ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন

প্রকাশিত : ৩০ এপ্রিল, ২০২০     আপডেট : ২ মাস আগে

সৈয়দ মবনু
ইন্নালিল্লাহ কেন? কারণ, আমাদেরকে যারা নেতত্বে দিচ্ছেন তাদের মূর্খতায় আমি কিংকর্তব্য বিমূঢ়। তারা এতই মূর্খ যে ধানের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞানটুকুও নেই। ধান হলো এমন এক জিনিষ, যে বেশি পানি পেলে যেমন নারাজ হয়, তেমনি পানি না পেলেও নারাজ হয়। সে বাতাসের যেমন প্রত্যাশী, তেমনি বেশি বাতাস পেলে হয় ক্ষুব্ধ। সে পেকে গেলে ঘরের বউয়ের মতো খুবই স্পর্শকাতর হয়ে যায়। যে কেউ তাকে দেখতে পারেনা, স্পর্শ করতে পারেনা। সে এতে খুব নারাজ হয় এবং গাছ থেকে ঝরে যায়। আমাদের নেতাদের সেই জ্ঞানটুকুও নেই। আর এমন মূর্খ কান্ডজ্ঞানহীন নেতাদের নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কীভাবে জাতীর এই ক্রান্তিকাল অতিক্রম করবেন? তাই ইন্নালিল্লাহ পড়তে হলো।

ধান শুধু কৃষকের সম্পদ নয়। ধান সর্বদাই আমাদের রাষ্ট্রের সম্পদ। ধান পেকেছে, কৃষক ধান কাটবে, ঘরে আনবে। আপনারা দিলেন ধানকে নষ্ট করে। কৃষক গরীব মানুষ, সে নীরবে ধৈর্য্য ধারণ করে থাকবে আপনাদের বিভিন্ন রকমের বাহিনীর ভয়ে। কিন্তু তাঁর অন্তরের কান্না কি আপনাদের বাহিনী থামাতে পারবে? আপনাদের মতো সঙ্গীদেরকে নিয়ে এই সরকার কীভাবে কি করবে আল্লাহই ভালো জানেন?

আপনাদের এগুলো শুধু ফাইজলামি নয়, বেআইনীও। তা ছাড়া আপনারা নিজেরা লকডাইনের আইন করে সেই আইনকে ভাঙলেন, অতঃপর কোন যুক্তিতে সাধারণ মানুষ লকডাউন মানবে? মানুষের মনে যদি স্বেচ্ছায় লকডাউনের প্রতি সম্মান জন্মাতে না পারেন তবে পুলিশ, আর্মি, র‌্যাব দিয়ে কতদিন আটকাতে পারবেন? আপনারা যদি আইন ভাঙতে শুরু করেন তবে জনগণ ভাঙতে প্রেরণা পাবে, তখন কিছু করার থাকবে না। যাওয়াটা আপনাদের ব্যক্তিগত হলেও বিষয়টি কারো ব্যক্তিগত নয়, ধান গোটা জাতির অর্থনৈতিক সংগ্রামের বিষয়।

করোনাভাইরাসের ক্রান্তিকাল শুরু হওয়া থেকে আমি বারবার আমার বিভিন্ন লেখায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বললে আসছি আগামী সমস্যার মোকাবেলার জন্য আমাদের উচিৎ এই সংকটের সময় পদক্ষেপ নিয়ে জ্ঞান, বুদ্ধি, কর্ম এবং প্রেমকে সমন্বয় করার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা। এখনই সময় প্রকল্পের মাধ্যমে আমাদের সমস্যাসমূহের মৌলিক স্থিতিশীল সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়া। চাইলেই রাতারাতি কিছু হয়ে যায় না। তবে রাতারাতি কিছু মানুষ প্রতিজ্ঞা করে কাজের পরিকল্পনা নিতে পারে। প্রত্যেককে এখনই পরিকল্পনা নিতে হবে প্রথমে জ্ঞান ও বুদ্ধির দিকে আমাদের জাতিকে ফার্মের ভেতর থেকে বের করে কাহলিল জিব্রানের দ্যা প্রফেট কবিতার বইয়ের সেই হরিণে রূপান্তরিত করার যে স্বাধীনভাবে জঙ্গলে ঘুরে বুকের ভেতরে কস্তুরি সংগ্রহ করে। আমাদের শুধু সরকারের হাতের দিকে চেয়ে থাকলেই হবে না। প্রত্যেকে ক্ষুদ্র কিংবা বড় উদ্যোগ নিতে হবে। আমাদের সর্বপ্রকার সমস্যাগুলোকে প্রথমে সনাক্ত করতে হবে, বিশ্লেষণ করে দেখতে হবে সমস্যার মৌলিকত্ব, সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করতে হবে, অতঃপর সমাধানের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সমাধানের ক্ষেত্রে দীর্ঘমিয়াদী চিন্তা মাথায় রাখতে হবে। স্মরণ রাখতে হবে, আবেগ দিয়ে কোনকিছুর সমাধান করতে গেলে অসতর্কতাবশত সমাধানের থেকে বেশি ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। প্রত্যেক সমস্যার সমাধানে প্রকল্প তৈরিতে পরিকল্পনায় বাস্তবতা, যৌক্তিকতা এবং সমন্বয় থাকতে হবে। কাজ সঠিক হচ্ছে কি না তা বিজ্ঞান সম্মত পরিক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে পরিক্ষণ করে আত্মার সাথে সমন্বয় করতে হবে। প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে জ্ঞান, বুদ্ধি, কর্ম এবং প্রেমের সমন্বয় থাকতে হবে।

আমার এরেকটি প্রস্তাব ছিলো, কিছু মন্ত্রণালয় বিশ্বস্ত নেককার ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিদের কাছে ছেড়ে দেওয়া। যারা সর্বপ্রকার ফাইজলামী কর্ম এবং কথাবার্তা ছেড়ে করোনার ক্রান্তিকাল অতিক্রমের জন্য সুপরিকল্পিত উদ্যোগ নিবেন জনগণ ও রাষ্ট্রের সমন্বয়ে। জনগণ বলতে আমি বুঝাচ্ছি সর্বপেশা এবং সর্বস্থরের জনগণ। প্রথম উদ্যোগ নিতে হবে-বেঁচে থাকার চেষ্টা। দ্বিতীয় উদ্যোগ-দাঁড়িয়ে থাকার চেষ্টা। তৃতীয় উদ্যোগ-এই মহামারিতে হওয়া ক্ষতিকে রিকভার করা। চতুর্থ উদ্যোগ- পরিকল্পিতভাবে প্রকল্প তৈরি করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা। এভাবে ফাইজলামি করলে আমও যাবে ছালাও যাবে। আল্লাহ আমাদেরকে ক্ষমা করুন।

আরও পড়ুন