আসামীদের পক্ষে দাঁড়াবেন না সিলেটের আইনজীবীরা

,
প্রকাশিত : ১৮ অক্টোবর, ২০২০     আপডেট : ১ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এক্সপ্রেস ডেস্ক :-এক সপ্তাহেও অধরা বন্দরবাজার পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভুইয়া। অপর তিন সহযোগী পুলিশ সদস্য পুলিশের হেফাজতে থাকলেও এখনো তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়নি। অবশ্য এসএমপির কমিশনার জানিয়েছেন, পিবিআই যখন চাইবে, ঐ তিন পুলিশ সদস্যকে তাদের হাতে তুলে দেয়া হবে। রায়হানের মৃত্যুতে হত্যা মামলা হলেও এখন পর্যন্ত এ মামলায় কাউকে আটক দেখানো হয়নি। অন্যদিকে রায়হানের হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ঘটনার পরদিন সোমবার বিকেল পর্যন্ত আকবর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতেই অবস্থান করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তখন ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হানকে হত্যার আলামত পরিষ্কার হয়ে উঠলেও পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছিলেন একেবারেই গা ছাড়া। এই সুযোগে ছিটকে পড়ে আকবর হোসেন ভুইয়া। অবশ্য, যাওয়ার আগে আকবর তার নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন সেট এবং সরকারি সেট দুটোই ফাঁড়িতে রেখে যান। সেই থেকে পলাতক আকবর।
অন্যদিকে, ফাঁড়ির ইনচার্জ গা ঢাকা দিলেও অভিযুক্ত অন্য সদস্যদের পুলিশ লাইন্সেই রাখা হয়েছে। এএসআই আশেক
এলাহি, কুতুব উদ্দিন, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাশ, হারুনুর রশিদ, তৌহিদ মিয়া ও সজিব এখন পুলিশ লাইন্সে বিশেষ নজরদারিতে আছেন। তবে রায়হান আহমদ হত্যার ঘটনায় এখনো কাউকেই গ্রেফতার দেখানো হয়নি।
অপরদিকে, গতকাল শনিবারও রায়হান হত্যায় জড়িত পুলিশ সদস্যরা আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবিতে আন্দোলন হয়েছে সিলেটে। নগরীর কাস্টঘর, বন্দরবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় সভা সমাবেশ হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত মামলার তদন্তে অগ্রগতি বা আসামীরা গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে জনমনে। ঘটনার পরপরই কেন আটকে রাখা হলো না-এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশের হেফাজত থেকে পুলিশ সদস্য পালিয়ে যাওয়া আবার এক সপ্তাহেও সন্ধান না পাওয়ার ঘটনায় বিস্মিত করেছে সবাইকে।
সিলেট নগরীর প্রাণকেন্দ্র বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে পুলিশি নির্যাতনে নিহত যুবক রায়হান আহমদ হত্যা মামলায় সর্বাত্মক আইনী সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতি। সেইসাথে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকান্ড তথা হত্যা মামলার সাথে সংশ্লিষ্ট আসামীদের কোনো প্রকার আইনী সহায়তা না দেয়ারও ঘোষণা দেন সিলেটের আইনজীবীরা। নগরীর আখালিয়াস্থ নিহারি পাড়ায় নিহত রায়হানের বাসায় অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ টি এম ফয়েজ এডভোকেট এবং সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক সেলিম এডভোকেট জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিষদের অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যদের উপস্থিতিতে এ ঘোষণা দেন।
পুলিশের হেফাজতে থেকে পুলিশ সদস্যের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি নাটকের একটি অংশ বলে দাবি করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী। রায়হান হত্যার ঘটনায় পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পক্ষপাতিত্ব আচরণ করেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বরখাস্ত ও প্রত্যাহার হওয়ার পুলিশ সদস্যদের পুলিশ লাইনে নিরাপত্তা দিয়ে রাখা হলেও এসআই আকবরকে তারাই পালাতে সুযোগ করে দিয়েছেন বলে দাবি করেন। এটা পুলিশের ব্যর্থতা ও উদাসীনতার কারণ।
সিলেট মহানগর পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) বি এম আশরাফ উল্যাহ তাহের জানান, হত্যা মামলাটির পুরো বিষয় তদন্ত করছে পিবিআই। আর তাদেরকে সহযোগিতা করছে পুলিশ। তিনি জানান, রায়হান হত্যার ঘটনার পর বন্দরবাজার পুলিশফাড়ির ইনচার্জ আকবর পলাতক রয়েছে। বাকী বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্যরা পুলিশ লাইন্সে পুলিশের পাহারায় রয়েছেন। বি এম আশরাফ উল্যাহ তাহের জানান, এসআই আকবর হোসেন ভূইয়া পলাতক রয়েছেন। পুলিশ তাকে খুঁজছে।
পিবিআই সিলেটের পুলিশ সুপার মো. খালেদুজ্জামান জানান, তদন্তকালে যাদের নাম পাওয়া যাবে তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। মামলাটি স্পর্শকাতর সব বিষয় তথ্য প্রমাণের প্রয়োজন। সেজন্য অধিককতর গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে তদন্ত দল।
এরআগে সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়া নিহত রায়হানের বাসায় সমবেদনা জানাতে গিয়ে জানান, ঘটনার পর থেকেই আকবর পলাতক রয়েছে। পুলিশ সব বিষয়ে সর্তক রয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছে পিবিআই, তারা চাইলে আকবর ছাড়া অন্যদেরকে তাদের কাছে দেয়া হবে


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

এরশাদের মহাসমাবেশে চমক থাকছে কি?

        এরশাদের আজকের মহাসমাবেশে কোন চমক...

সুনামগঞ্জে বিআরটিসির বাস খাদে, আহত-২০

         সুনামগঞ্জের পৌর শহরের নিয়ন্ত্রণ...

মহিলাদের পর্দা ও শরীয়া বিধান

        কুবাদ বখত চৌধুরী রুবেল: পর্দার...