আয়কর অধ্যাদেশ ১৭৪ ধারা পুনর্বহাল দাবি কর আইনজীবীদের

প্রকাশিত : ২৬ জুন, ২০১৯     আপডেট : ১১ মাস আগে  
  

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে আয়কর অধ্যাদেশের ১৭৪ ধারার পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার দাবি জানিয়েছেন সিলেটের কর আইজীবীরা। তারা বলছেন, আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ১৭৪ ধারার উপধারা ২ এর ক্লজ ‘এফ’ প্রভাইসোটি বাতিল করলে আয়কর পেশাজীবীদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি হবে ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। এজন্য তারা প্রজ্ঞাপনটি অবিলম্বে বাতিলের আহ্বান জানান।
বুধবার দুপুরে সিলেট জেলা কর আইনজীবী সমিতির সম্মেলন সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানানো হয়। সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুল আলীম পাঠানের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সমিতির সভাপতি এডভোকেট মো. আবুল ফজল।
সরকারের রাজস্ব আহরণে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়কর আইনজীবীরা পাশাপাশি সহযোগী ভূমিকা পালন করে আসলেও এনবিআরের একজন কর্মকর্তা অসৎ উদ্দেশে সরকার ও আইনজীবীদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, আইনজীবীদের এই আন্দোলন বাজেট বা সরকারের বিরুদ্ধে নয় শুধু একটি ধারার বিরুদ্ধে যা বাস্তবায়ন হলে এই পেশাটি হুমকির মুখে পড়বে। আর এ প্রজ্ঞাপন কার্যকর হলে অবসরপ্রাপ্ত ‘স্বার্থান্বেষীরা’ সুবিধা ভোগ করবেন এবং নিয়ন্ত্রনহীনভাবে কর্মকান্ড পরিচালনা করবেন যার ফলে সরকার রাজস্ব আহরণ থেকে বঞ্চিত হবে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ‘আয়কর আইনজীবীদের কার্যক্রম ও আচরণ সুশৃঙ্খল রাখার জন্য ২০০৬ সালের অর্থ আইনের মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশে “চৎড়ারফবফ ঃযধঃ ংঁপয ধহ ওহপড়সব ঃধী ঢ়ৎধপঃরঃরড়হবৎ ংযধষষ নব ধ সবসনবৎ ড়ভ ধহু ৎবমরংঃবৎবফ ঞধীবং ইধৎ অংংড়পরধঃরড়হ” প্রভাইসোটি সন্নিবেশিত করা হয়েছিল। বাংলাদেশে ৬৪টি আয়কর আইনজীবী সমিতি রয়েছে। এই আইনজীবী সমিতিগুলোতে ১৮ হাজারেরও অধিক আয়কর আইনজীবী সদস্য হিসাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। উক্ত প্রভাইসোর উপর ভিত্তি করে আয়কর আইনজীবী সমিতিগুলো আয়কর আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। প্রভাইসোটি বিলুপ্ত হলে আয়কর আইনজীবীগণ সমিতিগুলোর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবেন এবং তাদের নিয়ন্ত্রণহীন কার্যকলাপ বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করতে পারে, ফলশ্রুতিতে সরকারের রাজস্ব আহরণ কার্যক্রম ব্যাহত হবে।’
তিনি বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী আগামী অর্থ বৎসরের মধ্যে করদাতার সংখ্যা এক কোটি করার আশা ব্যক্ত করেছেন। বর্তমানে করদাতার সংখ্যা প্রায় ৩৭ লক্ষ যার মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন প্রায় ২০ লক্ষ করদাতা। ১ কোটি করদাতা উন্নীতকরনের ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড প্রতি বছর অন্তত একটি পরীক্ষার মাধ্যমে আয়কর পেশাজীবী সনদ প্রদান করলে নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে এবং উক্ত পেশাজীবীগণ রাজস্ব আহরণে সরকারের সহায়ক হবে এবং একইসাথে বেকারত্বের হার হ্রাস পাবে। তাই আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ১৭৪ ধারার উপধারা ২ এর ক্লজ “এফ” প্রভাইসোটি পূণর্বহাল এবং এস.আর.ও নং- ২১৩-আইন/আয়কর/২০১৯ তারিখ: ২৩.০৬.২০১৯ এর আইটেম নম্বর ৪ এবং ৫ বাতিলের জন্য জোর দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বারের সহ-সভাপতি এডভোকেট সমর বিজয় সী শেখর, সাবেক সভাপতি মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা, সোলেমান হোসেন খাঁন, আলী আকবর, মৌলভীবাজার কর আইনজীবী সমিতির সভাপতি মাহমুদুর রহমান, বিটিএল’র উপ-সচিব বদরুল হোসেন, খায়রুল ইসলাম চৌধুরী, সিরাজুল ইসলাম আহমদ, মোহাম্মদ আলী খোকন, নির্মলেন্দু রায়, এডভোকেট সুধাংশু ভূষণ ত্রিবেদী, কাজী আরিফুল হাসান, মিন্টু চন্দ্র রায় অনুপব্রত, ইকবাল আহমদ চৌধুরী, জাহাঙ্গীর আলম, মো. কামাল আহমদ, ইফতিয়াক হোসেন মঞ্জু, জহিরুল ইসলাম রিপন, মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, সদরুল হাসান চৌধুরী, মো. মাজাহারুল হক, জাহান জেব ইবনে খালেদ, মোহাম্মদ আজমল হোসেইন, মো. ইব্রাহিম, মারুফ আহমদ, নিজাম উদ্দিন খাঁন, আ স ম মুবিনুল হক শাহীন মামুনুর রশীদ, মো. খায়রুল আলম, এডভোকেট কমলেন্দু ভট্রাচার্য, সৈকত দাস, রাকেশ সিংহ, তুষার রায় প্রমুখ।

আরও পড়ুন