আমেরিকায় আক্রান্ত বাড়েনি,সুস্থতা দ্বিগুনের উপরে,কাটেনি উদ্বেগ

প্রকাশিত : ১৮ এপ্রিল, ২০২০     আপডেট : ৩ মাস আগে

এমদাদ চৌধুরী দীপু,১৭এপ্রিল,নিউইয়র্ক,২০২০ইং)   এক সপ্তাহে আমেরিকায় সনাক্ত হওয়া রোগী বেড়েছে ২লাখ, গত সপ্তাহে একই হার ছিল। আর মৃত্যু বেড়েছে ১৮হাজার এর উপরে এটি আগের সপ্তাহের চেয়ে দ্বিগুনের উপরে। সুস্থতা হয়েছে দ্বিগুন। তবে কাটেনি উদ্বেগ,আতংক একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড নিউইয়র্কে,২৪ঘন্টায় মারা গেছেন ১০২৫জন। পুরো যুক্তরাস্ট্রে মারা গেছেন ২৪ ঘন্টায় ২৫৭৪জন। এসব তথ্য ওয়ার্ল্ডোমেটারের।প্রতিঘন্টায় মারা যাচ্ছেন ৪২জন। নিউইয়র্কে এখন আক্রান্ত রোগী ২,৩৩,৯৫১এর উপরে,মোট মৃত্যু ১৭,১৩১জন,শুধু নিউইয়র্ক নয় করোনার চিত্র এখন উদ্বগজনক অবস্থায় যে সব অঙ্গরাজ্যে,নিউজার্সী, সনাক্ত ৭৮ হাজারের উপরে,মৃত্যু ৩৮৪০ জন,মেসাজুসেট,সনাক্ত ৩৪হাজারের উপরে, মৃত্যু ১৪০৪ জন।মিশিগান সনাক্ত,৩০ হাজারের,উপরে, মৃত্য ২২২৭জন,ক্যালিফোর্নিয়ায় সনাক্ত,২৯ হাজারের উপরে,মৃত্যু১০৪১জন, পেনসেলভেনিয়া, সনাক্ত ২৯ হাজারের উপরে,মৃত্যু ৯৫৯জন, লুসিয়ানা,সনাক্ত হয়েছে ২৩ হাজারের উপরে,মৃত্যু ১২১৩জন।ফ্লোরিডায় সনাক্ত ২৪ হাজারের উপরে মারা গেছেন ৭২৬জন।

গত ২৯ ফেব্রুয়ারী যুক্তরাস্ট্রে করোনা আক্রান্ত রোগী ধরা পড়ে। প্রথমে একজন,পরে দুজন আর এখন ৭লাখের উপরে। পেশার দায় থেকে ২৩মার্চ থেকে বিভিন্ন রাজ্যে করোনায় আক্রান্ত,মৃত্যু এবং আরোগ্য হওয়ার চিত্র তুলে ধরছি।

যুক্তরাস্ট্রে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত খোজ খবর রাখছেন নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক শিবলী চৌধুরী কায়েস,কথা হয় যুক্তরাস্ট্র এবং নিউইয়র্ক এর করোনা পরিস্থিতি নিয়ে। তিনি মনে করেন আগে রাস্ট্র বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিলেও এখন সর্বোচ্চ গুররুত্ব দিচ্ছে এবং এটি নিয়ন্ত্রনে আসবে এমনটি আশা করা যায়। শুরুতে রাস্ট্র এবং নাগরিক এমনকি বাংলাদেশীরা এটিকে গুরুত্ব না দেয়ায় এমন পরিস্থিতি সৃস্টি হয়েছে । বাংলাদেশী কমিউনিটির ভুমিকার প্রশংসা করে কায়েস বলেন এখন পর্যন্ত কোন বাংলাদেশীর জানাজা ছাড়া দাফন হয়নি। বাংলাদেমী যারা মারা গেছেন,আক্রান্ত হয়েছেন,এবং কর্মহীন হয়েছেন এছাড়া যারা ব্যবসা হারিয়েছেন তাদের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে দীর্ঘ সময় লেগে যাবে বলে করেন এই সাংবাদিক নেতা।

এক মাস ১৭দিন পেরিয়ে করোনা পরিস্থিতি ভয়ংকর রুপ নিয়েছে। এখন আক্রান্ত লাখ লাখ শুধু এই খবর নয়, এপ্রিল মাস এর শেষে লক্ষপ্রানের মৃত্যুর খবর আসলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবেনা। হোয়াইটহাউস সেই বার্তা দিচ্ছে উত্তরআমেরিকার নাগরিককে। শুধু বার্তা নয় লক্ষাধিক মানুষকে কবর দেয়ার জন্য ইতিমধ্যে গণকবর শুরু হয়েছে। যুক্তরাস্ট্রে মৃত্যুর মিছিল চলছে বাংলাশেীদের,এখানে প্রবাসীদের দিন শুরু হয় মৃত্যুর সংবাদ শুনে। আজ ১৭ এপ্রিল যুক্তরাস্ট্রে আক্রান্ত রোগী ৭লাখ ৭ হাজারের উপরে,মৃত্যু ৩৬,৯২২ জন, গতশুক্রবারে এই সংখ্যা ছিল,১৮,৭২০জন। সুস্থ হয়েছেন ৫৯,১৫৮জন,গতশুক্রবারে এই সংখ্যা ছিল ২৭,২৩০জন। মৃত্যু এবং সুস্থ হওয়ার সংখ্যা বাদ দিলে এখন আমেরিকায় ৫০ রাজ্য সহ অন্যান্য বড় শহরে বিভিন্ন হাসপাতালে রোগী প্রায় ৬ লাখ ।

