ইকোপার্ক

প্রকাশিত : ২৩ জানুয়ারি, ২০১৯     আপডেট : ২ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মোঃআরিফুর রহমান আরিফ: সে দিন আমি আর তন্নি কলেজ শেষ করে ইকো পার্কে ঘুড়তে গেছিলাম।দুপুর দুইটার সময় আমরা কলেজ থেকে বের হয়ে ইকো পার্কে যাওয়ার জন্য রওনা দেই।সরকারি কলেজ থেকে ইকো পার্কে যাওয়ার জন্য টিলাগড় পয়েন্ট হয়ে যেতে হয়।টিলাগড় পয়েন্টে যাওয়ার পর ড্রাইভার বলল,সিএনজি আর চলবে না, চালক সমিতির ধর্মঘট চলছে।কিন্তু তন্নির খুব ইচ্ছে যে সে পার্কে যাবে।যেহেতু আমি সব সময় তন্নির সকল ইচ্ছা পুরন করি তাই এটা না করে আর পারলাম না।ড্রাইভারকে ভাড়া দিয়ে আমরা হেটেই ইকো পার্কের দিকে রওনা দিলাম।যেতে যেতে ১ ঘন্টা লেগে গেলো। ভিতরে ১০ টাকা করে টিকিট করে ঢুকলাম।ঘুরতে ঘুরতে কখন যে সন্ধ্যা হয়ে গেলো বুঝতেই পারলাম না।অনেক রকমের পাখি দেখলাম।পাখিদের মধ্যে অন্যতম ছিল কাকাতুয়া, ময়না,শালিক,ময়ূর,লাভ বার্ড,দোয়েল আরও অনেক রকমের।ছিল অনেক রকমের পশুও।হরিন,জেব্রা,জিরাফ,বানর ছিল অন্যতম।তবে অজগর সাপটি ছিল বিশাল আর ভয়ংকর। আমরা দুই জন ভিতরের রেস্তোরায় নাস্তা করলাম। আর এতো সব জীবজন্তুর ছবি তুলতে তুলতে দুইজনের মোবাইলে আর এক পার্সেন্টও চার্জ নাই।হঠাৎ আমাদের খেয়াল হলো যে বাসায় তো কেউই বলে আসি নাই।আমি না হয় মেসে থাকি জবাবদিহি করতে হবে না কিন্তু তন্নির বাসায় তো চিন্তা করবে।এই দিকে আমরা যখনই বের হওয়ার জন্য গেইটে গেলাম তখনই দারোয়ান বললেন, আপনারা এখন বের হবেন না অজগর সাপটি খাঁচা থেকে পালিয়েছে। ইতিমধ্যে দুইজন মানুষকেও সাপটি কামড়ে দিয়েছে।এই কথা শুনে আমরা আর বের হতে পারলাম না।পার্কের ভিতরে আমরা সহ আরও অনেক যোগল এক রেস্তোরায় দরজা লাগিয়ে বসে আছি। এই দিকে মোবাইলে চার্জ না থাকায় তন্নির বাসায় কল দিতেও পারছি না। অন্য কারর নাম্বার থেকে দিবো সেটাও সম্ভব না তন্নির আম্মুর নাম্বার তন্নির মুখস্থ না আর আব্বুকে কল দিলে তো আর আস্ত রাখবেন না।এই ভেবে ভেবে সময় হলো

