উপন্যাস: দরজার আড়ালে-কামরুল আলম

,
প্রকাশিত : ১৮ অক্টোবর, ২০২০     আপডেট : ৪ দিন আগে
  • 262
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    262
    Shares

এক্সপ্রেস সাহিত্য ডেস্ক ধানক্ষেতের আল দিয়ে মাথা নুইয়ে যেতে যেতে কোমরে ব্যথা হয়ে গেল সাগরের। মাথাটাতেও প্রচণ্ড ব্যথা করছে। পেটে কোনো দানাপানিও পড়েনি বিগত ২৪ ঘন্টায়। ধানক্ষেতের নিচে শুয়ে থাকতেও পারছে না, মাথা তুলে দাঁড়ানোরও সাহস করতে পারছে না সে। যে বাড়ির পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে এসেছে সে বাড়ির অবস্থা এখন কেমন? যে সন্ত্রাসীরা সাগরকে ধাওয়া করেছে তারা নিশ্চয়ই দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করেছে। অথবা ভদ্রমহিলা নিজেই দরজা খুলে দিয়েছেন। ঘরের ভেতর সাগরকে না পেয়ে সন্ত্রাসীরা নিশ্চয়ই পেছনের দরজায় উঁকি দিয়েছে। বলা যায় না হয়তো ধানক্ষেতের দিকেই ছুটে আসছে তারা।
ভাবনার সাগরে হাবুডুবু খাওয়া সাগর হাঁপাতে হাঁপাতে হামগুড়ি দিয়ে বসে পড়ল। আসুক ওরা, মেরে ফেলুক তাকে। প্রাণ বাঁচানোর জন্য দৌড়াতে দৌড়াতে প্রাণটাই না বিসর্জন দিয়ে দিতে হচ্ছে!
কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে মাথা উঁচু করে পেছন দিকে তাকাল সাগর। না, কোথাও কেউ নেই। তার মানে দাঁড়াচ্ছে সাগরের পেছনে কেউ তাড়া করেনি। যাক ছেলেগুলো তাহলে সেখান থেকেই ফিরে গেছে।
ক.
দরজায় প্রচণ্ড শক্তিতে আঘাত করার আগেই সিটকিনি খুলে দিলেন রহিমা বেগম। হন্তদন্ত হয়ে ভেতরে প্রবেশ করল ছেলেগুলো। তন্ন তন্ন করে খুঁজতে লাগল। রহিমা বেগমের শাশুড়ি অসুস্থ। ঘুমিয়েছিলেন তিনি। হইচই শুনে ঘুম ভাঙল তার। দেখতে পেলেন তার কক্ষে কয়েকটি ‍যুবক ছেলে। ‘কে রে তোরা’ বলতেই একজন বৃদ্ধা মহিলার খাটিয়ায় লাথি মারল। দৌড়ে এসে ‘দাদি মা’ বলে চিৎকার করল পলাশ। এদিকে রহিমা বেগম কী করবেন কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না। ছেলেগুলো তাকে জেরা করতে লাগল।
শেষ পর্যন্ত নিজেদের জীবন রক্ষার্থে তিনি সবটা বলে দিলেন। বললেন, ঘরের পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে গেছে ছেলেটি। আমরা তাকে চিনি না। হঠাৎ এসেই ঘরে প্রবেশ করেছিল।
.
চিনি না বললেই হলো। এতবাড়ি থাকতে তোদের ঘরে ঢুকবে কেন ও?
বলল যুবকদের একজন।
পাছায় লাথি মারলে সব কথা বেরিয়ে আসবে। বলল আরেকজন।
একজন এসে জানাল, পেছনের দরজা খোলা। বাড়ির পাশেই ধানক্ষেত। ওদিকে পালিয়েছে সম্ভবত ছোকরাটা।
পালিয়ে যাবে কোথায়? ধরা ওকে পড়তেই হবে। বলল একজন।
বস, আমরা কি ওর পিছু নেব?
দরকার নেই। এত কষ্ট করে ধরা লাগবে না। এই মাগিটাকে ঠিকমতো ধরতে পারলেই ও ছুটে আসবে। ধরা দেবে আমাদের হাতে।
.
কথা বলতে বলতেই যুবকটি রহিমা বেগমের গায়ে হাত দিলো। শাড়ির আঁচল ধরে এক টান দিয়ে খুলে ফেলতে চাইল। রহিমা বেগম নিজেকে বাঁচানোর জন্য চেষ্টার ত্রুটি করলেন না।
.
পলাশ মায়ের এ অবস্থা দেখে চিৎকার করে কাঁদতে লাগল। কেঁদে কোনো লাভ হলো না। গণধর্ষণের শিকার হলেন রহিমা বেগম। ‘গাজীপুরে গৃহবধুকে পালাক্রমে ধর্ষণ’! পত্রিকাওয়ালাদের আরেকটি মুখরোচক সংবাদ তৈরি হলো। এ কয়দিনে সারাদেশে ধর্ষণের সংখ্যা যেন বাড়তেই আছে।
খ.
শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছে ইনজামাম। তার পেটে ছুরি দিয়ে আঘাত করেছিল সন্ত্রাসীরা। এখন অনেকটাই সুস্থ সে। আধশোয়া অবস্থায় বসে আছে বিছানায়। তার বামপাশে বসেছে সাকিব হাসান। সে সত্যের আলো ফ্রেন্ডসক্লাবের গাজীপুর শাখার সভাপতি। সামনে দাঁড়িয়ে আছে ফ্রেন্ডসক্লাবের সদস্যদের কয়েকজন।
.
যাক ইনজি ভাই সুস্থ হয়ে উঠেছেন দেখে বেশ ভালো লাগছে।
বলল উপস্থিত সদস্যদের একজন।
কিন্তু আমি ভাবছি সাগর ভাইয়ের কথা। বলল ইনজামাম।
তিনি নিশ্চয়ই পালাতে সক্ষম হয়েছেন। টেনশন করো না। ইনজামামের হাতে হাত রেখে বলল সাকিব।
.
ইনজামামকে সান্ত্বনার বাণী শোনালেও ভেতরে ভেতেরে উদ্বিগ্ন সাকিবও। গতকালের সত্যের আলোতে ছাপা হওয়া খবরের নদীতে ভেসে ওঠা সেই লাশ তাহলে সাগর ভাইয়ের ছিল না। তিনি তো ধরা পড়েছিলেন। বেঁচে ফিরলেন কী করে? আবার তাকে মেরে ফেলার জন্য কারা এত উঠেপড়ে লাগল?
সাকিব ভাই, এই খবরটা দেখেছেন কি?
কী খবর সবুজ?
এই দেখুন, বলে নিজের মুঠোফোনটি সাকিবের হাতে তুলে দিলো সাইফুল ইসলাম সবুজ। সে সত্যের আলো ফ্রেন্ডসক্লাবের গাজীপুর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক।
সবুজের মুঠোফোনের স্ক্রীনে একটি নিউজের লিংক। সাকিব পড়তে লাগল নিউজটি।
.
গাজীপুরের দক্ষিণ ছায়াবীথি এলাকায় গণ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক গৃহবধু। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল দুপুর ১২টার দিকে।
.
টংগী থানায় ধর্ষিতার দায়েরকৃত মামলার বরাত দিয়ে ওসি হাসানুর রহমান জানান, দক্ষিণ ছায়াবীথি এলাকায় এক গৃহবধুর স্বামী ঢাকায় কাজ করার সুবাদে বাড়িতে একা থাকা অবস্থায় একদল সন্ত্রাসী কর্তৃক গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে হঠাৎ একজন বিপদগ্রস্ত যুবক এসে হাঁপাতে হাঁপাতে দরজায় ধাক্কা দিলে গৃহবধু তাকে দরজা খুলে ঘরে আশ্রয় দেন মানবিক কারণে। যুবকটি জানায় সন্ত্রাসীরা তার পিছু নিয়েছে। তারা তাকে মেরে ফেলতে চায়। এ সময় আরও কয়েকজন যুবকের উপস্থিতি টের পাওয়া যায় দরজার বাইরে। বিপদগ্রস্ত যুবকের অনুরোধে গৃহবধু তাকে পেছনের দরজা দিয়ে বাড়ি থেকে পালাতে সহায়তা করেন। এরপর সন্ত্রাসীরা ঘরে প্রবেশ করে ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে হুমকি-ধামকি দিতে থাকে। এক পর্যায়ে সবাই মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করে গৃহবধুকে। ধর্ষণকারী কিংবা পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যাওয়া যুবক কাউকেই চিনেন না বলে জানিয়েছেন ধর্ষিতা গৃহবধু। ফলে অজ্ঞাতনামা ৪জনকে আসামী করে ধর্ষিতা নিজেই বাদি হয়ে টংগী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
.
এ বিষয়ে টংগী থানার ওসি হাসানুর রহমান বলেন, ধর্ষিতাকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মামলাটির তদন্ত রিপোর্ট হাতে আসার পর ধর্ষকদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালানো হবে। [চলবে]


  • 262
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    262
    Shares

আরও পড়ুন

১৩ দিনব্যাপি শিশু চারুকলা উৎসব এর উদ্বোধন

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: আগামীর আকাশে...

পিঠা উৎসবের উদ্বোধনে নিজ হাতে পিঠা বানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

         সিলেটে জাতীয় পিঠা উৎসবের উদ্বোধনী...

নবীগঞ্জে উন্নয়ন মেলার উদ্বোধন

         মোঃ আলমগীর মিয়া নবীগঞ্জ থেকে॥...

শ্রমিক ইউনিয়ন গোয়াইনঘাট উপ-পরিষদের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

         সিলেট জেলা সিএনজি চালিত অটোরিক্সা...