কবিগুরু ছিলেন মুক্তচিন্তার মানবতাবাদী কবি

প্রকাশিত : 10 November, 2019     আপডেট : ৪ সপ্তাহ আগে  
  

সাবেক সচিব ও রাষ্ট্রদূত কবি মোফাজ্জল করিম বলেছেন, বাংলা সাহিত্য ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অবিচ্ছেদ্য অংশ। রবীন্দ্রনাথকে বাদ দিয়ে কখনও বাংলা সাহিত্য কল্পনাও করা যায় না।কবিগুরু ছিলেন মুক্তচিন্তার মানবতাবাদী কবি। রবীন্দ্রচর্চার প্রতি আরও বেশি বেশি মনোনিবেশের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যকে আরও সমৃদ্ধিশালী করতে ভূমিকা রাখবে। সাংস্কৃতিক আন্দোলন ও শুদ্ধ সাহিত্যচর্চার মাধ্যমেই কেবল অসাম্প্রদায়িক সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব। সমাজ কিংবা রাষ্ট্রীয় জীবনে ভরে উঠুক সাহিত্যের শুদ্ধতায়। জাতীয় জীবনে বয়ে আসুক সমৃদ্ধিশালী সমাজ কাঠামো। মানবিক মূল্যবোধের উন্মেষ ঘটুক, সে প্রত্যাশায়।

পাণ্ডুলিপি প্রকাশন, সিলেট ও রোটারি আন্তর্জাতিক জেলা ৩২৮২, বাংলাদেশ-এর যৌথ উদ্যোগে শনিবার (৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সিলেটের দরগাহ গেইটস্থ কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাহিত্যসভা হলে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ রোটারিয়ান এম আতাউর রহমান পীর সম্পাদিত ‘কবিগুরুকে নিবেদিত কবিতা’ কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান ও রবীন্দ্রনাথের শ্রীভূমি : শতবর্ষে ফিরে দেখা শীর্ষক আলোচনা এবং আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবিদ সম্মাননা প্রদান-২০১৯ অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।
পাণ্ডুলিপি প্রকাশন-এর স্বত্বাধিকারী লেখক ও প্রকাশক বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল এর সভাপতিত্বে ও সাংবাদিক ফয়সল আলম এর সঞ্চালনায় এতে প্রধান আলোচক আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. বিশ্বতোষ চৌধুরী বলেন বাংলা সাহিত্যের অমর প্রাণপুরুষ, বাংলা কবিতার মহান বরপুত্র, বাংলা, বাঙালির অতি আপনজন, বাংলা সাহিত্যাকাশে নক্ষত্র বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। রবীন্দ্রনাথ প্রাণের কবি, প্রেমের কবি, জীবনের কবি, প্রকৃতির কবি, গানের কবি সর্বোপরি মানুষের ভালোবাসার কবি। আর তাই কবি ও মানুষ রবীন্দ্রনাথ সাহিত্যপ্রিয়, প্রকৃতিপ্রিয়, সব মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় এক বিশেষ স্থান দখল করে আছেন।
তিনি আরও বলেন এই বিশাল সুন্দর পৃথিবীতে যতদিন রবে সূর্য, চন্দ্র-তারা আর পাখি গাইবে গান, নদী বইবে ধারা, ততদিন পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথ অতি উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে সাহিত্য ও মানুষের মাঝে আলো ছড়াবেন। এ কথা ঠিক, মানুষ রবীন্দ্রনাথ সশরীরে আমাদের মধ্যে নেই, তার উপস্থিতি কেউ কোনোদিন আর কখনো দেখতে পাবে না, তবে তিনি মানুষের মধ্যে সতত তার কর্মের-গুণের জন্য বেঁচে থাকবেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। প্রকৃত সৃষ্টিকর্ম এবং সৃজনশীল ব্যক্তিকে কোনো কিছুর বিনিময়ে মুছে ফেলা যায় না। প্রত্যেক সৃজনশীল মানুষ তার সৃজনশীল কাজের দ্বারাই সমাজ ও মানুষের কাছে বেঁচে থাকে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বিশিষ্ট কলামিষ্ট, লেখক ও গবেষক বেলাল আহমদ চৌধুরী।স্বাগত বক্তব্য রাখেন-দৈনিক শুভ প্রতিদিনের সাহিত্য সম্পাদক খালেদ উদ-দীন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ,লেখক ও গবেষক প্রফেসর নন্দলাল শর্মা, আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. বরুণজ্যোতি চৌধুরী ও সহকারী অধ্যাপক ড. রমাকান্ত দাস। সংবর্ধিত অতিথি আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রামী চক্রবর্তী। অন্যান্যদের মধ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন- কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ সিলেটের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কর্নেল (অব.) সৈয়দ আলী আহমদ, কবি ও গল্পাকার ডা. এম এ জলিল চৌধুরীপ্রমুখ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর নন্দলাল শর্মা বলেন,কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৈচিত্র্যময় সৃষ্টিশীল সাহিত্যকর্ম বাংলা সাহিত্যকে অনেক বেশি উঁচুতে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। বিশ্ব সাহিত্য দরবারে বাংলা সাহিত্য আজ যে অবস্থানে অবস্থান করছে, পৃথিবীর মানুষকে বাংলা সাহিত্য স্পর্শ করতে সক্ষম হয়েছে তা মূলত রবীন্দ্রনাথের অক্লান্ত চেষ্টা ও সাধনার ফসল। বাংলা সাহিত্যের এমন কোনো দিক নেই যেখানে রবীন্দ্রনাথের হাতের স্পর্শ লাগেনি।