রাত ৮ টা।এই দিকে পার্ক কতৃপক্ষ সাপটি ধরতে সক্ষম হলে আমরা বের হয়ে এলাম। কিন্তু বাসায় যাবো কি করে? তন্নির বাসা যে শাহপরান আর এইদিকে চালক সমিতির ধর্মঘট। চিন্তা করতে করতে কোনো রাস্তা না পেয়ে আমরা হেটেই রওনা দিলাম। ইকো পার্কের নির্জন রাস্তায় দুইজন হাত ধরে হাটছি আর গুন গুন করে গান গাচ্ছি। কখনো কখনো একটা দুইটা শেয়াল ডেকে উঠছে সাথে কুকুর আর তন্নি ভয় পেয়ে আমায় শক্ত করে জড়িয়ে ধরছে।এই দিকে ঠান্ডায় কাপছি দুইজনই কেননা শীতের সময় কেউ শীতের গরম কাপড় নিয়ে বের হইনি।বাসায় যেতে যেতে রাত ১০ টা ৩০ বেজে গেলো।তন্নির বাসার সামনে গিয়ে দেখি বাসার গলিতে গ্যাসের লাইন স্থাপনের কাজ চলছে তাই রাতে মাটি খুঁড়ে রাস্তার নিজে কাজ করে গেছে।বাসায় যেতে হলে এই খাদ লাফ দিয়ে পেরিয়ে যেতে হবে।রাস্তায় তেমন কিছু পেলাম না যে গর্তের উপরে দিয়ে যাব।রাস্তায় কিছু পথশিশুকে শীতবস্ত্র দান করিছিলেন একদল স্বেচ্ছাসেবক দল আর এইসব কাজের ছবি তুলছিলেন কয়েকজন পত্রিকা সাংবাদিক।যাই হউক কোনো রাস্তা না পেয়ে আমি আর তন্নি লাফ দিয়েই গর্ত অতিক্রম করলাম। পরে তন্নিকে বললাম এইবার তুমি বাসায় একা চলে যাও আর আমি আমার মেসে কারম তুমার আব্বুর চালের দোকান পাড় হয়েই তুমাদের বাসায় যেতে হবে।তুমার আব্বু আমাদের একসাথে দেখলে সমস্যা হতে পারে।হঠাত খেয়াল করলাম যেই গর্ত পাড় হয়ে আমরা এসেছি সেই গর্ত থেকে কান্নার আওয়াজ ভেসে আসছে।ল্যাম্পপোস্ট এর আবছা আলোতে বুঝা যাচ্ছিল না ভিতরে কে আছে।তবে কান্নার আওয়াজ শুনে বুঝা যাচ্ছিল যে ভিতরে কোনে ৮-১০ বছর বয়সী বাচ্চা আচ্ছে।যেহেতু গর্তটা অনেক গভীর আর বড়ও তাই আমি দেড়ি না করে গর্তে নেমে যাই।কিন্তু কিছুতেই বাচ্চাটাকে উপরে তুলতে পারছিলাম না এই দিকে তন্নি চিৎকার করে সাহায্য চাইতে লাগলো আশেপাশের লোকজন আসতে লাগলো। কিন্তু এখনই যদি বাচ্চাটাকে না তুলা যায় তাহলে আমি সহ দম বন্ধ হয়ে বাচ্চাটা মারা যাবে কারন ভিতরে অক্সিজেন কম আর ড্রেনের পানি অনেক।তন্নি সাত পাচ না ভেবেই লাফ দিয়ে গর্তে নেমে গেলো এবং দুই জনে মিলে বাচ্চাটার প্রান বাঁচালো। এই দিকে আমাদের এই কর্মকান্ডের ছবি একজন সাংবাদিক তুললেন। এবং অনলাইন পত্রিকায় ছেপেও দিলেন ক্যাপশন ছিল,”প্রেমিক যোগল প্রান বাঁচালো পথশিশুর”।

এইদিকে তন্নিরর আব্বু অনলাইনে এই খবর পড়ে আমাদের দিকে লাঠি সোটা নিয়ে আসছেন দেখলাম।এরই মধ্যে হঠাত আমার ফোন বেজে উঠলো।কল ধরলাম,ওপাশ থেকে কর্কশ গলায় তন্নি বলছে কয়টা কল দিয়েছি এখনো ঘুম ভাঙেনি? ৮.৩০ বাজে কলেজ আসতে হবে না?


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

চৌধুরী ফ্যামেলি এসোসিয়েশনের আলোচনা সভা ও কমিটি গঠন

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: শুক্রবার সন্ধ্যা...

গোয়াইনঘাট এসোসিয়েশন সিলেটের দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: গোয়াইনঘাট এসোসিয়েশন...

শামসুদ্দিনে ভর্তি হলেন সাবেক মেয়র কামরান

         করোনা আক্রান্ত সিলেট সিটি করপোরেশনের...