আলোকিত গ্রাম বিনির্মাণে আমার পর্যবেক্ষণ ও প্রস্তাবনা

প্রকাশিত : ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০     আপডেট : ৪ সপ্তাহ আগে
  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    2
    Shares

মুহম্মদ আবদুল ওয়াহাব:-  গ্রামীণ জীবন অনেক আনন্দের। আমাদের ছোটবেলার গ্রামের পরিবেশ ছিল মনোরম। মাঠে ফুটবল খেলা ও খেলা শেষে বৃষ্টিতে নদীর পানির মধ্যে সাঁতার কাটার আনন্দ আজো আমার মনে অম্লান। ছোটবেলার সেই অনাবিল আনন্দ আর আগের মতো নেই। ১৯৮৬ সাল থেকে গ্রামের পরিবেশ ঘোলাটে হতে শুরু করে। ১৯৮৬ সালে বিশ্বকাপ ফুটবল চলছিল। গ্রামে ম্যারাডোনার ছবি সম্বলিত পোস্টার শোভা পাচ্ছিল। প্রজাতপুর থেকে দেবপাড়া পর্যন্ত নির্মাণাধীন সড়ক নিয়ে গ্রামের লোকেরা দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে যান। 

এ থেকে গ্রামে অশান্তির দানা বেঁধে ওঠে। পরিবেশ পরিস্থিতি ও নানা প্রতিকূলতা বর্তমানে গ্রামের পরিবেশকে বিষিয়ে তুলেছে। ছোটবেলার সব স্মৃতি আজো অমলিন হৃদয়পটে। কেন না এই গ্রামের আলো-বাতাসে বড় হয়েছি। এই গ্রামের বাউসা দেবপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই শিক্ষাজীবন শুরু করে জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে নবীগঞ্জ জে. কে. হাইস্কুল, সিলেট ক্যাডেট কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাজ্যের লিডস বিশ্ববিদ্যালয়, জাপানের মিজি ইউনিভার্সিটিতে লেখাপড়া করেছি।
আমি বিশ্বাস করি একমাত্র গুণসম্পন্ন ও মানবিকতা সম্পন্ন শিক্ষিত মানুষই পারে সমাজে পজিটিভ পরিবর্তন আনতে। আমি সারাটি জীবন ধর্ম, বর্ণ, জাতি, গোত্র নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের কল্যাণ কামনা করে আসছি। বাংলাদেশ পুলিশে যোগদানের পর থেকে সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে স্বীয় দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যেকোন মানুষের যেকোন বৈধ প্রয়োজনে পুলিশি সহায়তা স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রদান করি। আমার বিশ্বাস দীর্ঘ সময়ের পর্যবেক্ষণলব্ধ বিষয়গুলোর অবলোকন করে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করলে গ্রামটি আলোকিত হয়ে উঠবে। যদিও সমাজের বাস্তবতা বড় কঠিন ও রূঢ়। আমি মনে করি আমার এ উপস্থাপনা এ গ্রামে শান্তি স্থাপনের জন্য একটি ভিত্তিপ্রস্তর। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এ প্রস্তাবের উপর ভিত্তি করে গুণগত শিক্ষার বিস্তার ও একে অন্যের প্রতি মায়া-মমতায় পরিপূর্ণ গ্রাম গড়ে তুলবেন বলে প্রত্যাশা করি।

পর্যবেক্ষণ ও প্রস্তাবনা চলাচলে বাধা: গ্রামের মানুষকে স্বাধীনভাবে চলাচলে বাধা দেয়া যাবে না। রাস্তাঘাটে সিএনজি, রিকশা ও পায়ে হেঁটে কেউ কোথাও যেতে চাইলে তাকে যেতে দিতে হবে। গ্রামের মানুষকে একে অন্যের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য, কারো দোকানে যেতে বিধিনিষেধ আরোপ করা যাবে না। এ ছাড়া কারো ধান কাটা ও রোপণে বাধা সৃষ্টি করা যাবে না।

পঞ্চায়েত ও দোকানে আড্ডা:– প্রতিদিন পঞ্চায়েত ও অনেক লোক মিলে দীর্ঘসময় দোকানে আড্ডা দেয়া যাবে না। বহু লোক একত্রে জমায়েত হয়ে প্রতিদিন শত শত ঘণ্টা সময় অপচয় বন্ধ করে দিতে হবে। বিভিন্ন বিষয়ে দ্বিমত হতেই পারে। ভিন্নমত পোষণ করতে পারে-এজন্য মেরে ফেলতে হবে বা গুরুত্বর জখমপ্রাপ্ত হয় এমন দেশীয় লাঠিসোটা দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে-দল বেঁধে? একবার ভাবুন এসব করে গ্রামের সব শ্রেণীর মানুষকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন? এসব কাজ কখনো একটি পরিবার বা গ্রামকে আলোর দিকে নিতে পারে না। এসব কাজ অন্ধকারে নিয়ে যায়।

