উৎকন্ঠায় মৌলভীবাজারের প্রবাসী পরিবারগুলো

প্রকাশিত : ০৩ মে, ২০২০     আপডেট : ৩ সপ্তাহ আগে  
  

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি ।।
পর্যটন ও প্রবাসী অধ্যুষিত মৌলভীবাজারে এখন উদ্বেগ উৎকন্ঠা। দেশ ও প্রবাসে থাকা এ জেলার স্বজনরা এখন গৃহবন্দী। তাদের যোগাযোগের মাধ্যম কেবল মুঠোফোন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অডিও কিংবা ভিডিও ফোনই প্রিয়জনের সাথে যোগাযোগের অন্যতম ভরসা। ওই কথোপকথন বোবাকান্না আর চোখের জলই কেবল একটু মনো সান্তনার সম্বল। মরণ দূত করোনায় সবই এখন লন্ডভন্ড।
পর্যটন ও প্রবাসী অধ্যুষিত মৌলভীবাজার জেলা লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। গত ১৩ এপ্রিল বিকেল ৫ টা থেকে পুরো জেলায় এই নির্দেশনা মানা হচ্ছে।
এতে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে সকল কার্যক্রম। গৃহবন্দী হয়ে পড়েছেন লোকজন। সময় যত গড়াচ্ছে ততই কঠোরভাবেই পালিত হচ্ছে করোনা প্রতিরোধ সর্তকতায় সরকারী সব দিকনির্দেশনা। জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে জমদূত করোনায় ভয়ে তটস্ত সবাই। দুনিয়া জুড়ে এমন উদ্বেগ উৎকন্ঠায় ভর করেছে দেশ ও প্রবাসে থাকা এ জেলার নাগরিকদেরও। মহামারি করোনায় সবই এখন লন্ডভন্ড। চিরচেনা দৃশ্যপট এখন অতীত। সবাই মৃত্যু ভয়ে তটস্থ। তাই কোথাও নেই কোন জটলা। এ জেলার পর্যটন স্পট, হাটবাজার আর রাস্তাঘাট। বলতে গেলে সবখানেই এখন জনমানব শূন্য। তারপরও সর্তক টহল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। সর্বত্রই বিরাজ করছে করোনার ভয়ার্ততা। এ জেলার প্রবাসী পরিবারগুলোর স্বজনদের এখন শুধু চোখের জল আর মুঠোফোনই সম্বল। এ প্রান্ত থেকে অপ্রান্তে কথোপকথনেই নিজেদের মাঝে খোঁজছেন মনো সান্তনা। জীবন ঝুঁকির এই চরম দূর্দিনে তারা যেমন পাশে থাকতে পারছেন না। তেমনি প্রবাস হতে নিজ দেশেও আসার কথা বলতে পারছেন না। শুধু উভয় পক্ষয়ই অশ্রুজলে সিক্ত হয়ে একে অন্যকে সর্তক করছেন। আর সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করছেন। করোনায় আপনজনকে এখন দূরে ঠেলে দিয়েছে। দিন যত গড়াচ্ছে ততই পরিসংখ্যান বাড়ছে করোনার আক্রান্তের ও মৃতের। দুনিয়া জুড়ে এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কে রাত দিন কাটছে প্রবাসী অধ্যুষিত এজেলাবাসীরও। পর্যটন ও প্রবাসী অধ্যুষিত মৌলভীবাজার এখন উদ্বেগ উৎকন্ঠায় কাটছে রাত দিন। শহর কিংবা গ্রাম। শহরের অলিগলি আর গ্রামের মোড়ের দোকান সবই এখন বন্ধ। শুধু নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকান সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নির্দিষ্ট নির্দেশনায় অল্প পরিসরে রয়েছে খোলা। তবে আগে থেকেই বাড়তি সর্তকতায় সব খানেই এখন লকডাউন। আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক নজরদারী। প্রয়োজন ছাড়া কেউ হাট বাজারে আসলে দিতে হচ্ছে কৈফিয়ত। নিজ থেকেও লোকজন হচ্ছেন সচেতন। থাকছেন সজাগ। পাড়া প্রতিবেশীদের চাল চলন আর দেশ বিদেশের গণমাধ্যমের খবরের প্রতি চোখ রাখছেন। রাখছেন মনোসংযোগও। দেশের বাহির থেকে নিজ পরিবারের সদস্যরা ফোনে সেখানেও তাদের গৃহবন্দী আর কঠোর সর্তক থাকার কথা জানাচ্ছেন। নিজ স্বজন আর বসত ভিটার জন্য মন