হক। শুধু আমার অবস্থান না পুরো নারী জাতিকে বলছি আমাদের সমাজে একজন নারীকে এখন লেখিকা হিসেবে মনে করা হয় কিন্তু লেখক বলা হয় না। আমি চাই নারীদের লেখক হিসেবে ধরা হোক। এখনো নারীরা অবহেলিত লেখক হিসেবে। আমার চিন্তা সমাজের দু:খ কষ্ট নিয়ে। আমি চাই আমার লেখায় সবকিছু ফুটে উঠুক।

 

বীথি: আপনি কী জানতেন একদিন কবি বা লেখক হবেন?
শফিক ফাতেমা: ‘না’। আমি জানতাম না। তবে এটা জানি আমি সবসময় ভাবতাম একজন লেখক হবো। আমি ভাবি লেখালেখি ছাড়া মানুষের সময় কাটে কীভাবে। লেখক হিসেবে ছোটবেলা স্বপ্ন জেগেছিল। তখন ভাবতাম কতটুকু কী হবে।

বীথি: লেখক হিসেবে নিজেকে কতটুকু সফল ভাবেন?
শফিক ফাতেমা: আমি মনে করি লেখক জীবনে মাত্র শুরু করলাম। বেঁচে থাকলে সাহিত্য আরো কিছু লিখব। কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে আমি পড়াশোনা করছি। নজরুলকে নিয়ে গবেষণামূলক গ্রন্থ বের করার খুব ইচ্ছে। আমি আরো লেখব, লিখে যাব। আল্লাহ যেন আমাকে সুস্থ রাখেন এটাই আমার প্রত্যাশা।

বীথি: জীবনে একটি অনাকাঙ্খিত মুর্হুতের কথা বলেন যা আপনাকে কষ্ট দেয়?
শফিক ফাতেমা: আমার মেয়ের মৃত্যু আমাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়। আমার দুই মেয়ে আর এক ছেলে। মেঝ মেয়ে ক্যান্সার রোগে মারা যায়। এই কষ্টটা আমাকে খুব বেশি ব্যথিত করে।

বীথি: কাকে সবচে বেশি মিস করেন?
শফিক ফাতেমা: আমার বাবাকে খুব মিস করি। মনে হয় বাবাকে যতটুকু দেয়ার কথা ছিল ততটুকু দিতে পারিনি। বাবাই শুধু আমাদের জীবনে দিয়ে গেছেন। আমরা কিছুই করতে পারিনি।

বীথি: আপনার কখন মন খারাপ হয়। মন খারাপের সময় কী করেন?
শফিক ফাতেমা: মন খারাপ যে কোন সময় হয়। মন খারাপ হলে তসবিহ পড়ি বা বই পড়ি।

বীথি: আজকের অবস্থান থেকে পেছন পানে চাইলে কী কথা মনে পড়ে?
শফিক ফাতেমা: মনে হয় আগের দিনগুলো খুব সুখের ছিল। সহজ জীবন ছিল। সামনের দিনগুলো খুব কঠিন মনে হয়। এখন চারদিকে তাকালে আতংকে থাকতে হয়। কী হবে না হবে।

বীথি: এ পর্যন্ত কী কী পুরস্কার পেয়েছেন?
শফিক ফাতেমা: ২০১০ সালে আমি রাগীব রাবেয়া সাহিত্য পুরষ্কার পাই। রংপুর পীরগঞ্জ থেকে কবিতার জন্য বজ্রকথা পত্রিকা পক্ষ থেকে পুরষ্কার পাই।

বীথি: নতুন লেখকের জন্য আপনার পরামর্শ কী?
শফিক ফাতেমা: নতুন লেখকদের জন্য আমার কোন পরামর্শ নেই। তবে একটি কথা বলব বেশি করে বই পড়ুন,.বই পড়ুন এবং বই পড়ুন।

বীথি: জীবনে কী হতে চেয়েছিলেন?
শফিক ফাতেমা: জীবনে অধ্যাপিকা হতে চেয়েছিলাম। হতে পারিনি বলে এটা আমাকে সবসময় কষ্ট দেয়।