২৩ মার্চ আমেরিকায় আক্রান্ত ছিল ৪২হাজারের উপরে। গত ৩০ মার্চ সেটি দাড়ায় ১,লাখ ৬৪,হাজারের উপরে। গত ১০এপ্রিল সেটি দাড়ায়  ৫লাখ ২ হাজার,তিন সপ্তাহেই বেড়েছে সাড়ে ৬ লাখ। প্রথমে ছিল সপ্তাহে একলাখ বৃদ্বি,পরে সেটি দাড়ায় সপ্তাহে ২লাখ বৃদ্বিতে , এই সপ্তাহে আগের সপ্তাহের ধারাবাহিকতা রয়েছে। আক্রান্তের হার একটু কমলেও তিন সপ্তাহে আমেরিকার করোনা চিত্র ভয়ংকর রুপ নিয়েছে মৃত্যু বিবেচনায়। আগামী সপ্তাহে আকস্মিক কিছু যদি না হয় ,কোন প্রতিষেধক কিংবা আবিস্কার যদি অবনতি আটকাতে না পারে তবে লক্ষাধিক মানুষের প্রাণহানী হতে পারে আমেরিকায় এমন আশংকার কথা বার বার স্মরন করিয়ে দেয়া হচ্ছে।

বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রানহানীর কারনে লাশ পুড়িয়ে ফেলার সিদ্বান্ত নিয়েছে যুক্তরাস্ট্র। তবে লাশ পুড়ানোর খবর এখনো পাওয়া যায়নি। ইতিমধ্যে গণকবর শুরু হয়েছে।

মাত্র ৫১৭জনের মৃত্যু ছিল গতমাসের ২৩ তারিখ  ২৩ মার্চ,সপ্তাহ শেষে সেটি দাড়ায় ৩১৬৫ জনে গত ৩০ মার্চ। গত ১০এপ্রিল মৃতের সংখ্যা দাগায় ১৮,৭২০ জন। আজ ১৭এপ্রিল এই সংখ্যা ৩৬হাজার ৯২২জন। তিন সপ্তাহে মৃত্যুই বেড়েছে ৩৬হাজার এর উপরে। এসবের বিপরীতে আরোগ্য আছে প্রায় ৫৯,১৫৮জন।

২৭টি রাজ্যে নেই আরোগ্য হওয়ার সুখবর। নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্নœ সংখ্যায় সুস্থ হচ্ছেন এমন রাজ্য হচ্ছে ২৩টি। সামগ্রিক বিবেচনায় চরম নাজুক এক পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে যুক্তরাস্ট্রের করোনা পরিস্থিতি।

প্রায় দেড়মাস থেকে সৃস্ট করোনা পরিস্থিতিতে এ পর্যন্ত ১৫৯ জন এর উপরে  বাংলাদেশী মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। প্রতিদিন মারা যাওয়ার খবর আসছে।এদের মধ্যে আছেন চিকিৎসক,কমিউিনিটি নেতা,রাজনৈতিক নেতা সহ নানা শ্রেনী ও পেশার মানুষ। ২১ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে ইমিগ্রেশনের সব কর্মকান্ড।

৫০ অঙ্গরাজ্যের মধ্যে যে সব অঙ্গরাজ্যে মৃত্যু এবং আক্রান্ত রোগী বেশী সে তালিকায় রয়েছে,নিউইয়র্ক,নিউজার্সী,ওয়াশিংটন,কেলিফোর্নিয়া,মেসাজুসেট,ইলিনইস,পেনসেলভেনিয়া,ইন্ডিয়ানা,মিশিগান,ফ্লোরিডা,লুসিয়ানা,জর্জিয়া,টেক্সাস,কানেকটিকা। এছাড়া অন্যান্য অঙ্গরাজ্যগুলো আক্রান্ত এবং মৃত্যু সবই উদ্বেগ এবং আতংক সৃস্টিকারী সকল দেশ,সকল মহল,সকল ধর্ম,বর্নের মানুষের জন্য।

