কবিতায় মুক্তির কথা !

প্রকাশিত : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মোহাম্মদ আব্দুল হক: ইসলাম ধর্ম মানবজাতিকে সুন্দর জীবনের পথ দেখায়। আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাসী মানুষ ইহকালীন ও পরকালীন উভয় জীবনে মুক্তির জন্যে ধর্মের পথে থেকেই ছুটেন। কোরআন ও হাদিসের জ্ঞান আয়ত্ত করে মানুষ মুক্তির পথ খুঁজে ফিরে সারাজীবন। আর এসব জ্ঞান কবি ও লেখকগণ তাঁদের কবিতায়, গল্পে ও প্রবন্ধে তুলে ধরেন সময়ের সন্তানদের জন্যে। আমি অতি কম জানতে পেরেছি এপর্যন্ত। তবু এক মানুষ হিসাবে, আল্লাহর বান্দা হিসাবে, প্রিয় নবী হযরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উম্মত হিসাবে আল্লাহর দয়ায় প্রাপ্ত জ্ঞান থেকে কিছু লিখতে পারছি, আলহামদুলিল্লাহ্‌। আমি ধর্ম ও নৈতিকতা এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রভাবে কিছু প্রবন্ধাদি ও কবিতা লিখতে সচেষ্ট হয়েছি। আমি জেনেছি আমাদের ইসলামের নবীর কাছে কবিতা গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি বলেছেন, নিশ্চয় কোনো কোনো কবিতায় জ্ঞানের কথা আছে। আবার মহানবী হযরত মুহম্মদ সা. এর এক হাদিস অনুসারে, “আল্লাহ্‌ প্রথম যে জিনিসটা সৃষ্টি করেছিলেন তা হলো জ্ঞান।” আমরা পাই পবিত্র কোরআন শরীফে আস্ শুআরা নামে একটি সূরা আছে, সেখানে কবিদের কথা আছে। তাই বলি এমন কোনো বিষয় নেই যা মহান আল্লাহ্ তায়ালা আমাদের সামনে উপস্থাপন করেন নি। আসুন কবিতা পড়ি_
‘দুনিয়ার বুকে খোদা/
সবকিছু দিয়ে সুন্দর সাজিয়ে/
তারপর দিলেন বান্দা পাঠিয়ে।/
কিতাব এলো শতেক /
প্রিয় ইনসান যেন খুঁজে পায়/
ভালোভাবে বাঁচার ঠিক উপায়।/
মানুষ বারে বারে/
ভুল করে বিপথিক হয়ে যায়/
তবু পথের সন্ধান সেতো পায়।/
খুবই বিপদে আছি/
আলোক পেয়েও ডুবেছি আঁধারে/
বলি আল্লাহ ক্ষমা করো আমারে।/
প্রতি ধাপে ধাপে/
নবী রাসূল পাঠিয়েছেন যিনি/
আমার স্রষ্টা উদার মহা জ্ঞানী।’
(কবিতা: ‘নবী মুহাম্মদ সা:’ _ মোহাম্মদ আব্দুল হক)

মহাকবি শেখ সাদী বলেন :
“নূরে গায়তি ফিরোজ চশমায়ে হুর্ /
যেশ্ তে বাশ্ দ বচশমে মোশকে কুর।” এই কাব্যাংশের বাংলা হলো, “আলো দেয় পৃথিবীতে সূর্যরই কিরণ / খারাপ লাগে চামচিকার আলোকিত করণ।” প্রিয় পাঠক, হতে পারে এজন্যেই আমাদের সমাজের দুষ্ট ও কুমতলবপূর্ণ লোকেরা জ্ঞানের কথা শুনলে সয্য করতে পারে না। অথচ এই জ্ঞান আল্লাহতালার এক অশেষ দান।

আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম আল্লাহ্ ও মহানবী হযরত সা. এর গুণাবলী তাঁর অজস্র কবিতা ও গানে তুলে এনেছেন। তাঁর বেশিরভাগ কবিতায় মানুষের মুক্তির কথা এসেছে। তিনি ইসলামী ঐতিয্য ধারণ করে মানুষকে কুসংস্কার মুক্ত হতে অনুপ্রাণীত করেন। তিনি ইসলামের নবী সা. কে পেয়েছেন সর্বকালে। তাই তিনি বলেন _
“কত যে রূপে তুমি এলে হযরত এই দুনিয়ায়।/ তোমার ভেদ যে জানে আখেরি নবী কয় না তোমায়।/ আদমের আগে ছিলে আরশ পাকে তার আগে খোদায়।/
আদমের পেশানীতে দেখেছি তব জ্যোতি চমকায়।/ ছিলে ইব্রাহিমের মধ্যে তুমি ফুল হলো তাই নমরুদের আগুন।/ নুহের মধ্যে ছিলে তাই কিশতী তার ডুবলো না দারিয়ায়।” কাজী নজরুল ইসলাম মনেপ্রাণে আল্লাহ ও ধর্ম বিশ্বাস নিয়ে ‘খেয়াপাড়ের তরণী’ কবিতায় উচ্চারণ করেন—
“কাণ্ডারী এ তরীর পাকা মাঝি মাল্লা /
দাড়ি মুখে সারি গান লা-শরিক আল্লাহ।”

আমার একটি কবিতা যা ২০১৫ খ্রীষ্টিয় সালে নগর সাহিত্য ও প্রকাশনা সংস্থা থেকে প্রকাশিত ‘যদি থাকো কবিতায়’ কাব্যগ্রন্থে গ্রন্থিত তা হলো _
” মুক্তির মূলকথা যা কিছু / তা সবই মহান আল্লাহ্ তাআলার / লিখা আছে আরবী হরফে / এসবই ইশারা আমার আল্লাহর। /
কোথায় লিখা? কোথায় সে বইয়ের দোকান? / ‘আল কোরআন’ সেতো ‘আল কোরআন’।/ আমার মহান স্রস্টার দান।” আমরা জেনেছি আমরা মৃত্যুবরণ করবো এবং পরকালে বিচারের কাঠগড়ায় আমাদের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহর দরবারে হবে ন্যায় বিচার। জ্ঞান আলোক পেয়েও আমরা যারা ভুল করেছি, পাপ করেছি তাদের জন্যে নির্ধারিত কঠিন শাস্তির জায়গা জাহান্নাম। তাই আমাদেরকে মুক্তির জন্যে ক্ষমা চাইতে হবে আল্লাহর দরবারে এবং এ সুযোগ আমাদের আয়ুষ্কালেই নিতে হবে। আমি কবিতায় মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি _
” সময়ের ঊষাকালে দিনের শুরু/
আবার অস্তাচলে আন্ধারের হাতছানি/
পাড়ার মসজিদ থেকে আওয়াজ আসে/
প্রায় প্রতিদিন মাইক্রোফোনের ধ্বনি,/
‘ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’/
একজন কেউ চলে গেছেন স্টেশন ছেড়ে/
আর কোনোদিন ফিরে আসবেননা জানি।/
আমারও এই স্টেশন ছাড়া হবে,/
‘ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’/
আত্মীয় স্বজন পাড়া পড়শী শুনবে সকলে /দূরের আসরে পাঠকের কানে পৌঁছে যাবে / শুধু আমি তখন তোমাদের কাছে নাই।/ দূরে এক নয়া স্টেশনে বিচারের কাঠগড়ায়/ হবে ন্যায় বিচার / নামাজ আর আমলে কপালে জান্নাত/ আর মিথ্যার বেসাতিতে জাহান্নাম। / বড়ো ইচ্ছে করে আমার বিদায়ের কালে/ যাই যেন নামাজ আদায় করে/ আর মুখে অন্তরে জপি আস্তাগফিরুল্লাহ্।।” ( কবিতা : ‘আস্তাগফিরুল্লাহ্’ _ মোহাম্মদ আব্দুল হক)

আল্লাহ্ জানেন আমরা গুনাহের কাজ করে গুনাগার হবো। কিন্তু আল্লাহ্ অত্যন্ত দয়ালু। তাই আমরা যাতে ক্ষমা পেতে পারি সে সুযোগ রেখেছেন। আসুন আমরা ক্ষমা চাই, আসুন জ্ঞান অর্জন করি। ন্যায় বিচারক আল্লাহতে ভয় রেখে ও মৃত্যুভয় নিয়ে আল্লাহর দান জ্ঞানকে ঠিক পথে কাজে লাগাই। আল্লাহ্‌ আমাদেরকে ক্ষমা করুন। আল্লাহ্‌ আমাদেরকে জ্ঞান দান করুন এবং আমল করার সামর্থ্য দান করুন আমিন।
লেখক কলামিস্ট, কবি ও প্রাবন্ধিক
01814093240


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের কর্মী সভা

         বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল সিলেট জেলা...

মাধবপুরে শিন্নি বিতরণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নিহত ১

         সিলেট  এক্সপ্রেস ডেস্ক : হবিগঞ্জের...

টেবিল ঘড়ির পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: আসন্ন সিলেট...