আশির দশকের ফুটবলার জালাল আহমদ ও সে সময়কার ফুটবলার সংগঠকদের কথা

প্রকাশিত : ২৭ জুন, ২০২০     আপডেট : ৩ মাস আগে
  • 364
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    364
    Shares

জাবেদ আহমদ   ফুটবলার জালাল আহমদ। আশির দশকের সিলেট জেলা দলের এক তারকা ফুটবলার। লেফট উইঙ্গ দিয়ে আক্রমণ শানাতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন। তবে দলের প্রয়োজনে কোচের নির্দেশনায় এটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবেও খেলেছেন অনেক ম্যাচ। ১৯৮৪ সালে ঐতিহ্যবাহি টিলাগড় ক্লাবের হয়ে সিলেট প্রথম বিভাগ লীগে অভিষেক ঘটে ফুটবলার জালালের। পরের বছর হতে ১৯৯৬ পর্যন্ত ১১ বছরের মধ্যে ১৯৮৯ সালে লীগ চ্যাম্পিয়ন সিলেট মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে খেলা ছাড়া সবকটি বছর গ্লোরিয়ার্সে কেটেছে তাঁর সফল ক্যারিয়ার। ফুটবলার জালালকে স্টেডিয়ামপাড়ায় গ্লোরিয়ার্সের জালাল বলেই সবাই চিনতো। মূলত গ্লোরিয়ার্সের কর্ণধার মফিজুর রহমান তিতনের আন্তরিকতায় ক্লাবকে ভালবেসে কাটিয়ে দেন পুরো ক্যারিয়ার জানালেন জালাল। ১৯৮৮ হতে ঢাকা প্রথম বিভাগ লীগে টানা ৫ বছর জালাল আহমদ খেলেছেন মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া চক্রে। ১৯৮৯ সালে অল ইন্ডিয়া গভর্ণরস কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নিতে মুক্তিযোদ্ধার হয়ে ভারতের সিকিম যান আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে। ভারতের শক্তিশালী ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান ও মোহামেডান তিন জায়ান্ট অংশ নিয়েছিল এ টুর্নামেন্টে। সে বছর সেমিফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট হতে বিদায় নেয় মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া চক্র। ফুটবলের জোয়ার ছিল সে সময়। স্টেডিয়াম থাকতো কানায় কানায় ভরা দর্শক। শেরেবাংলা কাপ ফুটবল, চট্টগ্রামে প্রথম মেয়র কাপ ফুটবল প্রতিযোগিতায় জালাল আহমদ সিলেট জেলা দলের অপরিহার্য সদস্য ছিলেন টানা অনেক বছর। অধিনায়কত্বও করেছেন অনেকবার। জেলা, উপজেলা ও এলাকাভিত্তিক ছোট বড়ো ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নিতে সিলেট বিভাগের আনাচেকানাচে ঘুরে বেড়িয়েছেনসিলেট মাঠে কায়সার হামিদ, রামা লুসাই, রেহান, মানিক, ইব্রাহীম, প্রেম লাল, জুয়েল রানা, মিজান, ভিজেন তাহিরি, এমেকা আর কত দেশী বিদেশী খেলোয়াড়রা আসতেন। জালাল ভাই দাপটের সাথে সমান পাল্লায় লড়তেন জাতীয় দলের এসব তারকাদের সাথে। গোলও করতেন। সে সময়ে স্থানীয় অনেক মানসম্মত খেলোয়াড়ের সমারোহ ছিল সিলেট স্টেডিয়ামে। বিজন কুমার দাশ, মোস্তাক, কার্জন, বাদল, পাপ্পু, জালাল আহমদ, আকবর, মোহাম্মদ মাহতাব উদ্দিন, সাব্বির আহমদ চৌধুরী, আব্দুল কাইয়ুম(পংকী), হাই, শুকুর, অভি, লুলু, এ,টি,এম, ফয়েজ, এ,এইচ, ফেরদৌস, তুতা, ফরহাদ, নওশাদ, সেলিম, জাহান, আব্দুন নুর, ইউনুস মিয়া, চেরাগ, সাহেদ, আহাদ, লাল, কানু, দোলন, ফুলাদ, মানু সিংহ, রাহেন, শহীদুল, একরাম রানা, সুহেন, গ্রীন, অভিনাশ, রাহেল, রাসেল, ইকবাল, শফিক, দীলিপ, সমীরণ, আহাদ, সুন্দর, জোহা, মঙ্গল, কাশেম, সালাউদ্দিন, কয়েছ, আলম, সোলেমান, জমিরুল, হানিফ আলম চৌধুরী, সলমান কুয়েদা, লিয়াকত, হান্নান, চেরাগ, হেলাল, সবুর, কুটিম, মনোজ রায়, দুলাল, সাহেদ, শিপু, নাসিরুজ্জামান নাজিম, আবু বকর সেলিম, ফজল আরও কত কত কীর্তিমানদের মুখাবয়ব ভেসে ওঠছে কিন্তু নাম এখন মনে আসছে না। বেশীরভাগই ছিলেন আমাদের সিনিয়র। তাঁদের সম্মান শ্রদ্ধা করতাম, তাঁরাও মন উজাড় করে দর্শকদের ভালবাসতেন। সে সময়ের ফুটবলারদের সাথে দর্শকদের একটা আত্মীক সম্পর্ক গড়ে ওঠতো, সময় অনেক গড়ালে ও তা এখনও আছে। সিলেট বিভাগের আনাচেকানাচে ঘুরে বেড়িয়েছেন।