গোষ্ঠী প্রথা রহিতকরণ ও গ্রুপিং করে মারামারি বন্ধকরণ: গোষ্ঠীবদ্ধ হয়ে বা গ্রুপ সৃষ্টি করে মারামারি করা যাবে না। গ্রামে মারামারি করতে কোনোভাবেই লোকজনকে উদ্বুদ্ধ করা যাবে না। কখনো কোনো বিষয়ে বিরোধ হলে যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে সঙ্গে সঙ্গে আপোষ করে দেয়ার।

একঘরে রাখা ও সত্য সন্ধান: গ্রামের কোনো পরিবারকে একঘরে করে রাখা যাবে না। ধর্মীয় কাজ প্রতিপালনে কাউকে জোর করা যাবে না। এই প্রযুক্তির যুগে সত্য সন্ধান অনেক সহজ। জ্ঞানপিপাসু মন নিয়ে সত্যের অনুসন্ধান করলে সত্যের সন্ধান লাভ সহজ হবে। উদার মন নিয়ে নিজের ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মঙ্গলের লক্ষ্যে সত্য সন্ধান অব্যাহত রাখতে হবে। কে দাঁড়িয়ে, কে বসে মিলাদ পড়ল-এসব চিন্তা না করে সত্য সন্ধানের জন্য পড়ুন। উত্তর পেয়ে যাবেন।

মিথ্যা মামলা/অভিযোগ/প্রচারণা হতে বিরত থাকা: মিথ্যা মামলা-মোকদ্দমা করা থেকে বিরত থাকতে হবে। মিথ্যা মামলা-মোকদ্দমা কারো জন্য সুফল বয়ে আনতে পারে না। মিথ্যা মামলা দায়ের করে সাময়িক আনন্দ পাওয়া যেতে পারে। মানবিক গুণসম্পন্ন লোক কখনো অন্যায়ভাবে নিরপরাধ লোকের বিরুদ্ধে মামলা/অভিযোগ দায়ের ও মিথ্যা প্রচারণা করতে পারেন না।

শারীরিক শাস্তি ও অপমান বন্ধ করা: গ্রামে সালিশ-বৈঠকের নামে কাউকে শারীরিক শাস্তি বা অপমান করা যাবে না। এটি মানুষের মধ্যে প্রতিহিংসার বীজ বপন করে-যা গ্রামের শান্তি বিনষ্ট করে। গঠনমূলক কাজে লিপ্ত থাকতে হবে। জীবন-জীবিকা উপার্জনে প্রতিটি সক্ষম মানুষকে কাজ করতে হবে।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গ্রামে মারামারি বন্ধকরণ: দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে চলমান গ্রুপিং বাদ দিতে হবে। শক্তিবৃদ্ধির লক্ষ্যে গ্রামের জনগণকে বিভক্ত করে গ্রুপিং সৃষ্টির প্রথা বাতিল করতে হবে। নির্বাচনে কারো পক্ষ নিয়ে গ্রামের লোকদের বিভক্ত করা যাবে না। যে যার পছন্দমতো প্রার্থীকে ভোট দিবে।

বাইরে জীবিকা উপার্জনরত লোকদের ফোন করে গ্রামে আনা: গ্রামে দলাদলি করে উত্তেজনা সৃষ্টি করে, যারা গ্রামের বাইরে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহের জন্য অবস্থান করে, তাদেরকে মারামারি করার জন্য ফোন করে গ্রামে আনা যাবে না।

কর্মে নিবিষ্ট থাকা: কাজে মগ্ন থাকতে হবে-দিনরাত আড্ডা দেয়া বন্ধ করতে হবে। এটি করতে পারলে গ্রামে হানাহানি, হিংসা-বিদ্বেষ কমে যাবে।

ধর্মীয় কাজ ও ইমাম নিয়োগ: ধর্মীয় কাজে বাধা দেয়া যাবে না। গ্রামের ০২টি মসজিদে ইমাম নিয়োগে ইসলাম সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান রাখেন- এমন লোকদের পরামর্শক্রমে ইমাম নিয়োগ দিতে হবে। যদি সুশিক্ষিত বিশিষ্ট দু’জন আলেম গ্রামের দু’টি মসজিদে ইমাম হিসাবে রাখা যায়, তাহলে গ্রামের মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্ববোধ, সৌহার্দ্য একে অন্যের প্রতি সদাচরণ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টিতে সহায়ক হবে বলে আশা করা যায়।
জামানতবিহীন বিরোধ নিষ্পত্তি: কোনো সমস্যা হলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে সমস্যার সমাধান করতে হবে। বিচার করার উদ্দেশ্যে জামানত প্রথা রহিত করতে হবে। এ প্রথা না থাকলে মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টির প্রয়াস কমে যেতে পারে।

