‘আশা’র শিক্ষা সেবিকা সম্মেলন ও বঙ্গবন্ধু উচ্চশিক্ষা বৃত্তি প্রদান

প্রকাশিত : ০৩ মার্চ, ২০২০     আপডেট : ৩ মাস আগে  
  

সিলেটে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আশা’র শিক্ষা সেবিকা সম্মেলন, কর্মশালা ও বঙ্গবন্ধু উচ্চশিক্ষা বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে নগরীর একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের সহায়তা ও স্কুল থেকে ঝরে পড়া রোধে প্রাথমিক শিক্ষা শক্তিশালীকরণ কর্মসূচীর আওতায় দিনব্যাপী সম্মেলনে জেলার ২২ টি শিক্ষা কেন্দ্রে কর্মরত ৮৯ জন শিক্ষা সেবিকা, আশা’র সিলেট জেলার ব্রাঞ্চ ম্যানেজারসহ সুপারভাইজারগণ অংশ নেন। সম্মেলনে জানানো হয় ‘প্রাথমিক শিক্ষা শক্তিশালীকরণ কর্মসূচীর’ আওতায় সিলেট জেলায় ২২টি শিক্ষাকেন্দ্রের মাধ্যমে ৮১৫৫ জন শিশুকে শিক্ষা সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। সম্মেলনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সরকারের পাশাপাশি আশা প্রাথমিক শিক্ষা শক্তিশালীকরণ কর্মসূচীর আওতায় প্রাথমিক পর্যায়ের অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী ঝড়ে পড়া হ্রাস করার যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। প্রাথমিক শিক্ষা চ্যালেঞ্জিং পেশা। সরকারের পক্ষে একা কাংখিত সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়, জিও-এনজিও সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রাথমিক শিক্ষাকে এগিয়ে নিয়ে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
আশা’র ডিরেক্টর হামিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আসলাম উদ্দীন। আশা’র এডিশনাল ডিভিশনাল ম্যানেজার মো. কামরুল হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বায়েজীদ খান, সিলেট সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার নাহিদ পারভীন। আশা-সিলেট ডিভিশনের ডিভিশনাল ম্যানেজার ইসকান্দার মীর্জা’র স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন আশার এ্যাসিসটেন্ট ডিরেক্টর মো. নজরুল ইসলাম, এডিশনাল ডিভিশনাল ম্যানেজার আবু তাহের চৌধুরী, সিলেট জেলার সিনিয়র ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার এমজি রায়হান, সিনিয়র শিক্ষা অফিসার মো. শহিদুল ইসলাম, আশা সিলেট জেলার শিক্ষা অফিসার মো. হাবিবুর রহমান এবং জেলার আরএম রোজিনা খাতুন, মাধব চন্দ্র বিশ্বাস, মৃনাল কান্তি চৌধুরী, মো. মাহবুবুর রহমান প্রমূখ। অনুষ্ঠানে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে ৪জন বিশ^বিদ্যালয় ও মেডিক্যাল শিক্ষার্থীকে বঙ্গবন্ধু উচ্চশিক্ষা বৃত্তি প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আসলাম উদ্দীন বলেন, শিশুরা হচ্ছে আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। আশার শিক্ষা সেবিকারা প্রান্তিক পর্যায়ে শিশুদের দেখাশুনা করেন। আমাদের ভবিষ্যৎ শিশুদেরকে সুনাগরিক হিসাবে গড়ে তোলার মাধ্যমে শিক্ষা সেবিকারা সম্মানিত হবেন এবং একই সাথে এইসব শিশুরা দেশের জন্যে সম্পদে পরিণত হবে।
সভাপতির বক্তব্যে আশার ডিরেক্টর হামিদুল ইসলাম বলেন, আশা ২০১১ সাল থেকে সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সহায়তা ও ঝরে পড়া রোধে ‘প্রাথমিক শিক্ষা শক্তিশালীকরণ কর্মসূচী’র আওতায় দেশের ৬৪ জেলায় ১২৫০টি আশা ব্রাঞ্চে ১৮৯৫০টি শিক্ষা কেন্দ্রের মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারের পাঁচ লাখের বেশি শিশু প্রি-প্রাইমারি, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে অধ্যয়ণরত শিক্ষার্থীকে শিক্ষা সহায়তা প্রদান করছে। এছাড়া চলতি বছরে সিলেট জেলার দরবস্ত ও জালালপুর ব্রাঞ্চের ৩০ টি শিক্ষা কেন্দ্রকে ৫ম শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী ঝড়ে পড়া হ্রাস করা, নি¤œ ও নি¤œ মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের দেয়া পাঠ আয়ত্ব করতে সহায়তা করা, প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার মান উন্নয়নে সহায়তা প্রদান, প্রাক-প্রাথমিক পরিচর্যার মাধ্যমে প্রাথমিক স্তরে ভর্তির জন্য নতুন শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করাই হচ্ছে আশা প্রাথমিক শিক্ষা শক্তিশালীকরণ কর্মসূচীর মূল উদ্দেশ্য।

আরও পড়ুন