সিলেট মাঠে কায়সার হামিদ, রামা লুসাই, রেহান, মানিক, ইব্রাহীম, প্রেম লাল, জুয়েল রানা, মিজান, ভিজেন তাহিরি, এমেকা আর কত দেশী বিদেশী খেলোয়াড়রা আসতেন। জালাল ভাই দাপটের সাথে সমান পাল্লায় লড়তেন জাতীয় দলের এসব তারকাদের সাথে। গোলও করতেন। সে সময়ে স্থানীয় অনেক মানসম্মত খেলোয়াড়ের সমারোহ ছিল সিলেট স্টেডিয়ামে। বিজন কুমার দাশ, মোস্তাক, কার্জন, বাদল, পাপ্পু, জালাল আহমদ, আকবর, মোহাম্মদ মাহতাব উদ্দিন, সাব্বির আহমদ চৌধুরী, আব্দুল কাইয়ুম(পংকী), হাই, শুকুর, অভি, লুলু, এ,টি,এম, ফয়েজ, এ,এইচ, ফেরদৌস, তুতা, ফরহাদ, নওশাদ, সেলিম, জাহান, আব্দুন নুর, ইউনুস মিয়া, চেরাগ, সাহেদ, আহাদ, লাল, কানু, দোলন, ফুলাদ, মানু সিংহ, রাহেন, শহীদুল, একরাম রানা, সুহেন, গ্রীন, অভিনাশ, রাহেল, রাসেল, ইকবাল, শফিক, দীলিপ, সমীরণ, আহাদ, সুন্দর, জোহা, মঙ্গল, কাশেম, সালাউদ্দিন, কয়েছ, আলম, সোলেমান, জমিরুল, হানিফ আলম চৌধুরী, সলমান কুয়েদা, লিয়াকত, হান্নান, চেরাগ, হেলাল, সবুর, কুটিম, মনোজ রায়, দুলাল, সাহেদ, শিপু, নাসিরুজ্জামান নাজিম, আবু বকর সেলিম, ফজল আরও কত কত কীর্তিমানদের মুখাবয়ব ভেসে ওঠছে কিন্তু নাম এখন মনে আসছে না। বেশীরভাগই ছিলেন আমাদের সিনিয়র। তাঁদের সম্মান শ্রদ্ধা করতাম, তাঁরাও মন উজাড় করে দর্শকদের ভালবাসতেন। সে সময়ের ফুটবলারদের সাথে দর্শকদের একটা আত্মীক সম্পর্ক গড়ে ওঠতো, সময় অনেক গড়ালে ও তা এখনও আছে।