আপস-মীমাংসায় জোর দেয়া: দু’জন মানুষ বা ২ পরিবারের মধ্যে সমস্যা হলে অন্যরা তাদের পক্ষপাতিত্ব না করে মীমাংসা করবে। বিভেদ জিইয়ে রাখা যাবে না। একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও শান্তিময় গ্রাম গড়ার লক্ষ্যে সবাইকে আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসতে হবে। সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টির জন্য সুন্দর মন নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
গ্রামের রাস্তা নির্মাণে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস: গ্রামের রাস্তা নির্মাণে উদ্যোগী যারা তাদের সহযোগিতা করতে হবে। গ্রামের সব শ্রেণির মানুষের সুবিধার জন্য বিশেষ করে দূরবর্তী স্কুলে যারা লেখাপড়া করে এবং অসুস্থ লোকদের জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে একটি পূর্ণাঙ্গ রাস্তা অপরিহার্য। গ্রামের সবার ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় এটি সম্ভব।

স্কুল মাঠে খেলাধুলা: গ্রামের স্কুল মাঠে খেলাধুলার ব্যাপারে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না। যারা শান্তিপূর্ণভাবে খেলাধুলা যেমন- ফুটবল, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন, ক্রিকেট ইত্যাদি করতে চায় তাদেরকে তা করতে দিতে হবে। খেলাধুলা, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য, শারীরিক ও মানসিক গঠনে অপরিসীম ভূমিকা রাখে। সুস্থ পরিবেশে খেলাধুলাকে উৎসাহ দিতে হবে।

জখমপ্রাপ্ত লোকদের চিকিৎসা ও ভরণপোষণ
মারামারিতে যারা আহত হয় তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। যারা আহত হয়েছেন তারা পূর্ণরূপে সুস্থ হওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের চিকিৎসা ব্যয় ও ভরণপোষণের ব্যবস্থা করতে হবে। যারা আঘাত করেছেন তাদেরকে এই ব্যয়ভার বহন করতে হবে- যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপকর্মে লিপ্ত না হয়।

সৃষ্টিশীল কাজে মনোনিবেশ করা: অবসর সময়ে গ্রামের শিক্ষার্থী ও যুবকদের নিয়ে সৃষ্টিশীল কাজ করতে হবে। যেমন-বৃক্ষরোপণ ও বিভিন্ন বয়সের মানুষের মধ্যে শিক্ষার বিস্তার। কথায় আছে “অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা”। জীবনের মূল্যবান সময় অপচয় না করে নিজের জীবন, পরিবারের জীবন, আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী তথা সব মানুষের কল্যাণ সাধিত হয়- এমনভাবে সময় কাটাতে হবে।

দূরদৃষ্টি সম্পন্ন হওয়া: দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে হবে। শুধু গ্রামকে নিয়ে পড়ে থাকলেই হবে না। পৃথিবীটা অনেক বড়। মনকে বড় করে গ্রামে হিংসা-বিদ্বেষ সৃষ্টি না করে গ্রামে বসবাসকারী সবার কল্যাণ হয় এমন পরিবেশ সৃষ্টিতে এগিয়ে আসুন। অন্যের কল্যাণের চিন্তা করলে আপনারাও কোনো না কোনোভাবে অন্যদের দ্বারা উপকৃত হবেন। অন্তরের নিয়তের পরিবর্তনের মাধ্যমে এমন কাজ করুন- যা গোটা গ্রামকে আলোকিত করবে।

সুন্দর গ্রাম বিনির্মাণে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস
গ্রামের রাস্তাঘাট নির্মাণের জন্য পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। আজ থেকে প্রায় ৩৬ বছর আগে প্রজাতপুর থেকে দেবপাড়া (৯নং বাউসা ইউপি’র অন্তর্ভুক্ত) পর্যন্ত রাস্তা হয়েছিল। রাস্তা সম্পূর্ণ হওয়ার পরও দেবপাড়া গ্রামের কতিপয় লোক তাদের জমির উপর দিয়ে রাস্তা যাওয়া মেনে না নেয়ার কারণে পরবর্তীতে জমির মালিকরা রাস্তাটি কেটে আইলে পরিণত করে ফেলে। ঐ সময়ের গ্রামে নেতৃত্বদানকারী লোকজন যদি ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করতে পারতেন- তাহলে তারা আজ দেখতে পেতেন  এতো বছরে বা যুগের পর যুগ হাজার হাজার মানুষ এই রাস্তা ব্যবহার করছে। বহু মানুষের রোজগারের মাধ্যম হতো এই সড়কটি। দূরদৃষ্টি নিয়ে চিন্তা করলে আজ এই গ্রাম উন্নতির শিখরে পৌঁছে যেতো। মানুষের অদম্য বাসনা, কঠোর পরিশ্রম ও মেধার কাছে অজেয় হার মানে। গ্রামে ও দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সব শ্রেণিপেশার মানুষের সমন্বিত উদ্যোগে বাসযোগ্য পরিবেশ গঠন সম্ভব।