বীথি: অবসর সময় কি করেন?
শফিক ফাতেমা: অবসর সময় বই পড়ি, টিভি দেখি আর গান শুনি। অবশ্যই নজরুল সঙ্গীত।

বীথি: নজরুল সঙ্গীতের মধ্যে কোন শিল্পী প্রিয়?
শফিক ফাতেমা: ফেরদৌস আরা, শাহীন সামাদ, খায়রুল আলম শাখী, সালাউদ্দিন আহমদ ও ইয়াকুব আলী খান। কার নাম ছেড়ে কার কথা বলব। সবার গান শুনি। আরেকজন হল নাশীদ কামাল।

বীথি: কী খেতে ভালোবাসেন?
শফিক ফাতেমা: আমি সব খেতে ভালোবাসি।

বীথি: কি অপছন্দ করেন?
শফিক ফাতেমা: মিথ্যা অপবাদ আমাকে কষ্ট দেয়। এটি অপছন্দ করি।

বীথি: আপনার শখ কি?
শফিক ফাতেমা: দেশ বিদেশে ঘুরে বেড়ানো।

বীথি: কোন কোন দেশে ভ্রমন করেছেন?
শফিক ফাতেমা: স্বামীর চাকুরি সুবাদে লিবিয়া ছিলাম ৯ বছর। তাছাড়া বেশ কয়েকটি দেশে ভ্রমন করেছি।

বীথি: আগামী প্রজন্মকে কেমন দেখতে চান?
শফিক ফাতেমা: সুখি সমৃদ্ধ, সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন জাতি হিসেবে দেখতে চাই।

বীথি: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কোন স্মৃতি মনে পড়ে কী?
শফিক ফাতেমা: মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার তেমন কোন স্মৃতি নেই। যুদ্ধের আগে একটি স্মৃতি আছে। যুদ্ধের কয়েকদিন আগে আমার বিয়ে হয়। তখন আমি বাবার বাসায় ছিলাম চট্টগ্রামে। আমার বিয়ের ওয়ালিমা পরের দিন নির্বাচন ছিল। নির্বাচনের সময় বাবা ভোট দিয়ে আসলে আমি বাবাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম কী মার্কায় ভোট দিয়েছেন-বাবা বলল নৌকা মার্কা ভোট দিয়েছেন। ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর। সেদিন ছিল আমার চিনিপান। তবে সেই সময় অনেক বড় ঘূর্নিঝড় হয়। তখন মনে হয়েছিল এই বুঝি সাগরের পানি এসে আমাদেরকে ভাসিয়ে নেবে।

বীথি: বাংলাদেশকে আপনি কেমন দেখতে চান?
শফিক ফাতেমা: বাংলাদেশকে আমি সুখি সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে দেখতে চাই। আমার দেশের প্রতিটি মানুষের মুখে হাসি লেগে থাকুক, প্রতিটি মানুষের বিবেক জাগ্রত বোধ থাকবে। জাতি হিসেবে আমরা নিজেদের দেশকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন দেশ হিসেবে গড়ে তুলবো। বাংলাদেশকে সুন্দর দেশ হিসেবে দেখতে চাই।

বীথি: সিলেট এক্সপ্রেস এর পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ?
শফিক ফাতেমা: ধন্যবাদ আপনাকে এবং সিলেট এক্সপ্রেসকে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

রিয়ার এডমিরাল মাহবুব আলী খাঁন এর ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: মাহবুব আলী...

ওসমানীনগরে মাদরাসা ছাত্রকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ

         সিলেটের ওসমানীনগরে এক মাদরাসা ছাত্রকে...

দেশপ্রেমের বিরলদৃষ্টান্ত ছিলেন এম.এ খান—অধ্যাপক ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: বিএনপির কেন্দ্রীয়...

স্পেনে এরশাদের চেহলাম ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

         কবির আল মাহমুদ, স্পেন :...