কাঁদলেও আসতে পারছেন না দেশে। গেল কয়েক মাস থেকে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স তুলনামূলক কম আসায় প্রভাব পড়ছে সর্বত্রই। জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়, প্রবাসী কল্যাণ কার্যালয় কোথাও এ জেলার প্রবাসীদের সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও স্থানীয়দের ধারণা প্রায় ৪-৫ লক্ষাধিক প্রবাসী রয়েছেন এজেলায়। এদের মধ্যে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, ফান্স, স্পেন, কানাডা,মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে রয়েছেন সবচেয়ে বেশি। অধিকাংশই আছেন স্বপরিবারে। বলতে গেলে প্রবাসীদের উপর নির্ভর করেই চলে এ জেলার বাসিন্দাদের জীবন জীবিকা। তাদের পাঠানো রেমিটেন্সই চাঙ্গা থাকে এখানকার ব্যবসা বাণিজ্যসহ আর্থিক সকল খাত।
জানা যায় এবছরের শুরুতেই বিশ্বজুড়ে করোনা পরিস্থিতির জন্য অন্যান্য বছরের চাইতে টাকা আসতে থাকে কম। প্রতিবছরই এই সময়টাতে প্রবাসীরা দেশে আসেন আর পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের নিয়ে পর্যটন স্পটগুলো ঘুরে বেড়ান। তাছাড়া বিয়ে শাদী, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় নানা আচার অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। এতে করে জমজমাট থাকে এ জেলার ব্যবসাবাণিজ্য ও অন্যান্য সব অঙ্গন। প্রবাসীরা প্রতিবছরই এই সময়য়ে গৃহ নির্মাণের কাজও চালান। এতে করে ব্রিকফিল্ড, রড, সিমেন্ট, টাইলস, হার্ডওয়্যারসহ গৃহ নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবসাও থাকে জমজমাট। এ সময়টাতে নির্মাণ শ্রমিকসহ একটি বিশাল শ্রমিক গোষ্ঠির হয় ব্যাপক কর্মসংস্থান। কিন্তু এবছর সব কিছুতেই ভাটা পড়েছে করোনা ভাইরাসের কারনে। গতকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কথা হয় দুবাই প্রবাসী মুহিবুল আলম খান জুনেদ, ওমান প্রবাসী আব্দুল ওয়াহিদ খান, সৌদি আরব প্রবাসী দোলোয়ার হোসেন ও আব্দুল ওয়াহিদ, স্পেন প্রবাসী সিদ্দিকুর রহমান, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাব্বির আহমদ,যুক্তরাজ্য প্রবাসী মাঈন উদ্দিন ও নাছিমা রহিমসহ অনেকেরই সাথে তারা সকলেই কাঁন্না জড়িত কন্ঠে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে বলেন প্রবাস জীবনে স্বজন ও পরিজন ছাড়াই এখন আমরা মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েছি। আমরা সবাই এখনো ভালো আছি। আর হয়ত বেঁেচ থাকলে দেশবাসীর সাথে দেখা হবে ইনশাআল্লাহ। তারা বলেন পরিবারের সবাইকে নিয়ে নিজ বাসায় অবরুদ্ধ হয়ে (হোম কোয়ারেন্টিনে) আছেন। দীর্ঘদিন থেকে বাসায় অবরুদ্ধ থাকতে থাকতে তারা অনেকটাই মানষিক যন্ত্রণায় ভোগছেন। তারপরও করোনা সংক্রমণের ভয়ে তটস্থ থাকায় নিজ থেকেই রয়েছেন অবরুদ্ধ। একই অবস্থা এদেশে থাকা স্বজনদের। প্রবাসে থাকা স্বজন, প্রিয়জন ও নিজেদের বাচাঁ মরার দুশ্চিন্তায় এখন রাত দিন একাকার। এ জেলার প্রতিটি গ্রাম ও শহরের বাসিন্দাদের মাঝে এমন দৃশ্যই এখন প্রতিয়মান।

আরও পড়ুন



সময়ের সঙ্গে থেকে সময়কেঅতিক্রম করাই লেখকের স্বার্থকতা

কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের ১০৩১তম...

একজন যুবতীর কথা…

তাসলিমা খানম বীথি: ১. ‘যে...