১৭ এপ্রিল নিউইয়র্কে আক্রান্ত ২,৩৪,০০০জন,২৩মার্চ নিউইয়র্কে আক্রান্ত রোগী ছিল ২০৮৭৫ জন,গতসপ্তাহে ৫৯৫১৩ জন। গত ১০ এপ্রিল ছিল,১,৭২ ৩৫৮এর উপরে। মৃতের সংখ্যা ৭৮৪৪ এর উপরে, ৩০ মার্চ মৃতের সংখ্যা ১৩৪২জন যা ২৩ মার্চ ছিল ১৫৭জন। দু,সপ্তাহ যাবত  নিউইয়র্ক লকডাউন ছিল,এবং সেটি ১৫ মে  পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

নিউজার্সীতে এখন আক্রান্তের সংখ্যা,৪৭,৪৩৭ এর উপরে,গতসপ্তাহে ১৩৩৮৬জন,যা ২৩মার্চ ছিল ২৮৪৪ জন। মৃতের সংখ্যা আজ১৫০৪জন,গতসপ্তাহে ছিল, ১৯৮জন,দুই সপ্তাহ আগে ছিল ২৭জন।

আজকের চিত্র আক্রান্ত ৯০৯৭জন,মৃত ৪২১জন। যা গত সপ্তাহে ছিল ৪৩৯২জন  ,মারা গেছেন ২০২জন। দুই সপ্তাহে আগে সে চিত্র ছিল আক্রান্ত ১৯৯৬ জন,মৃত্যু,৯৫ জন।

মিশিগান অঙ্গরাজ্যে এ যাবত করোনা আক্রান্ত সনাক্ত হয়েছে ২১ হাজার ৫০৪জনের উপরে,মারা গেছেন ১০৭৬জন। এক সপ্তাহ আগে এটি ছিল আক্রান্ত ৬৪৯৮জন,আর মারা গেছেন ১৮৪জন। মাত্র দুই সপ্তাহে নাজুক মিশিগান অঙ্গরাজ্যে করোনা ভাইরাস চিত্র। ২৩মার্চ ছিল মাত্র ১৫জন মারা যাওয়ার খবর। আক্রান্ত ছিল ১৩২৮জন। আক্রান্ত রোগী বেড়েছে ২০ হাজার।

 

কেলিফোর্নিয়ায় মারা গেছেন ৫০৩জন, এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৪৫ জন,এখন আক্রান্ত ১৯হাজারের উপওে,এক সপ্তা আগে ছিল আক্রান্ত রোগী ৫৮৪৬জন। যা দুই সপ্তাহ আগে ছিল মৃত্যু ৩৮জন,আক্রান্ত রোগী ১৯৪৬জন।

 

মেসাজুসেট অঙ্গরাজ্য আলোচনায় আক্রান্ত প্রায় ১৭হাজার রোগীর কারনে,যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৪৯৫৫জন রোগীর কারনে,এই অঙ্গরাজ্যে মারা গেছেন,৪৩৩জন,যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৫৬জন। মাত্র দুই সপ্তাহে পরিবর্তন অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের মত বিস্ময়কর। ২৩মার্চ রোগী ছিল ৭৭৭জন,আর মৃত্যু ছিল মাত্র ৭জন।

 

এই অঙ্গরাজ্যে এখন রোগী ১৬হাজারের উপরে,মারা গেছেন ৫২৮জন। এক সপ্তাহ আগে আক্রান্ত ছিল ৫০৫৭জন করোনা রোগীর যন্ত্রনায় কাতর, মারা গেছেন ১৯৮জন। অথচ দুই সপ্তাহ আগে ১২৮৫জন রোগী সনাক্ত হয়েছিল,মারা গিয়েছির ২৭জন।

 

পেনসেলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যে রোগী ১৬হাজারের উপওে,মারা গেছেন ৩০৯জন। এক সপ্তা আগে ৪১৫৪জন করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছে,মারা গেছেন ৫১জন। যা দুই সপ্তাহ আগের রেকর্ডে আছে আক্রান্ত৮৫১জন,মৃত্যু ৭জন।

 

ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে এখন আক্রান্ত রোগী ৬হাজারেরউপওে,মারা গেছেন ২৪৫জন। এক সপ্তাহ আগে আক্রান্ত ছিল,১৭৮৬জন,মারা গেছেন ৩৫জন। তিনগুন বৃদ্বি পেয়েছে মৃত্যু।দুই সপ্তাহ আগে যা ছিল আক্রান্ত ৩৬৫জন মৃত্যু ১২জন।

 

ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে এখন আক্রান্ত১৬হাজারের উপরে,মারা গেছেন ৩৫৪জন। এক সপ্তাহ আগে আক্রান্ত ৫৭০৪জন,২৩মার্চ যা ছিল ১১৭১জন। দুই  সপ্তাহ আগে মারা গেছেন ১৪জন,গত সপ্তাহে সেটি দাড়ায় ৭১জন।

আরও পড়ুন

ট্রাফিক সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: ট্রাফিক আইন...

সংসদ জ্ঞান চর্চার মাধ্যমে সমাজ উন্নয়নে ভূমিকা পালন করছে

কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের ১০২৭...

দুই ছাত্রলীগকর্মী হত্যার তদন্তে পিবিআই

মৌলভীবাজারে আলোচিত দুই ছাত্রলীগকর্মী খুনের...