একজন বৃক্ষ প্রেমিক বানিয়াচঙ্গের ইউএনও মাসুদ রানা

,
প্রকাশিত : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০     আপডেট : ১ মাস আগে
  • 678
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    678
    Shares

মখলিছ মিয়া হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার একজন বৃক্ষ প্রেমিক ইউএনও মাসুদ রানা। সম্প্রতি বানিয়াচং উপজেলার বিভিন্ন প্রবেশদ্বারে লাগানো হয়েছে সৌর্ন্দয্য বর্ধক প্রায় ১০ সহস্রাধিক গাছের চারা। উদ্দেশ্যে হচ্ছে হাওর অঞ্চল বেষ্টিত বানিয়াচঙ্গকে আরো সুন্দর ও বিভিন্ন জায়গা থেকে আগত পর্যটকদের একটি দৃষ্টি নন্দিত বানিয়াচং উপহার দেয়া। প্রশাসনিক কাজের শত ব্যস্ততার মধ্যেও ভূলে যাননি নিজ হাতে লাগানো গাছের পরিচর্যা করতে। কেমন আছে গাছের চারাগুলো, দেখতে ছুটে বেড়ান বানিয়াচং-হবিগঞ্জ সড়ক এবং বানিয়াচং-নবীগঞ্জ সড়কসহ বানিয়াচংয়ের বিভিন্ন প্রবেশদ্বারে। সরেজমিন গতকাল শনিবার বানিয়াচং-হবিগঞ্জ রোডে গিয়ে দেখা যায় নিজ হাতে গাছের চারাগুলোর পরিচর্যা করছেন। রাস্তায় চড়ানো গরু-ছাগল যেন চারাগুলো নষ্ট না করে, সেই জন্য নিজেই পালন করলেন রাখালের দায়িত্ব। নিরাপদ দূরত্বে রেখে আসলেন গরু-ছাগলগুলোকে। এসময় রাস্তায় চলাচলকারী মানুষজন ইউএনও’র এই বৃক্ষ প্রেমের দৃশ্য দেখে অভিভূত হন। এসময় কথা হয় ষাটোর্ধ্ব একজন বৃদ্ধের সাথে তিনি এ প্রতিনিধিকে জানান, আমার জীবনে এরকম ইউএনও দেখিনি। যিনি নিজে রাস্তায় নেমে আমাদের বানিয়াচঙ্গের মানুষের জন্য লাগানো গাছের চারাগুলো রক্ষায় নিজেই কাজ করছেন। তিনি প্রাণভরে বললেন আহ এ দৃশ্যটা দেখে আমার মনটা ভরে গেল। সত্যিই এ মহৎ কাজের জন্য ইউএনও সাহেব আমাদের কাছে অনুকরণীয় হয়ে থাকবেন। নিজের অনুপস্থিতিতে গাছের চারাগুলোকে দেখভাল করার জন্য স্থানীয় কজন তরুণকে দায়িত্ব দিয়ে আসলেন ইউএনও মাসুদ রানা। এসময় নিজে ব্যক্তিগতভাবে তাদের হাতে কিছু অর্থও দিয়ে আসলেন। এ বিষয়ে কথা হয় বৃক্ষ প্রেমিক ইউএনও মাসুদ রানার সাথে, তিনি এ প্রতিনিধিকে জানান,আমি যতদিন বানিয়াচং উপজেলায় কর্মরত আছি, সব কিছু উজাড় করে দিয়ে বানিয়াচংবাসীর জন্য সেবা করে যাবো। মানুষের জন্য কাজ করাটা একটা সৌভাগ্যের ব্যাপার। আমি মনে করি আমার এ জায়গা থেকে কাজ করার অনেক সুযোগ আছে। আমি এ সুযোগটা কাজে লাগাতে চাই। এশিয়ার বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচং। এ গ্রামটি দেখতে অনেক দূর দূরান্ত থেকে বহু মানুষ এখানে আসে। তারা এসে যেন একটি সুন্দর বানিয়াচং দেখতে পারে, এজন্য বানিয়াচঙ্গের প্রবেশদ্বারে সৌর্ন্দয্যবর্ধক গাছের চারা লাগানো হয়েছে। মাসাআল্লাহ প্রায় ৯০% চারা জীবিত হয়েছে, সব গাছ থেকেই নতুন কুঁড়ি বের হয়েছে। কিন্তু হতাশ লাগলো যখন দেখলাম অনেক গরু-ছাগল রাস্তায় অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে আর গাছের ক্ষতি করছে। অগত্যা কোন উপায় না পেয়ে নিজেই রাখাল বনে যাই, ড্রাইভারকে সাথে নিয়ে। এ গাছ আপনার, রক্ষার দায়িত্ব আপনারই, চলুন আরেকটু সচেতন হই, সুনাগরিক হিসেবে নিজের এলাকার উন্নয়নে এগিয়ে আসি।


  • 678
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    678
    Shares

আরও পড়ুন

ইন্টারনেটের গতি কম হতে পারে পাঁচ দিন

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক দেশে আগামী...

সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: বৈধ কাগজপত্র...