ওসামানীনগরে ধর্ষণ মামলার আসামি-পুলিশের ‘গোলাগুলি’ :আহত ৪

প্রকাশিত : ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯     আপডেট : ৭ মাস আগে  
  

ওসমানীনগরে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলার আসামীকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসার সময় পুলিশের উপর হামলা করে ধর্ষক খোকনকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে আসামীর স্বজনরা। পুলিশের গাড়ি থেকে চালিয়ে যাবার সময় পুলিশের ছুড়া গুলি আসামী খোকনের পায়ে লেগে আহত হয়। এ সময় আসামীদের হামলায় ওসমানীনগর থানার দুই পুলিশ অফিসার সহ ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। রোববার দিবাগত রাত পৌনে একটার দিকে উপজেলার উমরপুর ইউপির খুজগীপুর এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।

ঘটনার পর রাতেই গুলিবিদ্ধ আসামী খোকনকে ভর্তি করা হয় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। একই সময় আহত ৪ পুলিশও প্রাথমিক চিকিৎসা নেন ওসমানী হাসপাতালে।

পুলিশ ও নির্যাতিতা কিশোরীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, খুলনার বাগেরহাটের জাহাঙ্গীর আলীর ছেলে খোকন মিয়া (৩৫) প্রতারণা করে খুলনা সদরের এক কিশোরীকে (১৪) সিলেটের ওসমানীনগরের উমরপুর ইউপির কামালপুর গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী মাহমদ আলীর বাড়িতে রেখে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ করে আসছিল। ওই প্রবাসীর বাড়ির কেয়ারটেকার হচ্ছে খোকনের পিতা জাহাঙ্গীর। এর আগে খোকন খুলনা সদরের বাসিন্দা ওই কিশোরীর মায়ের সাথেও অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে দীর্ঘ দিন তাকে ধর্ষণ করে।

এদিকে বিষয়টি কিশোরীর মা জানতে পেরে সিলেট আসেন। রোববার রাতে ওসমানীনগর থানায় অপহরণ ও ধর্ষণের
অভিযোগে (মামলা নং-১০) দায়ের করেন। থানায় কিশোরীর মায়ের দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে খোকনকে গ্রেফতার ও কিশোরীকে উদ্ধার করতে রোববার দিবাগত রাত পৌণে ১টায় উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের প্রবাসীর বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ।

এসময় পুলিশ ধর্ষক খোকনকে গ্রেফতার করে এবং ভিকটিম কিশোরীকেও উদ্ধার করে। গ্রেফতারের পর খোকনকে ওসমানীনগর থানায় নিয়ে আসার পথে উমরপুরের খুজগিপুর নামক এলাকাতে সে পুলিশের গাড়ি থেকে লাফিয়ে পড়ে পালানোর চেষ্টা করে। তখন পিছন দিকে থাকা খোকনের পিতা জাহাঙ্গীর ও অন্যরা খোকনকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশের উপর হামলা চালায়। আসামী খোকন দৌড়ে পালানোর সময় পুলিশ সদস্যরা তাকে গুলি করে। সে ডান পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়। পিছনে থাকা খোকনের পিতা জাহাঙ্গীর ও খোকনের সহযোগীদের হামলায় ওসমানীনগর থানার এসআই সাইফুল মোল্লা, এসএসআই ইয়াসির আরাফাত, কনস্টেবল জীবন ও শিমুল সহ ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়।

পুলিশের কাছ থেকে আসামী ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে খোকন ও তার পিতা জাহাঙ্গীরসহ তাদের সহযোগীদের আসামী করে ওসমানীনগর থানার এসআই সাইফুল মোল্লা বাদী হয়ে পৃথক আরেকটি পুলিশ অ্যাসল্ট (মামলা নং-১১) দায়ের করেছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওসমানীনগর থানার ওসি এসএম আল মামুন জানান, উপজেলার উমরপুরের কামালপুরের এক প্রবাসীর বাড়িতে খুলনা বাগেরহাটের জাহাঙ্গীর কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করে আসছে প্রায় ৩০ বছর ধরে। তার ছেলে খোকন মিয়া খুলনাতে গাড়ি চালাতো। এই সুবাদে ঐ স্বামী পরিত্যক্তা কিশোরীর মায়ের সাথে খোকনের প্রেমের সম্পর্ক হয়। তারা খুলনা সদরে একসাথে একটি ভাড়া বাড়িতে দীর্ঘদিন বসবাস করেছে স্বামী-স্ত্রীর মতো।

এক পর্যায়ে মহিলার কিশোরী মেয়ের সাথেও খোকনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যা শারীরিক সম্পর্ক পর্যন্ত গড়ায়। মায়ের কথিত স্বামী খোকন কিশোরী কন্যাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে খুলনা থেকে গত ঈদ উল আযহার পরে সিলেটে চলে আসে।

এরপর থেকে সে কামালপুরে প্রবাসীর বাড়িতে বাবার কাছে আশ্রয় নেয়। স্ত্রী পরিচয়ে রেখে দিনের পর দিন কিশোরীকে ধর্ষণ করে আসছিল। ভিকটিম কিশোরীকে গতকাল সোমবার সকালে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টর (ওসিসিতে) ভর্তি করা হয়েছে এবং পুলিশের কাছ থেকে আসামী ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা কালে পুলিশ ছুড়া গুলিতে আসামী খোকন গুলিবিদ্ধ ও ৪ পুলিশ সদস্য আহত হন।

এ ঘটনায় ধর্ষক খোকনের পিতা জাহাঙ্গীরকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন