ইমাম হুসাইন (রাঃ) এর মাথা দ্বিখন্ডিত করার পরিণাম

প্রকাশিত : ২৯ আগস্ট, ২০২০     আপডেট : ৪ সপ্তাহ আগে
  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    3
    Shares

আ বু সা ঈ দ আ ন সা রী :
আজ সেই ১০ই মোহাররাম। ৬১ হিজরীর আজকের এই দিনে কারবালায় ইমাম হুসাইন (রাঃ) বীরের মতো যুদ্ধ করেই যাচ্ছিলেন, একসময় সীমার বিন জিল যাওশান এবং সিনান ইবনে আবি আনাস নাখায়ি হুসাইন (রাঃ) কে আক্রমণ করলো, এক পর্যায়ে তারা চরম আঘাত করে রাসুলুললাহ (সাঃ) এর আদরের পৌত্রের শিরচ্ছেদ করে। দ্বিখন্ডিত মাথা পাঠায় কারবালার হত্যাকান্ডের মূল খলনায়ক পাপিষ্ঠ গভর্নর ওবায়দুললাহ ইবনে জিয়াদের কাছে।সে ইমামের মাথার মধ্যে একটি লাঠি দিয়ে ঠোকর দিতে থাকে। আহারে! অথচ আনাস (রাঃ) বলেছেন, এই মাথার এমন কোনো অংশ নেই যেখানে তাঁর নানা আল রাসুল (সাঃ) চুমো দেন নি।
পরবর্তিতে এ মাথা কি করা হয়? এ ব্যাপারে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে, ‘তাবাকাতে কুবরা’র লেখক ইবনে সা’দ যে মতটি গ্রহণ করেছেন তা হলো ‘ইয়াযীদ হুসাইন (রাঃ) এর মাথাকে মদীনার শাসক আমর বিন সাঈদের কাছে পাঠান। আমর ঐ পবিত্র মাথাটিকে কাফন পরানোর পর বাকী গোরস্তানে ফাতিমাহ (রাঃ) এর কবরের পাশে দাফন করেন।
ইমাম হুসাইন (রাঃ) শাহাদাতের ৫ বছর পর মুখতার সাক্বাফি নামক এক নেতা ঘাতকদের শাস্তি দেয়ার জন্য জনপ্রিয় গণ-আন্দোলন গড়ে তুলেন, (ইতিহাসে তা তাওয়্যাবিন নামে পরিচিত) এবং কুফা ও ইরাকে তাঁর শাসন-ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি হুসাইন (রাঃ) হত্যায় জড়িত প্রত্যেক ঘাতককে খুঁজে বের করে একের পর এক হত্যা করেন। হুসাইন (রাঃ) হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের মধ্য থেকে গড়ে প্রতিদিন ২৪৮ জনকে হত্যা করেন মুখতার।
সীমারকে ধরে এনে তাকে হত্যা করা হয় এবং তার শরীরের মাংস কুকুরকে খাওয়ানো হয়। ঘাতক সিনান ইবনে আনাস কুফা ছেড়ে পালিয়ে যায়। মুখতার তার ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে ছারখার করে দেন। মুখতার সাক্বাফির নেতৃত্বে মুসআব ইবনে যোবায়েরের সঙ্গে এক যুদ্ধে প্রাণ হারায় পাপিষ্ঠ ইবনে জিয়াদ। তারপর তার মাথাও এভাবে দ্বিখন্ডিত করা হয়! যখন ওবায়দুল্লাহ ইবনে জিয়াদের মাথা নিয়ে আসা হলো তখন কোত্থেকে একটি একটি সাপ এসে মাথার ফাঁকে ফাঁকে প্রবেশ করে। সবশেষে সাপটি ইবনে জিয়াদের নাকের দুই ছিদ্রের ভেতর ঢুকে পড়ে। কিছুক্ষণ মাথার ভেতরে থেকে আবার বেরিয়ে এসে চলে যায়। কিন্তু সাপটি কোথায় গেল তা দেখা যায়নি। কিছুক্ষণ পর আবার দেখা যায় সাপটিকে। লোকেরা আবার বললো, এসে গেছে। সাপটি দুই তিনবার এই কাণ্ড ঘটায়। (’তিরমিজি: ২য় খণ্ড, ২১৮ পৃষ্ঠা)
আসুন ইতিহাস থেকে আমরা শিক্ষা নেই। কারবালার ঘটনা যেন আর না ঘটে এ ধরায়। আল্লাহ আমাদের সবার প্রতি রহম করুন।
আমিন।
আ বু সা ঈ দ আ ন সা রী
আগষ্ট ২৯, ২০২০।। লন্ডন, ইংল্যান্ড।


  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    3
    Shares

পরবর্তী খবর পড়ুন : যে স্মৃতি মেনে নিতে কষ্ট হয়!

আরও পড়ুন

জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেলে তিনদিনের শোক ঘোষণা

         নিজস্ব প্রতিবেদক: নেপালে বিমান দুর্ঘটনায়...

জাতীয় অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরীর মৃত্যুতে লিডিং ইউনিভার্সিটির শোক

         বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, বিখ্যাত প্রকৌশলী, গবেষক,...

এফআইভিডিবি’র জনপদ সুরক্ষায় সংবর্ধনা ও সুধী সম্মিলন সম্পন্ন

         নিজ কর্মস্থলে দায়িত্বে থাকাকালে দক্ষতার...