আবাহনী – মোহামেডান, মোহামেডান – গ্লোরিয়ার্স, আবাহনী – গ্লোরিয়ার্স এ তিন ম্যাচ থাকতো উত্তেজনায় ঠাসা। আবাহনী ক্রীড়া চক্র সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতেন সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দিন আহমদ। পৃষ্ঠপোষকতা করতেন ইফতেখার হোসেন শামীম, মোহাম্মদ আরিফ, ইসমাঈল অটোর রাজা ভাই, বদরুদ্দোজা বদরসহ অনেকে। ক্যারিসমেটিক সংগঠক ছিলেন মঈন। কম বাজেটে দল করেও অনেক সময় শিরোপা ঘরে তুলি নিতেন। মোহামেডান ছিল সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী। স্টেডিয়ামপাড়ায় অফিস রয়েছে অনেক আগ থেকে। এখন চার তলার নিজস্ব ভবন রয়েছে। ক্লাবের সভাপতি দানবীর রাগীব আলী ও সেক্রেটারি মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম। ক্লাবের বিভিন্ন সময়ে দায়িত্বে ছিলেন কমরু মিয়া ঝাড়ু ভাই, বিমলেন্দু দে নান্টু, ওয়ালী আহমদ চৌধুরী, রাবেয়া খাতুন চৌধুরী, আফসর আহমদ, আব্দুল করিম, আমিনুর রশিদ চুনু, মোশাররফ হোসেন, শাহরুখ আহমদ, নাহাস আহমদ চৌধুরী, আব্দুল জব্বার জলিল, নূরে আলম খোকন,আমির হোসেন, হেলাল আহমদ চৌধুরী, সুদন ভাই (হাওয়াপাড়া-ইউএসএ), দেওয়ান তৌফিক মজিদ লায়েক, নাজমুল ইসলাম, ফারুক আহমদ, মোশতাক আহমদ, জাহাঙ্গীর হোসেন, ছিদ্দিকুর রহমান, জাবেদ আহমদসহ অনেকে। আশির দশকে ফুটবল সম্পাদক নাজমুল ইসলাম শক্তিশালী ফুটবল দল গঠন ও ঢাকা হতে খেলোয়াড় সংগ্রহে অনেক পরিশ্রম করেছেন। ভাল ও বড় বাজেটের দল গঠন করে বেশ কয়েকবার সামান্যের জন্য শিরোপা বঞ্চিত হতে ঐতিহ্যবাহি এ দলটিকে। আর গ্লোরিয়ার্স ছিল একা মফিজুর রহমান তিতন ভাইয়ের ক্লাব। দাপুটে এ ক্রীড়া সংগঠক জেলা ক্রীড়া সংস্থার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকসহ দীর্ঘদিন দক্ষতার সাথে ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালানা করে শেষদিকে ক্রীড়াঙ্গন থেকে নিজেকে ঘুটিয়ে নেন।

ফুটবলার জালালের সাথে সব ক্লাব কর্মকর্তাদের সুসম্পর্ক ছিল। যে বছর যে ক্লাবকে কমিটমেন্ট দিতেন সে ক্লাবেই চুক্তিবদ্ধ হয়ে খেলেছেন। একজন সাহসী ও নীতিবান খেলোয়াড় ছিলেন।অর্থের জন্য কখনও তাঁকে দেন দরবার বা দলবদল করতে শোনিনি। তবে আজীবন সখ্যতা বা সম্পর্ক ছিল গ্লোরিয়ার্সের মফিজুর রহমান তিতন ভাইয়ের সাথে। জানালেন বছর তিনেক আগে দেশে অবস্থানকালে একাধিকবার তাঁর সাথে গিয়ে দেখা করেছেন।

মোহামেডান বা যখন যে ক্লাবেই জালাল ভাই খেলুক আমার সাথে সম্পর্ক ছিল একইরকম। ২০০০ সালে প্রথম প্রবাস জীবন শুরু স্পেনের মাদ্রিদে। ফুটবলারদের কদর বেশি স্পেনে। রিয়েল মাদ্রিদের গ্যালারিতে বসে খেলা দেখেছেন, বললেন মাঠ থেকে টিভিতে খেলা দেখতে আলাদা মজা। ফ্রান্স, বেলজিয়াম ঘুরে বেশ কয়েক বছর হয় জালাল ভাই এখন ইংল্যান্ডের লন্ডন সিটির বাসিন্দা। সেখানে বসবাসরত সিলেট বিভাগের প্রাক্তন খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত হয়েছে গ্রেটার সিলেট এক্স ফুটবলারস এসোসিয়েশন, ইউ,কে। জালাল আহমদ সংগঠনটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট। জেনারেল সেক্রেটারি সাব্বির আহমদ চৌধুরী। সাংগঠনিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী এ সংগঠনের অন্য অফিশিয়ালরা হলেন আলম হোসেন (আল আমিন) – ভাইস প্রেসিডেন্ট, হাবিবুর রহমান (হাবিব)- এ্যাসিসট্যান্ট জেনারেল সেক্রেটারি, জয়নাল উদ্দিন আহমদ – ফাইন্যান্স সেক্রেটারি, মোহাম্মদ আবুল কাশেম- অরগানাইজিং সেক্রেটারি, সফু মিয়া- এ্যাসিসট্যান্ট অরগানাইজিং সেক্রেটারি, মমিনুল ইসলাম লিমন- স্পোর্টস সেক্রেটারি, হারুনুর রশিদ হারুন- এ্যাসিসট্যান্ট স্পোর্টস সেক্রেটারি, শায়েক মজুমদার- পাবলিসিটি সেক্রেটারি, সৈয়দ নব্বির মিয়া ও মাজেদুল হক (টিটু)- এক্সিকিউটিভ কমিটি মেম্বার। সংগঠনটির এডভাইজাররা হলেন ফখরুল ইসলাম, মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম, আব্দুল কাইয়ুম পংকী, এ,এইচ,ফেরদৌস, মোহাম্মদ মাহতাব উদ্দিন, মিজানুর রহমান মিজান, মোঃ শওকত আলী বুবল, মইনুল হক জাহান, সৈয়দ মহসেনুর রেজা (বুরহান) ও জুবায়ের আহমদ হামজা।
সিলেট নগরীতে জালাল আহমদের বাসা ৭ নং ওয়ার্ডের ছয়েফ খান রোডের সিলাম ভিলা। বিয়ে করেছেন দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দি ২ নং রোডে। শ্বশুর মোঃ আব্দুল কাইয়ুম এবং চাচা শ্বশুর একসময়ের প্রখ্যাত ফুটবলার মালিক মিয়া (শাহজাহান)। ১ পুত্র ও ১ কন্যার জনক। ২০০০ সালে প্রবাস জীবনের শুরুতে স্পেনে থাকতে আমার সাথে যোগাযোগ হয়, মনে হয় একবার কথাও হয়। ভেবেছিলাম এবছর ইউরোপ সফরে গেলে (কোভিড-১৯’র কবলে পড়ে ভিসা পেয়েও যাত্রা স্থগিত) স্পেনে খোঁজে তার সাথে দেখা করবো। কয়েকদিন আগে আচমকা আসে জালাল আহমদের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট। মুহূর্তেই সাড়া দেই। কাল আসে মেসেঞ্জারে কল। কথা হয় প্রায় আধা ঘন্টা। কত কথা, স্টেডিয়াম পাড়ার মানুষের কথা। তাদের সংগঠনের কাজ ও আগামীর পরিকল্পনা। শুনে ভালই লাগলো। আশি ও নব্বই দশকের সিলেট ও ঢাকা স্টেডিয়াম কাঁপিয়ে এখন তারা ইউ কে অবস্থান করলেও মন পড়ে রয়েছে সিলেট স্টেডিয়ামে। এখনও তারা সতীর্থ বন্ধু ঝাঁকড়া চুলের ডিফেন্ডার লিয়াকতের দুঃসময়ে সম্মিলিতভাবে পাশে দাড়ান। পুরনো দিনের বন্ধু খেলোয়াড়দের দুঃসময়ে পাশে থাকতে চান। তাঁদের সকলের জন্য গ্রেটার সিলেট এক্স ফুটবলারস এসোসিয়েশন, ইউ কের জন্য রইলো অনেক অনেক শুভকামনা। পরপারে চলে যাওয়া সকল ক্রীড়া সংগঠক ও ক্রীড়াবিদদের প্রতি রইলো গভীর শ্রদ্ধা। তাঁদের রুহের মাগফেরাত ও আত্মার শান্তি কামনা করছি।
বি.দ্রঃ খেলোয়াড় ও কর্মকর্তা অনেকের নাম অনিচ্ছাকৃত বাদ পড়েছে এবং সিনিয়র জুনিয়র হিসেব করে লিখা হয়নি।


  • 364
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    364
    Shares

আরও পড়ুন

সিকৃবিতে ৩ জন নতুন ডিনের যোগদান

         সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) তিনটি...

স্বপ্নের দেশে যাওয়া হলো না

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: আমেরিকার ভিসা...

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন ২ দিনের সফরে সিলেট পৌছেছেন

         পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. একে আব্দুল...

মাস্টারপ্লানে সাজাবো সিলেট নগরী

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: সিলেট সিটি...