অধ্যাপক ড. বরুণজ্যোতি চৌধুরী বলেন কবিতা, ছড়া, গল্প, কথাসাহিত্য, প্রবন্ধ, নাটক_ সবখানেই রবীন্দ্রনাথের রয়েছে সরব উপস্থিতি। এমনকি তিনি সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি ছবিও পর্যন্ত এঁকেছেন। তার ছবি আজ বিশ্ববাসীর কাছে নতুন করে ভাবনার খোরাক মেটাতে সক্ষম হচ্ছে। রবীন্দ্রনাথ একজন কবির পাশাপাশি চিত্রশিল্পীও বটে। মোটকথা রবীন্দ্রনাথের কলমের কালির ছোঁয়াই বাংলা সাহিত্যের সব বিভাগই আলোর মতোই উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। ধন্য সমৃদ্ধ উন্নত হয়েছে বাংলা সাহিত্য।

অধ্যাপক ড. রমাকান্ত দাস বলেন, কবিতা গান তো মানুষের জীবনের খোরাক, প্রেরণার উৎস, চেতনার শক্তি হিসেবে কাজ করে। প্রেম, ভালোবাসা, সাম্য, সম্প্রীতি, সৌজন্যবোধ, সৃষ্টিশীলতা, মননশীলতা সব সময়ের জন্য সুন্দরের সহায়ক। আর তাই রবীন্দ্রনাথ শত শত গান, কবিতা সৃষ্টি করে মানুষের মনকে করেছেন সাহিত্যের প্রতি উৎসাহিত, দিয়েছেন অদম্য প্রেরণা, দিয়েছেন অসীম শক্তি, দিয়েছেন অকৃত্রিম ভালোবাসা। তিনি কোনোভাবেই হতাশাবাদী নন। আমরা দেখি যে তিনি তার সব রচনায় সব ক্ষেত্রে মানুষকে সমাজকে আশার আলো দেখিয়েছেন। আমাদের জীবনের সঙ্গে, চেতনার সঙ্গে, মননের সঙ্গে, আন্দোলনে, ভাষার মধ্যে, দেশপ্রেমে সৃষ্টিশীলকর্মের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন আছেন এবং থাকবেন।
সভাপতির বক্তব্যে লেখক ও প্রকাশক বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল বলেন, বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান সবার উপরে। রবীন্দ্রনাথের জীবনাচার সম্পর্কেও জানার শেষ নেই। মূলত: কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনের প্রতিটি মূহূর্তকে যেমন উপভোগ করেছেন, তেমনি তার সৃষ্টিশীল রচনা আমাদের চলমান জীবনে এক অমিত শক্তি হিসেবে কাজ করে। বাঙালি মনন কিংবা চিন্তার জগতের সূক্ষ্ম অনুভূতিকে যে ক’জন কবি-সাহিত্যিক শক্তভাবে নাড়া দিতে পেরেছিলেন রবীন্দ্রনাথ তাঁদের মধ্যেও অন্যতম।

 

আরও পড়ুন