একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এবং তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসা মানুষের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা

প্রকাশিত : ০৫ নভেম্বর, ২০১৮     আপডেট : ১ বছর আগে  
  

চোখের সামনে ঘেটে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। মারা গেল দুটি প্রাণ, এতিম হল দুটি সন্তান।
এয়ারপোর্ট থেকে ডিউটি শেষ করে বাসায় ফিরছি। লাক্কাতুরা চাবাগানের রাস্তার উচু অংশ থেকে ডাউনে নেমে আসতেই দেখি চারজন লোক রাস্তায় পড়ে চটপট করতেছে এবং কেউ দেখে চলে যাচ্ছে কেউ দাঁড়িয়ে আছে কিন্তু কারো মধ্যে হেল্প করার চেষ্টা নাই। দ্রুত আমার সিএনজি দাড় করিয়ে দুটি সন্তানকে আমার সিএনজতে তুললাম এবং অন্য সিএনজিতে ওদের বাবা-মাকে তুলে দেয়ার চেষ্টা করলাম। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস ৪-৫ মিনিটে অন্তত ১৫-২০ সিএনজি ড্রাইভার ও পেসিঞ্জারদের বলার পরও কোন সিএনজি ম্যানেজ করতে পারিনি। রিকুয়েষ্ট করার পর তারা খুব সহজভাবে নিজেদের কথা চিন্তা করছিল আর বলছিল তাদের সিএনজিতে গ্যাস নাই, সময় কম, দূরে যেতে হবে অথবা পেসিঞ্জারগুলো রাজি হচ্ছিলনা। তখন কিন্তু ভিকটিমরা মাটিতে কাতরাচ্ছিল (মানুষ কত অমানবিক হতে পারে তখন অনুভব করছিলাম) তখন আমি চিন্তা করলাম দ্রুত সময়ের মধ্যে যদি এদেরকে মেডিকেল পৌছাইতে না পারি তাহলে এদের বাচানো সম্ভব হবে না। তাই তাদের বাবা-মাকে ফেলে দ্রুত সন্তারদের নিয়ে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেলে ভর্তি করালাম এবং আল্লাহর মেহেরবানীতে তারা দুজন এখন বিপদমুক্ত(বলে রাখি সিএনজির পেছনে করে এদের দুজন কে নিয়ে আসা সম্ভব ছিলনা) এদের ভর্তি করার ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে তাদের বাবা-মা একই মেডিকেলে ভর্তি হল কিন্তু তখন তারা পৃথিবীতে আর বেচে নেই 😭😭। হয়তো দ্রুত সময়ের মধ্যে মেডিকেলে পৌছাইলে তাদের বাচানো যেত কিন্তু দ্রুত সময় কেউ এগিয়ে আসেনি।
মানুষ হিসাবে মানুষের বিপদে সাহায্য করা উচিৎ। উপকার করতে টাকা পয়সা লাগে না। উপকার করতে হলে সদিচ্ছাই যথেষ্ট।

আরও পড়ুন



আম পাড়তে গিয়ে…

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে...

সিলেট নগরীর মজুমদারী থেকে পাহারাদার নিখোঁজ

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক : সিলেট নগরীর...