শিক্ষিত ও চাকরিজীবীদের পরামর্শ গ্রহণ
দীর্ঘদিনের বিরোধে গ্রামের লোকদের মানসিক বিকাশ, অর্থনৈতিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে তা উপলব্ধি করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুন্দর বাসযোগ্য একটি গ্রাম তৈরির লক্ষ্যে গ্রামের সুযোগ্য ও শিক্ষিত চাকরিজীবী লোকদের পরামর্শ মতে জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে। মানুষের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিযোগিতা থাকবে- এটি পৃথিবীর চিরায়ত নিয়ম। এ প্রতিযোগিতা যেন হয় সুস্থ সুন্দর স্বাভাবিক নিয়মে। বর্তমান ও আগামীর শিশুরা যেনো গর্ব করে বলতে পারে আমাদের পূর্ব-পুরুষরা আমাদের জন্য একটি বাসযোগ্য মনোরম গ্রাম উপহার দিয়ে গেছেন।

গুণসম্পন্ন শিক্ষার প্রসার
এই গ্রামকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে নিতে হলে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। গুণসম্পন্ন শিক্ষাই এই গ্রামের পথহারা মানুষকে আলোর দিকে নিয়ে আসতে পারে। গ্রামের প্রতিটি ঘরে ঘরে যাতে ছেলেমেয়েরা যথাযথ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ-বিদেশে কর্মক্ষম সুনাগরিক হয়ে গড়ে উঠতে পারে সেজন্য গ্রামের শিক্ষিত চাকরিজীবীসহ গ্রামের যুবক-বৃদ্ধ সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

পরস্পরের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা
বয়স্কদের সম্মান করতে হবে এবং ছোটদের ভালোবাসতে হবে। ধৈর্য ও স্থিরতার সঙ্গে একে অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। একে অন্যকে শ্রদ্ধা সম্মান করলে পরস্পরের প্রতি মায়া-মমতা বৃদ্ধি পায়।

গ্রামের জনপ্রতিনিধির কাছে প্রত্যাশা
জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিকে গ্রামের সবার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে হবে। লোকদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি না করে পরস্পরকে স্নেহ ভালোবাসার ভিত্তিতে শিক্ষা, অর্থনীতির উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা পালনে এগিয়ে আসতে হবে।

প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধিদের কাছে মানবিক সুবিচার প্রত্যাশা
দীর্ঘ প্রায় ৩ যুগের বেশি সময় ধরে এই গ্রামের চলমান সমস্যা নিরসনে জনপ্রতিনিধিদের কার্যকর ভূমিকা অপরিহার্য। গ্রামের সব শ্রেণির মানুষকে বিপর্যয়কর পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দিতে আপনাদের ভারসাম্যপূর্ণ সহযোগিতা একান্তভাবে কাম্য।

পুলিশ প্রশাসনের কাছে প্রত্যাশা
পুলিশ প্রশাসন আন্তরিকভাবে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই গ্রামের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী হলে কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব। যারা জীবিকা উপার্জনে কাজ-কর্ম করেন না, তাদেরকে চিহ্নিত করে কাজ-কর্মে লিপ্ত হওয়াতে উদ্বুদ্ধ করতে পারলে আশানুরূপ ফল পাওয়া যেতে পারে।
লেখক: ডিসি (ইএন্ডডি), সিলেট মেট্রোপলিট্রন পুলিশ।

সুত্র-মানবজমিন


  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    2
    Shares

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ ইউনানী মেডিকেল এসোসিয়েশনের অভিষেক অনুষ্ঠান

         বাংলাদেশ ইউনানী মেডিকেল এসোসিয়েশন সিলেট...

এইচএসসির ফল যেভাবে জানা যাবে

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: চলতি বছরের...

করোনায় আক্রান্ত হয়ে লন্ডনে মারা গেছেন প্রবাসী রাজিব

         লন্ডনে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা...